ক্যাফে ধারাবাহিক উপন্যাসে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ৭)

তৃতীয় অধ্যায়
তৃতীয় পর্ব—

এবার বায়োস্কোপওয়ালা, তার বাক্সের হ্যান্ডেল ঘোরাতে শুরু করলো; ভিতরে রিল চলছে, বাইরে ছেলেরা সাগ্রহে চোখ রেখেছে খোপে; সঙ্গতি রেখে বায়োস্কোপওয়ালা বলে চলেছে, “ভগতের বিয়ের কথাবার্তা চলছে। দাদিজী, নাতিকে সংসারী করতে চায়; নির্বাসন, জেলের হাত থেকে মুক্তি পেতে চায় , দাদিজী। ছেলেদের পথে নাতি যাতে না যায়, তাই এত তড়িঘড়ি। পিতা, কিষেণ সিং’র অবস্থা সসেমির; একদিকে মা’র আকুলতা, অন্যদিকে পুত্রের মাধ্যমে নিজের উচ্চাকাঙ্খা পূরণ।
যাই হোক, মা’র কথায় সায় দেওয়ায়, কাছেরই গ্রাম, মালাওয়ালার এক বর্ধিষ্ণু পরিবার, প্রথামত মেয়ের বিয়ের জন্য এসেছে ছেলের বাড়ি। ভগৎ সিং তো খোশ মেজাজে আছে। সবাই খুশি। প্রথামত, ভগৎ সিং টাঙ্গা চালিয়ে মেয়ে-পক্ষকে, তাদের বাড়ি পৌঁছে দিয়ে এসেছে। সবাই
ভাবছে, ‘ মৌনং সম্মতি লক্ষনম্’।
বিয়ে নিয়ে চলছে বাক- চাতুরী। ভগৎ, বাড়িতে মাকে বলছে, ‘ঐ বড় লোকের মেয়ে কি আমাদের মত সাধারণ ঘরের যোগ্য হবে, মানিয়ে নিতে পারবে; আর তাছাড়া, ওরা কি কোতোয়াল জামাই’র সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে রাজি হবে’ ; ‘ও বেবি! মেয়ে তো মোটা, তোমার কিচেনে কী করে সাহায্য করবে; আরে বেবি! ওরা তো হাতি দেবে, বাঁধা হবে কোথায়, আর হাতির খোরাক কীভাবে জোগান দেওয়া হবে, এভাবেই কথার ম্যারপ্যাঁচ চললেও, বিয়ের প্রস্তুতি রয়েছে তুঙ্গে। ”

“নাঃ! এবার কঠোর পদক্ষেপ।
এদিকে, তার মাষ্টার মশাই, ভগতের সহায়তায় গড়েছেন, ‘হিন্দুস্থান রিপাবলিকান এসোসিয়েশন’;যুবকদের মধ্যে বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে দেবার জন্যই এই বিপ্লবী দল। নিজে
আন্দামান ফেরৎ, বিবাহ করে ভুল করেছিলেন। ভগতের মুখে বাড়ির প্রস্তুতি জানতে পেরে, তিনি বুঝলেন, ভগৎ অনিচ্ছুক; তাই , তাকে বাড়ি ছাড়ার পরামর্শ দিয়ে, কানপুরের পরিচিত যোগেশচন্দ্র
চ্যাটার্জীকে লেখা একটা চিঠি ভগতের হাতে দিলেন। ভগৎ বাড়ি থেকে হ’ল নিরুদ্দেশ, তার আস্তানা এবার কানপুর। ”

চলবে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।