ভুল হয়।ভুলেও যায়।অবশ্য ভুলে যাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা দুইই আছে।যে যেভাবে নেয়,যে যেভাবে রাখে।ক্ষয় আর সঞ্চয়ের মাঝামাঝি।আসন্ন শীত আর থেকে যাওয়া হেমন্তের বিলাপে।বিকেল বিকেল আলগা বিষণ্নতা।ঝিম ধরে।ছাতিমের গাছটা হেলে থাকে একপাশে।থোকা ফুল তেমন নেই।বরং কাঞ্চন গাছ ফুলে ফুলে ভরা।গাঢ় বেগুনি সেই রং।উৎসবের মত।অবশ্য বহুদিন উৎসবের অনুপস্থিতি।যা কিছু মন খারাপের তা কী উৎসব ঢেকে দিতে পারে?উৎসব তো ভালবাসার।পাশাপাশি থাকার।পরস্পরকে ছুঁয়ে থাকার আনন্দে।পুকুরের জলের কাছে যেমন নিজেকে সমর্পণ করে ঝুঁকে থাকা নির্ভার সবুজ গাছ।বড় আপন,বড় আদরের।নিস্পলক চেয়ে থাকা।নিভৃতে।বোঝার চেষ্টা শুধু,শেষ বিকেলের গোধূলি আলোয় ওদের গল্পগাছা,ভাগাভাগির সংসার।
মানুষ বলে যদিও একা থাকা কঠিন,তবু এই একাকী যাপনও বড় লোভের,স্বাদু।একের পর এক শব্দ বুনে যাওয়া,কী নিপুণ সেই নকশা,মাকড়শার জালের মত মিহি ভাস্কর্যে!আকাশের রঙ যেমন পাল্টে যায় প্রতি মুহূর্তে,মেঘেদের বাসাবদল,ঠিক তেমনি ভাবেই একটু একটু করে নিজেকেই নিজে চিনতে চাওয়া।কিছুটা আড়াল থাকুক না,হয়তো রহস্য,হয়তো ঐন্দ্রজালিক,তবু নিজেরই তো!
অহরহ মৃত্যু,শোকগাথা,ব্যথার বারোমাস্যা,তবু তুমি জেগে আছো অনন্ত।তোমার তীব্র মনখারাপ ঢেকে রাখবে মনের মাধুর্যে,বিদ্যুৎ কটাক্ষে,,এই যেন অভিপ্রেত ছিল!কী হবে জানিয়ে যে ভিড়ের প্রয়োজনীয়তা হারিয়ে গেছে বহুদিন।কষ্ঠীপাথরে সম্পর্ক যাচাই করার সময়ও নেই আর!সে বন্ধুতা বা চিরকালীন ঈর্ষা যাই হোক না কেন!প্রেম,সেও কী অমোঘ?সব কিছুরই বড্ড বেশি দাবি।অধিকারবোধের পাপ পুণ্য, প্রতিধ্বনি।সীমাহীন আকাশের মুক্তি সেখানে হাস্যকর শুধু নয়,অলীক!
সুযোগ পেলে সেই বাচ্ছাটির কাছে ফিরে যাও,যে রঙ চেনে,চিনতে চেয়ে আঁকিবুঁকি কাটে রোজ।নীল আর হলুদ মিশিয়ে দেখে,প্রকৃতি কতটা সবুজ।ফিরে যাও সেই কিশোর বা কিশোরীটির কাছে,যার চোখে সমুদ্রফেনা,যে আগামী দিনের ভালোবাসার কল্পনা করে অহরহ।সেখানে এখনো মেশেনি লোনা জলের বিষ,দুর্বিষহ অভিশাপ,বোঝা টেনে বেড়ানোর বিড়ম্বনা!
হেমন্তের আশ্চর্য চিঠি দিয়ে বেড়ায় যে লোক,সেও হয়ত
“কবি ও কাঙাল” দুইই!প্রত্যাশিত শিরোনাম আর অপ্রত্যাশিত ভালোবাসার অন্তরালে ডুবে যেতে যেতে এভাবেই থেকে যায় প্রেম ও পরাজয়ের আশ্চর্য যুগলবন্দী!