ক্যাফে ধারাবাহিক উপন্যাসে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ৬)

দ্বিতীয় অধ্যায়
দ্বিতীয় পর্ব–
কাহিনীকারের এবার শুরু করার পালা; বলে চলেছে, ” পিতা সর্দার কিষেন সিংজি, বাহ্যিকভাবে
অহিংসা-বাদী হলেও, গাদ্দার পার্টির সদস্যদের বহু সময় বিপদ থেকে বাঁচিয়েছেন: রাসবিহারী বোস থেকে আরম্ভ করে ( দিল্লি- বোম্ব কেস) বাবা গুরদিৎ সিং( কোমাগাতামারু খ্যাত) ও বহু গাদ্দার আন্দোলনকারী(1914-15), তাঁর বাড়িতে আত্মগোপনকরে থেকেছেন। তাঁর ছিল অদ্ভুত রকমের সিক্স-সেন্স।
নিজের চাষাড়ে, গাঁইয়া চেহারা দিয়ে বহু ঝানু গোয়েন্দাকে বোকা বানিয়েছেন। ‘ বন্দীজীবন ‘ বই’র লেখক শচীন্দ্রনাথ সান্যাল মশাই(HRPA’ র অন্যতম একজন প্রতিষ্ঠাতা) এসেছেন সর্দারের বাড়িতে, সঙ্গে রয়েছে একটি ছেলে, ওনার খুবই বিশ্বস্ত। কিষেন জি, ওর উপস্থিতিতে কোন রকম
রাজনৈতিক কথা-বার্তা বলতে অস্বীকার করলেন; তাঁর উপরও
তো পুলিশের কড়া নজর রয়েছে।
শচীন্দ্রনাথবাবু একটু অসন্তুষ্ট হলেন। পরে, তাঁর সাথে দেখা হলে, সর্দার বলেন, ‘ ছেলেটি মোটেই বিশ্বাসযোগ্য নয়।’ ঠিক তাই, ঐ ছেলেটি, বিভূতিই, বেনারস- ষড়যন্ত্র মামলায় শচীনন্দ্রবাবুর বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হয়।কিষেন সিংজি,
সব সময় আইনের বেড়াজালে থেকে গোপনে বিদ্রোহী কাজ-কর্ম
চালাতেন। সে যুগে, ঐ গাদ্দার আন্দোলন চালাতে ১০০০ টাকা ডোনেশন দেন, কম কথা নয়!
সর্দার কিষেন সিংজি, বীমা- ব্যবসায়ে সফল হলে, লাহোর শহরের প্রান্তে ‘ খাবাসিরান'(Khawsiran) গ্রামে এক লপ্তে প্রচুর জমি কেনেন। 1920 থেকে’47 সাল পর্যন্ত, এখানেই( ্ই্্ই্ই্্ই) বসবাস করেছেন;এটাই হয় ভগৎ সিং’র কাজ-কর্মের অফিসিয়াল তথ্য- নিবাস।
ভগতের মা’র নাম ইন্দর কাউর( ডাক নাম, ইন্দো) হলেও,
শ্বশুর-শাশুড়ি, আর্যসমাজের লোক বলে, তাঁর নাম রাখেন বিদ্যাপতি; বড় অদ্ভুত, তিনি তখন
অক্ষর জ্ঞ্যান-হীন। বাড়িতে টিউটর রেখে হিন্দি শিখলেন, গুরুদ্বারে শিখলেন পাঞ্জাবি। নতুন আবাসে রয়েছে, চাষ ও ডেয়ারি-ফার্ম; তাই
পরবর্তীকালে দেখা যায়, ছেলে-মেয়েদের খাবারে ঘি দেবার তাঁর বিশেষ প্রবণতা।
বায়োস্কোপওয়ালা, হ্যান্ডেল ঘোরাতে শুরু করেছে, ছেলেরাও
বাক্সের খোপে রেখেছে চোখ; শুরু হয়েছে ভিতরে রিল ঘোরা, বাইরে বায়োস্কোপওয়ালাও ছবির সঙ্গে সংগতি রেখে বলে চলেছে—-
” ভগৎ সিং, গ্রামের পাঠশালা থেকে চলেছে লাহোরের নাম করা সরকারি ‘ডি এ ভি হাই স্কুলে;না, খালসা স্কুল নয়।”
” আর্য- সমাজের লোক হলেও, তাদের পরিবার রয়েছে গোঁড়ামি-শূন্য, আর এই আদর্শ থেকেই বালক ভগতের মনে জাগে সমাজের ভেদা-ভেদের প্রতি তীব্র
প্রতিবাদ স্পৃহা। গুরুদ্বার সংস্কার
আন্দোলনের প্রতি রয়েছে তার সমর্থন; অমৃতসরের কাছে, ‘গুরু কা বাগ’- এর উপর সরকারি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে, বাবা খানের নেতৃত্বে অহিংস- পদ্ধতিতে আন্দোলনরত
লোকেরা পুলিশের লাঠি-চার্জ ও পুলিশের ঘোড়ার খুরের আঘাতে জর্জরিত হলেও, হিংসার পথ না নেওয়ায়, মহাত্মা গান্ধীজি,সবাইকে সাধুবাদ জানিয়েছেন; এ সংবাদ শুনে ভগৎ কেমন মনমরা। দেশে চলছে, অসহযোগ আন্দোলন, ছাত্র- শিক্ষক, সবাই একটা ঘোরে, মার খেয়ে খেয়ে, মার খাবার সহ্য শক্তি বাড়িয়ে চলেছে; কিন্তু, যিনি, মার খাবার জন্য প্ররোচিত করছেন, তিনি বা তাঁর বিশেষ আত্মীয় কেউ মার খেয়ে’নুলা’ বনেছেন কি না, তা বিশ্বস্ত সূত্র থেকেও খবর পাওয়া যায়নি।”
চলবে