সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ২১)

সাদা মিহি বালি
তৃতীয় অধ্যায় – চতুর্থ পর্ব
ছোট ভাই অমরেন্দ্রের বিয়ে।
বেশ ধূম- ধাম করে নতুন বাড়িতেই আয়োজন করা হচ্ছে। রমেন্দ্রের স্ত্রী, ইন্দর ও রমনী মেয়ে পছন্দ করেছে। মেয়েটি সুশ্রী, পড়াশোনায় খুবই ভালো, আরও পড়তে চায়, কিন্তু, সান্যাল- বংশের মেয়েদের উচ্চ- শিক্ষা করতে দেওয়া হয় না;মেয়েরা ছেলেদের সঙ্গে কলেজে পড়বে, এটা ওদের বংশের রক্ষনশীলতা ও জাত্যভিমানে বাধে। তা ছাড়া, ব্যবসায়ী পরিবার, নারী -শিক্ষা সম্বন্ধে ততটা অনুরাগী নয়। রাঘবেন্দ্রবাবুর, এটা একেবারেই না-পসন্দ; তবু বাড়ির মেয়েরা ও অমর মেয়ে পছন্দ করেছে, তখন রাঘবেন্দ্রবাবুও সম্মতি দিলেন।
শিব- শংকর, কিন্তু অমরের ভাবী স্ত্রী, মনোরমা ও অমরের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ফারাক উল্লেখ করে সবাইকে আর একবার ফাইনাল সিদ্ধান্তে আসবার আগে ভাবতে বলেছে। তার বক্তব্য, “মনোরমা,মেয়ে হিসেবে খুবই ভালো, বুদ্ধিমতী, কিন্তু অমরের মনোভাবের একেবারে বিপরীত; মনোরমার ভাবাবেগকে জোর করে দমিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসানো হচ্ছে। মেয়েটি পড়াশোনা করতে চায়, কিন্তু ওর বাবা- মা’র চিন্তা ধারা অন্যরকম। এটা কিন্তু, ভাবার বিষয়। ছেলে- মেয়ের মনোভাবের উপরই নির্ভর করে বিবাহোত্তরের রসায়ন। আমি ব্যাচেলর, অতটা বুঝি না, বৌদি, দাদা, তোমরা আর একটু ভাবো। ”
মেয়ে- পক্ষের জোরাজুরিতে ও অমরের সম্মতি থাকায়, বিয়ের আয়োজন জোর কদমে শুরু হয়েছে।
সব ভাই- ই, ছোট’র বিয়ে উপলক্ষে নতুন বাড়িতে চলে এসেছে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে নেমতন্নের চিঠি বিলি চলছে; ঘোষাল- বাড়ির নিমন্ত্রিত অতিথি তো কম নয়! আবার সরকারি আমলা- গামলা ও মন্ত্রী মহোদয়রাও আছেন। ওদের নিমন্ত্রণের চিঠিগুলো, রাঘবেন্দ্রবাবু নিজের দায়িত্বে রেখেছেন। অন্যান্য আত্মীয়- স্বজন ও শহরবাসীদের নিমন্ত্রণের
দায়িত্ব দু’ভাই ভাগ করে নিয়েছে। অফিসের লোকজনকে কাজের দায়িত্ব সব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। নিমন্ত্রিতের সংখ্যা প্রায় হাজার- দশের মত, তাই মাস দেড়েক আগে থেকেই উদ্যোগ শুরু হয়ে গেছে। মাঠের একদিকে হবে খাবারের প্যান্ডেল, প্রায় দু’হাজার মত আসনের ব্যবস্থা থাকবে; সন্ধ্যা সাড়ে- ছটা থেকেই খাওয়া- দাওয়া শুরু হয়ে যাবে। অন্যদিকে, প্যান্ডেলের সামনে, গঙ্গার দিকে আপ্যায়নের জন্য সু- ব্যবস্থা ও বিনোদনের জন্য থাকবে ষ্টেজ ও অতিথিদের বসবার জন্য থাকবে সারি সারি চেয়ার; তাঁদের জন্য থাকবে চা, কফি ও কোকো-কলা সরবরাহের সু- বন্দোবস্ত। খোদ মুখ্যমন্ত্রী সহ জেলার মন্ত্রী মহোদয়ও উপস্থিত থাকবেন বলে কথা দিয়েছেন। অবশ্য ঐ সময়কালে, মন্ত্রী মহোদয়দের, বর্তমান কালের মন্ত্রী- আমলার মত সিকিউরিটির দরকার হ’ত না। জন- প্রতি নিধি যদি সত্যিই হয়, তবে তার সিকিউরিটি তো জনগণ- ই , কেবলমাত্র লোকজনের ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য যেটুকু, সেটাই পর্যাপ্ত বলে তখনকার দিনের সমাজ- কর্মীরা মনে করতেন।
ভাই’র বিয়ে উপলক্ষে এলাহি কাণ্ড! বংশের ঐতিহ্যকে সবার সামনে তুলে ধরতেই এ ব্যবস্থা। শিবানীর জন্য যে মুখ পুড়েছে,
যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, তা পূরণ করে আভিজাত্যের বহিঃপ্রকাশের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
চলবে