ক্যাফে ধারাবাহিক উপন্যাসে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ১১)

পঞ্চম অধ্যায়
প্রথম পর্ব—

কাহিনীকার এবার বলা শুরু করেছে–
“দেখ ছেলেরা, ভগৎ সিংজি দেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিপ্লবের ডাক দিচ্ছেন;স্বাধীনতার
আন্দোলনে, কংগ্রেসের অহিংস অসহযোগ আন্দোলনকে একটা
‘Utopian Scheme ‘ নামে উল্লেখ করছেন;বলছেন,’যুবক সম্প্রদায়কে ধরে রাখতে কংগ্রেস, বিপ্লব, বিপ্লব আন্দোলনের খেলা চালাচ্ছে, নিজেরাও জানে এর শেষ পরিণতি, আপোষের পথ; আপোষ, অনেক সময়ই কৌশল হিসেবে করতে হয়; লেলিনও কৌশলগত কারণে বলশেভিক সরকারকে বাঁচাতে জার্মানদের
সঙ্গে আপোষ করতে বাধ্য হয়েছিলেন, কিন্তু, এরা তো কায়েমী- স্বার্থের প্রতিনিধি — মধ্যবিত্ত ও ছোটো ছোটো ক্যাপিটালিস্টদের দ্বারা পরিচালিত। এদের মধ্যে, বাল-
গঙ্গাধর তিলকের অভিমতটা একটু অন্যরকম; উনি দাবি করেন ষোলো-আনা, জানেন, সেটা অন্ততঃপক্ষে, আট- আনায় হবে রফা; আবার আন্দোলন; আর অন্যরা, চাইবে এক আনা, তো কিছুই পাবে না; তাই দাবি জানাতেও কৌশলের প্রয়োজন; হাঁটু গেড়ে ভিক্ষা-প্রার্থীকে কেউ ভ্রূক্ষেপ করে না। আর, এরা তো কায়েমী- স্বার্থের প্রতিনিধি, এরা কখনও কৃষক- মজুরের উন্নয়ন মনে প্রাণে চাইবে না। পুরোনো সমাজকে ভেঙ্গে, নতুনভাবে তৈরি করতে হবে; গড়তে গেলে, ভাঙ্গতে হয়, পুরোনো মাল- মশলাও কিছু কাজে লাগে; আগে ভাঙ্গতে হবে, তবে গড়া সম্ভব। কনজারভেটিভ, রাডিক্যাল বা আইডেলিষ্টরা কখনও আমূল পরিবর্তন চাইবে না, আর ‘Utopian Scheme’র আমদানীকারক তো শাসকের (শাসকের ্ছে্ছ্ছে্্ছে্ছ্ছে্) কাছে
ভিক্ষাপ্রার্থী। স্বাধীনতা যে জন্মগত
অধিকার, সাম্রাজ্যবাদ যে
মানবতা বিরোধী, এ কথা কখনও
উচ্চারন করবে না। শ্রমিক- কৃষক জেগে উঠলেই কায়েমী– স্বার্থ, তাদের চুপ করিয়ে রাখার উপায় উদ্ভাবনে হয় তৎপর। বিপ্লব, মানে শুধু শাসন- ব্যবস্থায় আসা নয়, সাদা-চামড়া সরিয়ে ব্রাউনের স্থান নয়; শাসন- ব্যবস্থা হবে, ‘Of the Peasant- Labour, By the peasant–Labour, For the peasant–Labour;যুব- সম্প্রদায়
আওয়াজ তুলছে, “Long live Revolution”, কিন্তু, ওরা আন্দোলন চালিয়ে নিয়ে যাবার মত সুসংবদ্ধ নয়; আবার, কংগ্রেসের নেতারা কেউই( পণ্ডিত মতিলাল নেহেরু ছাড়া) এ বিপ্লবের দায়িত্ব নিতে রাজি নয়। তাই তাঁরা নিঃশর্তভাবে গান্ধীজির
কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আবার, আমেদাবাদের শ্রমিক আন্দোলনে, তাঁর ভূমিকা ও বারডৌলিতে কৃষক আন্দোলনে, তাঁর অবস্থান স্পষ্ট;তিনি, শ্রমিক- কৃষকদের জাগাতে উৎসাহী নন।
আন্দোলনের অর্থ কেবল পড়ে পড়ে মার খেয়ে ‘নুলো’ বনা নয়; উনি তো কখনও পুলিশের গুঁতো খাননি, রাজকীয় বেশে, খাতিরে, বহাল তবিয়তে জেলে গেছেন, আর মার খেয়েছে আন্দোলন- কারীরা; এ সত্য থেকে অন্তর্নিহিত
অর্থ উপলব্ধি করতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এরপরও তাঁকে
স্বাধীনতার আন্দোলনে বিশ্বাস করা কঠিন’। বলছেন, ‘মনে রেখো ছেলেরা, বিপ্লবের অর্থ, গুলি, বোমা বা রক্তপাত নয়; বিপ্লব বলতে বোঝায়, সমাজের আমূল পরিবর্তন— , Revolution Of the Proletariat ,For the Proletariat, আর এই কাজকে বাস্তবায়নে দরকার Professional Revolutionaries—- Whole-Time-Workers. গাদার পার্টির (1914-15) বিফলতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে, সাধারণ মানুষের, বিপ্লবের প্রতি
অনীহা, বিরোধিতা দূর করেই এগোতে( ্বে্ব্বে্ব) হবে, লক্ষ্য থাকবে স্থির। কর্মীদের ব্যবহার হবে ভদ্র, বিনয়ী;গান্ধীজির Utopian Promise-এ, স্বরাজ আসবে এক বছরেই, এ ভাবনা ত্যাগ করতে( ্য্য্য্্য্য্য্) হবে; আমূল পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত
হও, এর জন্য, বেশ কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। মনে রাখতে হবে, এই অসহযোগ আন্দোলন প্রথম শুরু করেছিলেন, সিপাহী- বিদ্রোহের কিছু পরে, গুরু রামদাস; তার পরিনাম আমরা ইতিহাস থেকে পাই। কায়েমী– স্বার্থ, কখনও জোটবদ্ধ হতে দেবে না; ধর্মের নামে, পরস্পরের মধ্যে হানাহানিতে আমাদের শক্তি দুর্বল করে দেবে। তাই বলছি, পড়, ইতিহাস পড়; দেশকে জানো; এই পড়াই তোমার চরিত্র সু- দৃঢ় করতে সাহায্য করবে’। ”
“দেখ ছেলেরা, ভগৎ সিংজি, মুসলমান সমর্থক দিয়ে ইসলামের
ত্রুটি- বিচ্যুতি বলাচ্ছেন, যাতে ইসলাম- ধর্মীয়রা, ইমাম- মোল্লা দ্বারা প্রভাবিত না হয়; আবার হিন্দুকে দিয়ে, হিন্দু- ধর্মের ত্রুটি-
বিচ্যুতি, অন্যায়ের কথা প্রকাশ্য সভায় প্রকাশ করিয়ে বামুন- গুরু সম্প্রদায়ের ভেদ- নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে আহ্বান জানাচ্ছেন; এইভাবে, দু’সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত এড়াবার কৌশল নিয়ে মোল্লা- বামুনের হাত থেকে মানুষকে অন্তর্ঘাতী দাঙ্গা থেকে রক্ষার উপায় বার করছেন। ”

চলবে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।