T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় উজ্জ্বল দাস

শিশু কথা (আলেখ্য)
কু ঝিকঝিক রেলের গাড়ি
নীল সবুজে জমকালো।
এক নিমেষে ধানের শীষে
রোদ পড়ে তাই চমকালো।
সূয্যিমামা হাই তুলেছে
ভাঙছে দেখো আড়মোড়া
খেলবি নাকি ঘাসের পিঠে
আজ বিকেলে বল তোরা !
নাকের ওপর চশমা তুলে
গুরুমশাই ধমকালো।
কতর পিঠে কী বসালে
খান পনের বল না লো।
পড়াশুনার পাঠ চুকেছে
আয় না ওরে চল না সই,
শীতবুড়ি তাই চাঁদের পিঠে
ভাণছে দেখো মোয়ার খই।
বদ্যিবুড়ি মেলছে দেখো
নকশি কাঁথা মাঠ পাড়ে,
কাদা মেখে দু/দশ জেলে
জাল ফেলেছে খাল ধারে।
আইস বাইশ খেলবি চল
কচিকাঁচা বুড়োর দল-
ছু কিৎকিৎ ,ফলসা গাছ
একের পিঠে বসলো পাঁচ।
পিট্টু, ক্যারাম দে থুরি
কলকাটি আর এই ঘুড়ি,
সন্ধ্যে হলে হাতপা ধো
বইয়ের পাতা ওল্টলো।
পড়তে হবে নামতা সব
বাংলা ভূগোল পাখির রব,
ইংরাজিতে মন দে’না
নইলে হবে গোমড়া মা।
বই মুখেতে ঢুলবি না
অন্য খাতা খুলবি না
সিঁড়ি ভাঙা বেশ কঠিন,
ভাঙতে ভাঙতে ভুলবি না।
(কোরাস)
আমার গ্রামের ছোট্ট এ পাঠশালা
আমার গ্রামের ছোট্ট ফালি নদী
এসব এখন ছবির মত আঁকা
এই শৈশব অমর হতো যদি।
আমার মায়ের এমন বাংলা ভাষা
পাড়া গ্রামের তাঁতের বোনা শাড়ি
গ্রামের মাঠে পুজোর এমন সাজ
এই পাড়াতেই আমার মেঠো বাড়ি।
###
পশ্চিমেতে ভুবন মাঝি থাকে…
পূর্বে এখন নিমাই ঢাকির বাড়ি
উত্তরেতে ট্রেন চলাচল করে,
দক্ষিণেতে দুইটি অঙ্গনওয়ারী।
গ্রামের বধূ পুকুরে যায় নেয়ে
মাটির ঘড়া নিয়ে যে’যার কাঁখে
জল বয়ে নেয় ছলাৎ ছলাৎ করে
বাড়ির পানে মাটির সরু বাঁকে।
এমনি ভাবেই জনাকয়েক ঘর
মিলেমিশে গাঁয়ে বসত বটে,
দিন ফুরিয়ে বিকেলখানি ঢলে
সূর্য ডোবে গ্রামে ছবির পটে।
দপদপিয়ে সাঁঝের কুপি জ্বলে,
মেঠো দালান সন্ধ্যেবাতির আলো
চাষিরা সব চুবরী ভরে ফেরে
গ্রাম যে আমার জোৎস্না রাতের কালো।
আশেপাশের দু/দশখানা গ্রাম
সব পর’বেই হাসিখুশি কাটে
টাকাকড়ি গয়না বাড়ি নয়
গল্প মোদের গ্রামের মাঠেঘাটে।
বাসন্তী বা গণেশ পুজো হলে
মোরাম পথে নামে গ্রামের ঢল,
ভিজে পায়ে রথের পাঁপড় খেতে
কাদা পথেই মানুষ চলাচল।
দুগ্গা পুজোয় মামা মাসি এলে
নতুন জামার মধুর সুবাস পাই,
গ্রামের আকাশ ছায়ে পেঁজা তুলোয়
অন্য গাঁয়ে নৌকো পথে যাই।
~~~~~~
(গানের সুর)
(কোরাস / একা / দুজন)
গ্রীষ্মকালের রোদ্দুরে
খেলবো ঘেমে খুব দূরে,
বর্ষাকালে মাঠ পেরিয়ে চল…
শরৎ আসে কাশফুলে
নীল আকাশের ঘাসফুলে
পেঁজা মেঘের শুধুই খেলার ছল…
হেমন্ত- শীত- বসন্তে,
পাড়া গ্রামের দিগন্তে
শৈশবকে রাখবি ধরে চল…