ছেলেটি রোজ স্কুল পালায়। স্কুল তার ভাললাগে না। শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। বইয়ের দিকে তাকালেই অক্ষরে অক্ষরে জরিয়ে যায়। অঙ্কটা তার একটু করতে ইচ্ছে করে। চেষ্টা করলে উত্তরগুলো মিলেও যায়। কিন্তু নিজের নামের বানানটাও কেমন যেন গুলিয়ে যায়। ফলে নিজের নামটাও ঠিক করে লেখা হয়ে ওঠে না। অথচ মাকেও রোজ বেরোতে হয়। চাকরীটা না করলে মা ছেলের চলবে কি করে। ভোর বেলা উঠে দুমুঠো ফুটিয়ে নেয় মা। ছেলের জন্য টিফিন গুছিয়ে দেয় সাধ্য মত। তারপর ছেলেকে খাইয়ে, নিজে খেয়ে তৈরি হয়। ছেলেকে স্কুলে পাঠিয়ে নিজেও ট্রেনে ওঠে। মা যতদূর সাথে আসে, ছেলেটি ততটা পথ এগোয় স্কুলের দিকে।
মা চোখের আড়াল হলেই সে উল্টো পথ ধরে। পা চালিয়ে চলে যায় নদীর ধারে। যেখানটায় মাঝিরা জাল ফেলে মাছের অপেক্ষা করে বা যেখানে মাটির উনুন ধরিয়ে ভাত চাপায়। ওদের সাথেই সারাদিন কাটায় ছেলেটি। মাছ ধরা দেখে কিংবা ঘাটে মানুষের স্নান কিংবা মাছরাঙা বা বকের মাছ শিকার। কোনো কোনো দিন মাঝিরাই ভাত দেয়। কখনো টিফিন কৌটো খুলে ছেলেটি মায়ের পাঠানো খাবার খায়। বিকেল হলে বাড়ি ফেরে ছেলেটি। বহু পুরোনো বাড়ি তাদের। অন্ধকার অন্ধকার, ছায়া ছায়া। স্কুলের ইউনিফর্ম ছেড়ে দৌড়োয় মাঠে। বাড়ি ফিরে পরিস্কার হয়ে পড়তে বসলেই ক্ষিদে আর ঘুম একসাথে পায়। আরো কিছুটা পর মা ফেরে। ছেলেকে ঘুমোতে দেখে বকাবকি করে। তারপর রান্না চাপায় আর ছেলে পড়েতে বসায়। অক্ষরগুলো অচেনা লাগে। মা অধৈর্য হয়ে মারতে থাকে। ছেলেটি কাঁদতে কাঁদতে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুমন্ত ছেলের মুখে ভাতের গ্রাস তুলে দিতে থাকে মা।