অনুগল্পে উত্তম বণিক

সম্প্রীতির শেষ উপহার

বারো বছরের সাহিল জেদ ধরেছে রাখি পড়ার। ওর আম্মি বারবার বলছে যে ওটা হিন্দুদের পরব আমাদের নয়। কিন্তু সাহিল ও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়, রাখি ও পড়বেই. আম্মিকে ও বলছে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ধর্মীয় সম্প্রতি রক্ষা করার জন্যই এই উৎসবের আয়োজন করেছিলেন। এটার মধ্যে ধর্ম এলো কোথা থেকে? তুমি প্রতিবারই নিষেধ করো, এবার আমি পড়বই পড়ব।

-সব তো ঠিক আছে কিন্তু তোর তো কোনো বোন বা দিদি নেই, রাখি পরবি কার কাছে?
-কেনো মা তুমি যে চক্রবর্তী কাকুদের বাড়িতে কাজ করো ওই বাড়ির মিঠি দিদির কাছে। মিঠি দিদিরও তো কোনো ভাই বোন নেই। আমাকেই তো নিজের ভাইয়ের থেকে বেশি ভালবাসে সেই ছেলেবেলা থেকে। একটা দুর্ঘটনায় মিঠি দিদির দৃষ্টিশক্তি চলে যাওয়ার পরও আমার পড়াশোনা, গান সবই তো মিঠি দিদির জন্য। তাছাড়া তোমার মুখেই তো কতবার শুনেছি, আমাকে কোলে রেখে আব্বু যখন পৃথিবী থেকে বিদায় নেয় তখন থেকেই তো ওই চক্রবর্তী কাকু কাকিমাই তো আমাদের রক্ষা করে আসছে। তাঁরাই তো আমাদের কাছে আল্লার সমান।

রাখি পড়লে তো শুনেছি উপহার দিতে হয়। আমরা তো খুব গরিব, মিঠি দিদিকে কি উপহার দিবি?
শাড়ির আঁচল থেকে গীট খুলে একটা কুড়ি টাকার নোট পেলো সাহিলের আম্মি। সাহিল আনন্দে লাফিয়ে উঠে বলল মিঠি দিদি চকলেট খেতে খুব ভালোবাসে।
সাহিল এতো খুশি মনে হয় জীবনে প্রথম হয়েছে, যা মায়ের চোখ এড়ালো না। এই একটি তুলো লাগানো এক টুকরো সুতোর যে এতো খুশি তা আমিনা বিবির জানা ছিল না। এক মুহূর্তে চোখের কোনটা বুঝি একটু ভিজে গেলো।

এক ছুটে ঘর থেকে দৌড়ে বড়ো রাস্তার মোড়ে সাহিল…

ডাক্তার বাবু বললেন ব্রেন ডেথ। ট্রাকের ধাক্কায় সাহিলের হাতে ধরে থাকা নীল রঙের চকলেটটা পাশে লাল হয়ে পড়ে রয়েছে।
পুত্র শোকে পাথর হয়ে যাওয়া আমিনা বিবির জীবনের শেষ ইচ্ছা সাহিলের চোখ দুটো দিয়ে মিঠি দিদিমণির দৃষ্টি শক্তি ফিরিয়ে দেওয়ার। মিঠি তার স্বাভাবিক দৃষ্টি ফিরে পেয়েছে। এবারের রাখি উৎসবে মিঠি একটা ফাউন্ডেশনের উদ্বোধন করেছে, নাম *সাহিল ফাউন্ডেশন………

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।