আজ আন্তর্জাতিক এইডস দিবস। ২০১৬ সালের হিসেব অনুযায়ী সেই বৎসর সূচনার সময় পৃথিবীতে তিনকোটি সাতষট্টি লক্ষ মানুষ এইচ আই ভি রোগ নিয়ে লড়ে যাচ্ছিলেন, তারপর এইডসের ফলে দশলক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ২০১৬ সালে নতুন করে আরো তিন লক্ষ মানুষের মধ্যে এইডস রোগ ধরা পড়ে।
এইডস রোগ যেন মহামারী রূপে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। ১৯৮০ সালে এইডস রোগ ব্যাপারে জানাজানি হবার পর থেকে ২০১৭ পর্যন্ত অন্ততঃপক্ষে সাড়ে তিন কোটি মানুষ এই রোগের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। ১৯৮১ সালের ৫ জুন তারিখে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে সর্বপ্রথম এইডস রোগী চিহ্নিত হন। পাঁচজন ব্যক্তি এইডস রোগে ভুগছেন বলে চিকিৎসকগণ ঘোষণা করেন। কিন্তু এইডস নামটা এল আরো পরে। আমেরিকার সিডিসি, রোগ ব্যাধির প্রতিকার প্রতিরোধ নিয়ে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান সম্মত গবেষণা করেন, তাঁরা ১৯৮২ সালের সেপ্টেম্বরে এইডস নামটা প্রথম সচেতন ভাবে ব্যবহার করেন। ১৯৮৩ সালে রবার্ট গ্যালো ও লুক মঁতাজিঁয়ে নামে দুই চিকিৎসা বিজ্ঞানীর নেতৃত্বে দুটি পৃথক পৃথক দল নিজেদের মতো করে ব্যাপক গবেষণা করে এইডস সম্পর্কে আরো তথ্য দেন।
এইডস রোগে আক্রান্ত হলে শরীরের নিজস্ব স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ কর্মসূচি নষ্ট হয়ে পড়ে। তখন সামান্য একটু অসুখও প্রাণঘাতী হয়ে যায়।
অসুরক্ষিত যৌনসংসর্গ থেকে এইডস হবার সমধিক সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত রোগীর ব্যবহার করা ইনজেকশন সিরিঞ্জ ও খুব বিপজ্জনক। এইডস রোগে অসুস্থ মায়ের রক্তে পুষ্টি সংগ্রহ করতে গিয়ে গর্ভস্থ ভ্রূণ এই রোগ অর্জন করতে পারে। অসুস্থ ধাত্রীর স্তনদুগ্ধ পান করেও ছোট শিশু এই রোগের শিকার হতে পারে। রক্ত গ্রহণ কালে অপরীক্ষিত রক্ত নিলে এইডস হতে পারে। বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত যৌনসঙ্গী না হলে এইডসের সম্ভাবনা থাকে। কনডম ব্যবহার করলে কিছুটা হলেও এইডস ঠেকাতে পারা যায়। বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করে যৌনসঙ্গীর সার্বিক যৌন স্ট্যাটাস জানলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।