ক্যাফে ধারাবাহিক উপন্যাসে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ৪)

দ্বিতীয় অধ্যায়
দ্বিতীয় পর্ব–

কাহিনীকারের এবার শুরু করার পালা; বলে চলেছে, ” পিতা সর্দার কিষেন সিংজি, বাহ্যিকভাবে
অহিংসা-বাদী হলেও, গাদ্দার পার্টির সদস্যদের বহু সময় বিপদ থেকে বাঁচিয়েছেন: রাসবিহারী বোস থেকে আরম্ভ করে ( দিল্লি- বোম্ব কেস) বাবা গুরদিৎ সিং( কোমাগাতামারু খ্যাত) ও বহু গাদ্দার আন্দোলনকারী(1914-15), তাঁর বাড়িতে আত্মগোপনকরে থেকেছেন। তাঁর ছিল অদ্ভুত রকমের সিক্স-সেন্স।
নিজের চাষাড়ে, গাঁইয়া চেহারা দিয়ে বহু ঝানু গোয়েন্দাকে বোকা বানিয়েছেন। ‘ বন্দীজীবন ‘ বই’র লেখক শচীন্দ্রনাথ সান্যাল মশাই(HRPA’ র অন্যতম একজন প্রতিষ্ঠাতা) এসেছেন সর্দারের বাড়িতে, সঙ্গে রয়েছে একটি ছেলে, ওনার খুবই বিশ্বস্ত। কিষেন জি, ওর উপস্থিতিতে কোন রকম
রাজনৈতিক কথা-বার্তা বলতে অস্বীকার করলেন; তাঁর উপরও
তো পুলিশের কড়া নজর রয়েছে।
শচীন্দ্রনাথবাবু একটু অসন্তুষ্ট হলেন। পরে, তাঁর সাথে দেখা হলে, সর্দার বলেন, ‘ ছেলেটি মোটেই বিশ্বাসযোগ্য নয়।’ ঠিক তাই, ঐ ছেলেটি, বিভূতিই, বেনারস- ষড়যন্ত্র মামলায় শচীনন্দ্রবাবুর বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হয়।কিষেন সিংজি,
সব সময় আইনের বেড়াজালে থেকে গোপনে বিদ্রোহী কাজ-কর্ম
চালাতেন। সে যুগে, ঐ গাদ্দার আন্দোলন চালাতে ১০০০ টাকা ডোনেশন দেন, কম কথা নয়!

সর্দার কিষেন সিংজি, বীমা- ব্যবসায়ে সফল হলে, লাহোর শহরের প্রান্তে ‘ খাবাসিরান'(Khawsiran) গ্রামে এক লপ্তে প্রচুর জমি কেনেন। 1920 থেকে’47 সাল পর্যন্ত, এখানেই( ্ই্্ই্ই্্ই) বসবাস করেছেন;এটাই হয় ভগৎ সিং’র কাজ-কর্মের অফিসিয়াল তথ্য- নিবাস।

ভগতের মা’র নাম ইন্দর কাউর( ডাক নাম, ইন্দো) হলেও,
শ্বশুর-শাশুড়ি, আর্যসমাজের লোক বলে, তাঁর নাম রাখেন বিদ্যাপতি; বড় অদ্ভুত, তিনি তখন
অক্ষর জ্ঞ্যান-হীন। বাড়িতে টিউটর রেখে হিন্দি শিখলেন, গুরুদ্বারে শিখলেন পাঞ্জাবি। নতুন আবাসে রয়েছে, চাষ ও ডেয়ারি-ফার্ম; তাই
পরবর্তীকালে দেখা যায়, ছেলে-মেয়েদের খাবারে ঘি দেবার তাঁর বিশেষ প্রবণতা।

বায়োস্কোপওয়ালা, হ্যান্ডেল ঘোরাতে শুরু করেছে, ছেলেরাও
বাক্সের খোপে রেখেছে চোখ; শুরু হয়েছে ভিতরে রিল ঘোরা, বাইরে বায়োস্কোপওয়ালাও ছবির সঙ্গে সংগতি রেখে বলে চলেছে—-
” ভগৎ সিং, গ্রামের পাঠশালা থেকে চলেছে লাহোরের নাম করা সরকারি ‘ডি এ ভি হাই স্কুলে;না, খালসা স্কুল নয়।”

” আর্য- সমাজের লোক হলেও, তাদের পরিবার রয়েছে গোঁড়ামি-শূন্য, আর এই আদর্শ থেকেই বালক ভগতের মনে জাগে সমাজের ভেদা-ভেদের প্রতি তীব্র
প্রতিবাদ স্পৃহা। গুরুদ্বার সংস্কার
আন্দোলনের প্রতি রয়েছে তার সমর্থন; অমৃতসরের কাছে, ‘গুরু কা বাগ’- এর উপর সরকারি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে, বাবা খানের নেতৃত্বে অহিংস- পদ্ধতিতে আন্দোলনরত
লোকেরা পুলিশের লাঠি-চার্জ ও পুলিশের ঘোড়ার খুরের আঘাতে জর্জরিত হলেও, হিংসার পথ না নেওয়ায়, মহাত্মা গান্ধীজি,সবাইকে সাধুবাদ জানিয়েছেন; এ সংবাদ শুনে ভগৎ কেমন মনমরা। দেশে চলছে, অসহযোগ আন্দোলন, ছাত্র- শিক্ষক, সবাই একটা ঘোরে, মার খেয়ে খেয়ে, মার খাবার সহ্য শক্তি বাড়িয়ে চলেছে; কিন্তু, যিনি, মার খাবার জন্য প্ররোচিত করছেন, তিনি বা তাঁর বিশেষ আত্মীয় কেউ মার খেয়ে’নুলা’ বনেছেন কি না, তা বিশ্বস্ত সূত্র থেকেও খবর পাওয়া যায়নি।”

চলবে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।