সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ২৯)

পঞ্চম অধ্যায়
প্রথম পর্ব
নারায়ন ঘোষাল, এখন আর অন্য কোথাও যান না; পেট্রোল- পাম্পের সংলগ্ন জায়গায় যে মোটেল তৈরি করেছেন, তারই অফিসে বসেন। কোলকাতায় মটর- টায়ারের যে দোকান রয়েছে, সেটা, ছোট ভাই বদ্যিনাথের নামেই আছে, সেই দেখাশোনা করে; ছেলে, নরেনও, কাকার কাছে থেকে ব্যবসার ট্রেনিং নিচ্ছে। ডাঃ ভাই, নিজের চেম্বার নিয়ে ব্যস্ত; নিজের নতুন বাড়িতে থাকে। ইঞ্জিনিয়ার ভাই তো হিমাচলে। মেজোভাই, মাধব, পাশের কারখানায়, ঠিকেদারির সংগে স্কুল- ব্যবসায় মন দিয়েছে; দিলে কী হবে, পূর্ব- পুরুষদের বার- মুখো
ভাবটাও ওর মধ্যে বেশ চাগাড় দিয়ে উঠেছে; বার- মুখো পুরুষকে
ঘর- মুখো করা, শিবের বাবারও
অসাধ্য কাজ; আজকাল রাতেও
অনেক সময় বাড়ি ফেরে না, দিদি- মনিদের কোয়ার্টারে রাত কাটায়। বাড়িতে, বৌমা ও ভাইঝি মুখ লুকিয়ে থাকে। ভাইঝি, রুমা, স্থানীয় গার্লস স্কুলের শ্রেণীর ছাত্রী; স্কুলের বন্ধুদের কাছে নিজের জন্মদাতার কেচ্ছা শুনতে শুনতে মরমে আছে। নারায়ন ঘোষাল বেশ চিন্তিত; সময়ের তালে নিজেকে না মানিয়ে চলতে পারার যন্ত্রনায় ছটফট করেন। বড় মেয়েটি, মারা যাবার পরই যেন সংসার থেকে লক্ষ্মীর
বিদায় আসন্ন হয়ে উঠেছে।
ছোটো -ভাই’র উপরের ভাই, ধুরন্ধরও বিয়ে হয়ে যাবার পর, পাম্পের পাশেই তৈরি করা দোতলা বাড়িতে তার সংসার নিয়ে উঠে এসেছে। এই ভাইটা, ব্যবসা ভালো বোঝে; ওর সম্বন্ধে তিনি নিশ্চিন্ত।
ছোটো-ভাই বদ্যিনাথ, দেশের বাড়িতে দিন- পনেরো অন্তর আসে; একটা মটর- গাড়ি কিনেছে। মা, এবার ওর বিয়ে দিয়ে সংসারী করার জন্য তাগাদা দিচ্ছেন। ছোটো’র বিয়ে হলে, ওকেও আলাদা সংসার করে দেবে; সবাই আলাদা থাকলে সম্পর্ক ভালো থাকবে। এই বাড়িতে, কেবল তাঁর সংসার ও মেজো-ভাই’র সংসার থাকবে। মা, মেজো-ভাই’র স্ত্রী ও ভাইঝিকে আগলে রেখেছেন; ওদের মানসিক অবস্থাও অন্যরকম, তাই মা- ই ওদের আলাদা থাকতে দেবেন না, কারণ—–।
পরিবহন ব্যবসায়, তাঁর যে গাড়ি গুলো ছিল, সেগুলো তিনি স্থানীয়
বিভিন্ন কারখানায় লিজ দিয়েছেন;ট্যুরিস্ট বাসগুলো বিক্রি করেই এই মোটেল ব্যবসা করেছেন; তাঁর অধিকাংশ সময়ই
এই মোটেলের অফিসে কাটে। মাঝে, মাঝেই তিনি ধুরন্ধরের বাড়িতে দুপুর- বেলা খেয়ে নেন; দুপুরে খাওয়ার জন্য আর বাড়ি যান না। বয়সের ভারে ক্লান্তি আসে; সব ভাই- ই, দাঁড়িয়ে গেছে, সবাই অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত। তিনি, ফেলে আসা জীবনের স্মৃতি- রোমন্থনে সময় কাটান। যৌবন- প্রৌঢ়ত্বের সঙ্গী- সাথীরাও সবাই
অথর্ব, কারও সাথে আর চাক্ষুষ দেখা-সাক্ষাৎ হয় না, কেবল ফোনেই একটু- আধটু কথা হয়, এখন তো কেবল দিনগত পাপক্ষয়।
ক্রমশঃ