শহিদ ভগৎ সিং চরিত
ষষ্ঠ অধ্যায় || চতুর্থ পর্ব
বায়োস্কোপওয়ালা, হাতল ঘোরাতে ঘোরাতে বলে চলেছে, “দেখ ছেলেরা, ভগৎ সিংজি, এখন কেমন পাল্টিয়ে গেছেন; সেই রোমান্টিক বিপ্লবী ভাব আর নেই, সেই প্রাণবন্ত ভাবনা আর নেই;.
Saunders কে হত্যা করার পর মনে হচ্ছে, যেন দু’টো মানুষ হত হয়েছে;নিজের বিবেকের কাছে আজ ভগৎ সিংজিকে জবাব দিহি করতে হচ্ছে। মানুষের জীবন স্বর্গীয়, মহা মূল্যবান তা বিনষ্ট করা শুধু অন্যায় নয়, মহা- অন্যায়; একজন বা দু’জনকে হত্যা করে কখনই সমাজতন্ত্র আনা যায় না, আবার বোমা/গুলিও সম্পূর্ণ ভাবে পরিহার করা সম্ভব নয়; দুষ্টের দমন তো করতেই হবে; যে, যে ভাষা বোঝে, তাকে সেই ভাষাতেই উত্তর দিতে হবে, যদিও, তা ব্যতিক্রমী বলাই সংগত, তা নাহলে
গান্ধীজি’র’ Utopian Non- Violence’র সঙ্গে পার্থক্য রইলো
কোথায়? “
“আগ্রায় তাজমহলের পাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা সেই
স্বপ্নীল চোখ আজ ম্রিয়মান। আগ্রায় থাকা কালে, একবার রাজগুরু তাজের সৌন্দর্যে বিভোর হয়ে, উচ্ছ্বাসে লিখে ফেললো দু’ লাইনের কবিতা—যেই সে তা আবৃত্তি করতে আরম্ভ করেছে—-
‘Till now, know not what love was,
A look at the Tomb made my love riot. ‘
“ব্যস, সবার হাসির মধ্যেই ভগৎ সিংজি, রিভলবার বের করে রাজগুরুকে বলছে, ‘নাও, আমায় গুলি কর, অথবা প্রতিজ্ঞা কর, কখনও কবিতা লিখবে না’। Love’s rioting বড়ই বেমানান, রক্তক্ষয়ী ভালোবাসায় আবেগের অপমৃত্যু, অথচ দেখ, তোমাদের এখনকার আধুনিক কবিরা কেমন সব কাব্যের মধ্যে এ সব ঢুকিয়ে কবিতার রস শোষণ করছে, জঞ্জাল,উপভোগ করা তো দূরের কথা, পাঠককে কবিতার প্রতি বীতরাগ করে তুলেছে। সেই ” মেরা রং দে বাসন্তী “, ” ছোলে বা হীরে(
পাঞ্জাবের লোক- সংগীত) আর ভগৎ সিং’র গলায় শোনা যায় না। এখন তিনি, দেশের অর্থনৈতিক অস্থিরতার কথায় চিন্তিত। পুলিশ- অফিসার হত্যার রেশ, জনমানসে স্তিমিত; এদিকে আন্দোলনকারী
শ্রমিকদের উপর সরকারি অত্যাচার বৃদ্ধি পেয়েছে,সেগুলো কে আইন-সিদ্ধ করার জন্য বৃটিশ সরকার, কেন্দ্রীয় এসেম্বলিতে দমননীতি সংক্রান্ত বিল আনতে চলেছে; যদি সে বিলগুলো পাস নাও হয়, তা ভাইস রয়’র ভেটো প্রয়োগের মাধ্যমে কার্যকরী হবে। কেন্দ্রীয় কমিটি চাইছে এই বিলগুলো, ভাইস রয়’র ভেটো প্রয়োগে আইনে পরিণত হোক। সারা পৃথিবীর কাছে বৃটিশ সরকারের এই দমন- নীতি প্রকাশ্যে আনতে হবে, সরকারের মুখোশ খুলে ,আসল চেহারাটা
পৃথিবীর কাছে উন্মোচিত করতে হবে। “
“দেশে শ্রমিক আন্দোলন (1927-28) দানা বেঁধে উঠেছে; বিদেশ থেকে এদেশের শ্রমিক- ইউনিয়নকে আর্থিক সাহায্য পাঠাচ্ছে;সত্যাগ্রহের প্রস্তুতি চালাচ্ছে এ দেশের কৃষক- সমাজ; এমন সময় HSRA’ র কিছু একটা করা দরকার, যাতে শ্রমিক- কৃষক বুঝতে পারে যে তাদের সংগঠনও
ওদের জন্য কিছু করতে চায়। “
চলবে