গ এ গদ্যে সোমা চট্টোপাধ্যায় রূপম

সার্টিফিকেট

আনেক দিনের পুরোনো চাঁদটা আজকে এসেছে, ছড়িয়ে দিয়েছে আকন্ঠ মুগ্ধতা আমার গোটা বিছানাময়। বহুদিনের সখ্যতা ওর সাথে- কত অসময়ের ডাকবাক্স ভরে দিয়েছে দুহাতে, কখনও দু হাতে বুক চেপে বলেছে তারা আছে।এখন বড় ব্যস্ত হয়েছে শহর, চোড়াবালি ছিটিয়ে রেখেছে আকাশে – এক মুঠো… দু মুঠো… আরও একটু, আরও…
-এখন কি তবে চাঁদ তোমায় পর করেছে সাঁই?
– চাইলেই কি আর পর হওয়া যায়! আপন হতে সময়ের কড়িকাঠে বিক্রি করতে হয় মত বিনিময়। কিন্তু পর হতে!!!
– কি যে বলো তুমি, মনে হয় ডুবে মরি ও কথার বাঁধুনি তে।
– তা বললে হয়, এভাবেই তো এগোতে হয় দুটো একটা বেড়া ডিঙিয়ে…
চাঁদের গল্পটা বলেই ফেলি এইবেলা- পূর্ণিমা বড় ভালোবেসেছিলো সাদাটে আবহাওয়া। যেন পৃথিবীর বুকে নেমে এসেছে জরা, ক্লান্তি প্রায় চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছে প্রত্যেকটা উপত্যকা আর অপেক্ষা করছে তার। কার? “ডাইনির রক্ষিত পুরুষের” ! রূপনামা জুড়ে রূপালি আভা চুঁইয়ে পড়ছে ঘরে রাখা পটচিত্র বরাবর। এ তো বরাবরের নিয়ম, কিছুটা সিগন্যাল গোছের কিছুও বলতে পারো।এবার বেড়িয়ে পরার পালা…
কয়েকটা মাটির পুতুলে রং করে পসরা সাজিয়েছে পূর্ণিমা। চন্দ্রনাথ ভৈরব আবার বাসি জিনিস পছন্দ করেন না তাই টাটকা সতেজ রক্তে সেজেছে ও। ম্লান হওয়া চন্দন রঙের জবার মালা দিয়েছে খোঁপায় আর রক্তকরবী গেঁথেছে গলায়। এ বেস ভৈরবের পছন্দ। কালচে দাঁতের ফাঁক থেকে বলে “তুমি তো মেঘনামার রানী”… তবে ইরানী উত্তরীয়টা আজ খুলে রেখেছে চাঁদ।কেমন যেন গাঢ় হলুদ হয়ে আসছে আকাশ টা। না এভাবে আর নয়, অনেক তো হলো খেলা। খেলা – খেলতে খেলতে শেষ হয়ে আসে রাত ; তুমি সার্টিফায়েড নারী। যদি বলো কেন? বলবো – তুমি রাতকে ছোটো করেছো, রন্ধ্রে রন্ধ্রে মাখিয়ে দিয়েছো আপন পরের নিকেশ করা নালা, তুমি নদী হয়েছো আর আমাকে দিয়েছো পুরুষত্বের বিশ্বাস।
তুমি নারী হয়েছো প্রকৃতি আর আমি হয়েছি মায়ামোহের রক্ষিত পুরুষ।
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!