সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ৭)

সাদা মিহি বালি

দু’জনেরই লোকবল কম নয়–
প্রায় সবই উদ্বাস্তু-কলোনীর স্কুল- ছুট ছেলের দল। কারখানা থেকে দামী, দামী মাল সরানোই দু’জনের গোপন ব্যবসার আওতায় পড়ে; আর এই অন্ধকার –কাজের স্বার্থজনিত কারণে, দু’জনের ছেলের দল, হাতাহাতি ও বোমাবাজিতে জড়িয়ে পড়ে। একই রাজনৈতিক দলভুক্ত মাধব ও রাঘবেন্দ্রবাবু, তাই পুলিশি হস্তক্ষেপে, দু’দল শেষে স্থিতাবস্থায় এসে পৌছোয়।
নিজেদের মধ্যে ঝগড়া- বিবাদ থাকলেও, তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে সবাই একজোট।

রাঘবেন্দ্রবাবুই, মাধবের পরের ভাইকে, শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে মন্ত্রীকে ধরে প্রায় বিনা খরচে পড়ার ব্যবস্থা করেছেন; তার পরেরটাকেও ক্যালকাটা মেডিক্যাল কলেজে পড়বার সুপারিশটুকুও মন্ত্রীর কাছ থেকে এনে দিয়েছেন; অবশ্য এ সবই,ঐ নারায়ণবাবুর অনুরোধেই করেছেন। তিনি, নারায়ণের উদ্যোগকে প্রশংসার চোখে দেখেন;একটাই ক্ষোভ, নারায়ণ বাবু, কখনোই স্থানীয় ছেলেদের
নিজের উদ্যোগে সামিল করেন না। তার অনুরোধেই, মন্ত্রীকে ধরে
নারায়ণের ভাই’র নামে একটা পেট্রোল পাম্পের সুপারিশ এনে দিয়েছেন।

রাঘবেন্দ্র ঘোষালের মত স্বচ্ছ-
দৃষ্টি সম্পন্ন, এ গোষ্ঠীর কেউই নয়।
তিনি , নিজেদের পৈতৃক ব্যবসা বাড়িয়েছেন, নতুন, নতুন ক্ষেত্রে ব্যবসার বিস্তার ঘটিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে নারায়ণ গোষ্ঠীর ব্যবসায়িক
চরিত্রের যোজন কয়েক ফারাক। লাভ- লোকসানের বাইরেও সামাজিক উন্নতি, আঞ্চলিক যুব-
সম্প্রদায়ের অন্নসংস্থানের সাধ্যমত চেষ্টা চালানোও, তাঁর
কাজের অঙ্গ হিসেবে তিনি মনে করেন। তাঁর ব্যবসা স্বচ্ছ, পরিষ্কার, একেবারে খোলা- খুলি। নারায়ণের
ব্যবসার মধ্যে রয়েছে গোপনীয়তা, অন্ধকার জগতের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার জন্যই হয়তো বা সব কিছু চাপা, সব কিছুর মধ্যে অস্পষ্টতা,
সব কিছু ঢেকে রাখার চলে আপ্রাণ চেষ্টা। স্থানীয় কোন লোককে নারায়ণবাবু নিয়োগ করতে গররাজী; অন্যদিকে, রাঘবেন্দ্রবাবু, কোন যুবককে, সময়ের অপব্যবহার করতে দেখলে, জোর করে তার গার্জেনকে বলে নিজের ( ্ব্য্ব্য্ব্য্ব্য্ব্য্ব্য্য্ব্য্ব্য্ব্য্ব্য্ব্য) বসাবসবসা) ব্যবসার কাজে নিয়োজিত করে থাকেন; কথাবার্তা পরিষ্কার, “দেখ, তোমার চাহিদামতো, আমি হয়তো টাকা দিতে পারবো না, এও যেমন সত্য, তেমনি কাজ শিখে, অন্য কোথাও বেশি টাকা পাওয়ার জন্য চলে গেলে, আমিই খুব খুশি হব; তোমায় প্রাণভরে আশীর্বাদ করবো;কাজে ফাঁকি বা সময়ের অপব্যবহার, আমার কাছে অসহ্য।”

তিনি স্পষ্ট বলেন, “আমার পূর্ব- পুরুষরা তো অনেক, অনেক অন্যায় করে সম্পত্তি করেছে; আমি প্রায়শ্চিত্তের পথে হাঁটছি; হাঁটলে কী হবে, প্রতি পদে পাঁক জমছে;চারদিকে যে নোংরা জলা, যতই গা বাঁচিয়ে চলা হোক না কেন, পাঁকের কাদা তো লাগছে;
পরিষ্কার ভাবে, মসৃন ভাবে দেশের মানুষ চলতে দেবে না, ঠিক নামিয়ে কাদায় ফেলবে; কাঁকড়ার
জাত কিনা!

চলবে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।