অণুগল্পে উজ্জ্বল সামন্ত

ভৌতিক 

পূর্ণিমার রাত্রি । গভীর রাত্রে অমল স্টেশন থেকে বেরিয়ে গ্রামে মামার বাড়ি যাচ্ছে । গ্রাম্য রাস্তায় দেখা নেই কোন রিক্সা বা গরুর গাড়ি র । অগত্যা হাঁটতে হাঁটতে গায়ের মেঠো পথ ধরতে বাধ্য হয়, যেভাবেই হোক পৌঁছাতে হবে । গাঁয়ের মেঠো আলপথে একটু অসুবিধা হয় চলতে। গাঁয়ের মাঝ মাঠে আলো, দূর থেকে দেখা যাচ্ছে । খানিকটা পথ পেরোতেই ঘন জঙ্গল। হঠাৎ অমল লক্ষ্য করে একটা পোড়া পোড়া গন্ধ। লক্ষ্য করে হাত কুড়ি দূরে কে যেন দাঁড়িয়ে, পরনে রয়েছে সাদা শাড়ির মত কিছু। কে জিজ্ঞেস করতেই কোন উত্তর আসে না। অমল আবার চলতে শুরু করে । মাঝে মাঝে পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখে ছবিটা অস্পষ্ট হয়ে যায়। হঠাৎ যেন একটা দমকা হাওয়ায় গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে । এবার একটা ধপাস করে শব্দ ওঠে । এবার যেন অমলের গলা একটু শুকিয়ে আসে, বুকটা ধরফর করে, প্রাণপণে এক প্রকার ছুটে পালাবার চেষ্টা করে। কিছু পরে আবার লক্ষ্য করে আবার কি যেন একটা সাদা জিনিস উড়ছে। নিজেকে আর সামলাতে পারে না অজ্ঞান হওয়ার অবস্থা। ঠিক সেই সময় একটি লণ্ঠন র আলো নিয়ে সাড়া দেয় অমল? গলার স্বরটা যেন চেনা। অমল উত্তর দেয় হ্যাঁ। আরো কাছে আসতেই দেখে তার দাদু । অমল যেন প্রাণ ফিরে পায়। আসলে প্রথম আসছে অমল। তাই দাদু একটু এগিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নাতি কে আনার জন্য । অমল দাদুকে ঘটনাটা বলে। দাদু কে হো হো করে হাসতে দেখে অমল একটু রেগে যায়। দাদু বলে যে আলোটা দেখেছে সেটা গ্রামের শ্মশানের আর ওই পোড়া গন্ধটা শ্মশানে দগ্ধ চিতার। কিন্তু সাদা শাড়ি পড়ে যে পিছনে ছিল। তখন দাদু বলে পিছনে কেউ ছিল না। কোন গাছের ডালে হয়তো কোন সাদা শাড়ী লেগে হাওয়ায় দুলছিল। আর ধপাস শব্দ টা , পথের ধারে তাল গাছের তাল পড়েছে, বর্ষাকাল, তাল পেকে পরে এই সময়। অমল একটু সাদাসিধে ভীতু প্রকৃতির ছিল। দাদুর কাছে সব কথা শুনে এবার একটু মনে মনে হাসতে থাকে …
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!