সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ১৫)

পঞ্চম অধ্যায়

চতুর্থ পর্ব

বায়োস্কোপওয়ালা বলতে শুরু করেছে;ছেলেরা উত্তেজনায় বাক্সের ফোকরে মুখ- চোখ চেপে আছে; বক্তা, হ্যান্ডেল ঘোরাচ্ছে, আর মুখে বলছে, “লাহোর ষ্টশনের ছবি তোমরা দেখতে পাচ্ছো;দেখ, লালাজি, ষ্টশনের অনতিদূরে, জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিচ্ছেন; প্রায় কুড়ি- তিরিশ হাজার লোক আগ্রহে বক্তৃতা শুনছে, মাঝে, মাঝে শ্লোগান উঠছে, ‘বন্দেমাতরম’। জনতা দৃঢ়সংবদ্ধ। ধীরে, ধীরে ‘ সাইমন কমিশন’- কে
নিয়ে রেলগাড়ির সেলুন, লাহোর ষ্টশনে ঢুকছে; জনতার চীৎকার,
‘সাইমন দূর হটো; দূর হটো; ‘go Back’, ‘go back’ শোনা যাচ্ছে । কালো পতাকা হাতে নিয়ে, ষ্টেশনের কাছেই, শহরের মেন রাস্তায় জনতা,’সাইমন- কমশনকে’
স্বাগত জানাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। “
“পুলিশের সুপার মিঃ স্কট, লাঠি- চার্জ করে আন্দোলনকারীদের হটিয়ে দেবার  নির্দেশ দেওয়া মাত্র- ই, পুলিশের অতিরিক্ত সুপার মিঃ
সুন্দর’র (Saunder) নেতৃত্বে পুলিশ নৃশংসভাবে জনতাকে প্রহার করতে থাকে। লালাজিকে, আন্দোলনকারীরা বাঁচানোর চেষ্টা করলেও, পুলিশ, তাঁকেই লক্ষ্য করে অবিরাম লাঠির আঘাত করে চলে; জনতা ও অন্যান্য নেতারা নিঃশব্দে মার খেতে খেতে দেশ- বরেণ্য নেতার এ অপমান দেখলো, অহিংস- আন্দোলনের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে জাতীয় নেতার অপমান হজম করতে বাধ্য হল। অপমানিত লালাজি, সেদিন আহত অবস্থায়ও
লাহোরের মরী গেটের বক্তৃতায় বলছেন, ‘every blow hurled on me to- day is a nail in the coffin of British Empire’।সত্যই
তাই, তাঁর ভবিষ্যৎ- বাণী সত্যে পরিণত হয়েছে। ১৭ই নভেম্বর, ঐ আঘাত ও অপমান সহ্য করতে না পেরে, লাহোরেই তাঁর দেহাবসান ঘটলো। সারা দেশ অপমানে ফুঁশচে; প্রয়াত
নেতা দেশবন্ধুর বিধবা পত্নী, বাসন্তী দেবী, কোলকাতায় বলছেন, ‘আমাদের দেশের যুব- সম্প্রদায় কি হাতে চুড়ি পরে বসে আছে! জাতীয় অপমানের জবাব দেবার কি কেউ নেই? ‘ তাঁর এই বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক আন্দোলন, এক অন্য মাত্রা পেল। অনশন, যুগান্তর প্রভৃতি গোপন দলের কাজে তৎপরতা বৃদ্ধি পেল; যুব- সম্প্রদায়ের কাছে গান্ধীজির নেতৃত্ব অপাংক্তেয় হয়ে গেল। ভগৎ সিং’র কথায়, ‘গান্ধীর নীতি “Utopian”;উনি কোনো দিন- ই স্বাধীনতা চাননি, তাঁর নীতি ছিল , ‘ it is in favour of partnership’।”
   ” ৯/১০ ডিসেম্বর, ১৯২৮ সালের
HRSA’ মিটিংয়ে, আজাদের আহ্বানে, লালাজির অপমানের প্রতিশোধ নেবার সিদ্ধান্ত হয়। মিঃ
স্কটকে হত্যা করাই হবে, এ অপমানের উপযুক্ত জবাব। “
“17ই ডিসেম্বর, 1928 , এসে গেল জবাব দেবার দিন। পণ্ডিতজির কোমরে মাউজার, রাজগুরুর হাতে দেওয়া হয়েছে রিভলবার, আর ভগৎ সিং’র হাতে  অটোমেটিক পিস্তল। লাহোরের
মোজঙ্গ হাউস থেকে তিনটে সাইকেল নেওয়া হয়েছে; একটা
জয়গোপালের
 নামে, অন্য দুটো, আজাদ ও ভগৎ সিং’র নামে। এবার ওরা এসে দু’টো সাইকেল, ডিএভি কলেজের
ল্যাট্রিনের পাশে রেখে, একটা নিয়ে জয়গোপাল, পুলিশ অফিসের দিকে রওনা হচ্ছে।
পুলিশ- অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে
সে সিগন্যাল দেবে যে স্কট, অফিস থেকে বেরোল; অদূরে, রাস্তার উপর রাজগুরু আছে দাঁড়িয়ে, ঐ নির্দেশের অপেক্ষায়। ভগৎ ও আজাদ, কলেজ কম্পাউন্ডে  রয়েছে প্রস্তুত হয়ে, যদি রাজগুরু বিফল হয় তো, ভগৎ, রাজগুরুর সাইকেল নিয়ে ধাওয়া করে, অপারেশন চালাবে; আর অপারেশনের পর ওদের কভার করার দায়িত্বে আছে আজাদ। “
চলবে 
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।