ধারাবাহিক প্রবন্ধে তপশ্রী পাল (পর্ব – ৩৪)

আলাপ

সেতার সরোদের পর আজ শোনাই “শেহনাই” বা “সানাই” এর কথা। যে সানাই দিয়ে ভোরের ঘোষণা হতো রাজপ্রাসাদের নহবতখানায়! যে সানাইয়ের করুণ সুরে বিয়ের পর বিদায় দেওয়া হতো দুলহনকে তার নৈহার বা বাপের বাড়ি থেকে! যে সানাই ছিলো উত্তরভারতের অন্যতম লোক-সঙ্গীত যন্ত্র বা ফোক ইন্সট্রুমেন্ট। সাধারণ মানুষের একমাত্র বিনোদন যাত্রাপালার শুরুতেও অবশ্যম্ভাবী ভাবে বাজতো অন্যান্য যন্ত্রের সঙ্গে সানাই। প্রথমেই প্রশ্ন আসে এমন একটি লোকযন্ত্রের কথা শাস্ত্রীয়সঙ্গীতের অঙ্গনে এলো কেন। এলো এমন একজন মানুষের কল্যানে যিনি একাই এই যন্ত্রকে লোকসঙ্গীত যন্ত্র থেকে উন্নীত করেছেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীত যন্ত্রে এবং একে পৃথিবী-বিখ্যাত করেছেন। তাঁর গল্পও শোনাবো বৈকী!
প্রথমেই বলে নিই শেহনাই নামটির উৎস। শেহ(শাহ)+নাই মিলে শেহনাই। শেহ বা শাহ একটি পার্শী শব্দ, যার অর্থ রাজা, সুলতান বা বাদশাহ। আর নাই শব্দটি কী করে এলো তার দুটি মত আছে। একটি মতে নাই মানে ফুঁ দিয়ে বাজানো একটি কাঠের যন্ত্র। অপর মতে এই নাই বা নায় শব্দটির অর্থ নাপিত! একজন নাপিত নাকি প্রথম বাজিয়েছিলেন এই যন্ত্র, সেখান থেকেই শব্দটি এসেছে। তবে প্রথম অর্থটি ধরলে শব্দেটির মানে দাঁড়ায় ফুঁ দিয়ে বাজানো যন্ত্রের রাজা অথবা রাজভোগ্য / রাজার শোনার উপযোগী, ফুঁ দিয়ে বাজানোর যন্ত্র। যাই হোক যন্ত্রটির উৎস ভারতীয় উপমহাদেশে। একটি কাঠের সরু লম্বা যন্ত্রের মাথায় একটি ধাতব চওড়া গোলাকার অংশ জুড়ে তৈরী হয় সানাই। কাঠের সরু লম্বা অংশে থাকে অনেকগুলি ছিদ্র এবং একেবারে শেষের দিকটি সরু হয়ে আসে এবং সেই মুখে ফুঁ দিয়েই বাজানো হয় যন্ত্রটি। গায়ের ফুটোগুলি আঙ্গুল দিয়ে ঢেকে বা খুলে সুর নিয়ন্ত্রণ করা হয় ও বিভিন্ন স্বর বাজানো হয়। সামনের চওড়া ধাতব মুখটি শব্দকে ছড়িয়ে দেয় বা অ্যামপ্লিফাই করে। যন্ত্রটি বাজানো বেশ শক্ত কারণ প্রথমতঃ শ্বাসের নিয়ন্ত্রণ ও জোরে হাওয়া বা ফুঁ দিতে হয় এবং দ্বিতীয়ত সুরের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হয়।
সাধারণতঃ দলবদ্ধভাবে প্রহরে প্রহরে সানাই বাজানো হতো রাজপ্রাসাদের প্রধাণ প্রবেশদ্বারের ওপরে একটি কক্ষে, যাকে নহবতখানা বলা হতো। রাজা বাদশাহের ঘুম ভাঙ্গতো সানাইয়ের মিঠে আওয়াজে। তবে রাজপ্রাসাদে বাজানোর সুযোগ তো সবার হতো না। উত্তরভারতে, যে বাড়িতে যে কোন শুভ অনুষ্ঠান, যেমন বিয়ে, অন্নপ্রাশণ ইত্যাদি থাকতো, সেখানে মূল অনুষ্ঠান শুরুর বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই ছাদে নহবত বসিয়ে দলবদ্ধভাবে সানাই বাজাতেন বাজিয়ের দল। এঁরা সাধারণতঃ গ্রামে গঞ্জে ঘুরে সানাই বাজাতেন ও জীবিকা নির্বাহ করতেন। সাধারণতঃ বংশানুক্রমে সানাইয়ের শিক্ষা পেতেন বাজিয়েরা। বাজিয়ে পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো এই বিদ্যা। উত্তরভারতের নানা ধরণের লোকসুর, মিশ্র ধুন ইত্যাদি বাজানো হতো সানাইতে। এই যন্ত্রটিতে যে শাস্ত্রীয় রাগরাগিনী বাজানো যায় তা ঊনবিংশ শতক পর্যন্ত কেউ ভাবেনি। কিন্তু বিংশ শতকের শুরুতেই এসে গেলেন এমন একজন মানুষ যিনি যন্ত্রটির বিশেষণই বদলে দিলেন। এবার তাঁর ঘরানা ও তাঁর কথা।
বিহারের ছোট্ট গ্রাম দুমরাও। সেখানে বাস করতেন সিয়া মুসলিম একটি পরিবার যারা পুরুষানুক্রমে ভোজপুর স্টেটের রাজার সভাবাদক ছিলেন। সেই পরিবারের সন্তান পয়গম্বর খান দুমরাওয়ের মহারাজা কেশবপ্রসাদ সিং এর দরবারে সানাই বাজাতেন। ১৯১৬ সালে পয়গম্বর ও তাঁর স্ত্রী মিঠঠনের দ্বিতীয় পুত্র জন্মালে তাঁরা প্রথম পুত্র শামসউদ্দীনের সঙ্গে মিলিয়ে তার নাম রাখেন কামরুদ্দীন। কিন্তু কামরুদ্দীনের দাদু রসুল বক্স খান নাতির সুন্দর চাঁদের মতো মুখটি দেখে আল্লাকে ধন্যবাদ দিয়ে বলে ওঠেন “বিসমিল্লাহ!” সেই থেকে আসল নামের বদলে সবাই ছেলেটিকে ঐ নামেই ডাকতে লাগলো। ক্রমে সেটিই তার নামে পরিণত হলো। ছোটবেলা থেকেই সারাদিন সেই বালক শুনতো সানাইয়ের সুর! কখন নিজের অজান্তেই হাতে তুলে নিয়েছিলো ভারী যন্ত্রটি! প্রথম থেকেই আব্বা পয়গম্বর খান দেখলেন ভারী সুরেলা ফুঁ দেয় বালক! সে তো হবেই! নামেই যার স্বয়ং আল্লা মিশে আছেন সে তো বিশেষ রহমত নিয়েই জন্মেছে! কিন্তু তিনি নিজে জানেন যে তার বাজনার জ্ঞান সীমিত! শুনেছেন উত্তরপ্রদেশে গঙ্গা কিনারে বেনারসে অনেক বড়ে বড়ে উস্তাদ আছেন! সেখানে তার দূর সম্পর্কের এক ভাইও থাকে! তাঁকে আরো ভালো করে সঙ্গীত শিক্ষা দেওয়ার জন্য বেনারস পাঠিয়ে দেবেন ঠিক করলেন তিনি।
আলাপে বিভিন্ন ঘরানার কথা বলতে গিয়ে আগেই বলেছি, বেনারস ঘরানা এমন এক ঘরানা যেখানে বহুরকম সঙ্গীতের সঙ্গম ঘটেছে। এই ঘরানায় যেমন আছেন বিখ্যাত খেয়ালিয়ারা, তেমনই আছেন লঘু শাস্ত্রীয়সঙ্গীত বা ঠুমরীর বিখ্যাত বাঈজীরা, আছেন নামকরা তবলিয়াগণ অথবা নৃত্যশিল্পীরা! গঙ্গা মাঈয়ার ধারে, বাবা বিশ্বনাথের ধামে গিয়ে পৌঁছলেন ছোট্ট বালক বিসমিল্লা খান। গিয়ে উঠলেন পিতার দূর সম্পর্কের ভাই আলি বক্স “বিলায়েতু” র কাছে। তিনি বাবা বিশ্বনাথের মন্দিরে সানাই বাজাতেন, তবে এ ছাড়াও তিনি ঘরানাদার শাস্ত্রীয় রাগরাগিনী শিক্ষা করেছিলেন বেনারস ঘরানার খেয়ালিয়াদের কাছে! তিনি শাস্ত্রীয়সঙ্গীত ও রাগরাগিনীও শেখাতে লাগলেন বালককে। খুব তাড়াতাড়ি সব আয়ত্ব করে নিতে লাগলো বালক বিসমিল্লা! কী তাঁর উতসাহ! কী তাঁর পরিশ্রম ও রেওয়াজ করার ইচ্ছা! সংসার ভুলে যায় সে রেওয়াজ করতে করতে! জাগতিক ধন দৌলতের দিকে কোন লক্ষ্য নেই ছেলেটির! সে ভোরে উঠে গঙ্গায় স্নান করে, তারপর নমাজ পড়তে চলে যায় তীরবর্তী মসজিদে! নমাজ পড়া শেষ হলে রেওয়াজ করতে চলে যায় বালাজী মন্দিরে! সে ধর্মের মধ্যে কোন তফাত বোঝে না। হিন্দু ও মুসলমান মন্দির, মসজিদ তার কাছে সমান! সব জায়গাতেই তো আল্লা আছেন, নইলে আছেন বাবা বিশ্বনাথ অথবা বালাজী বিষ্ণু! তাহলে আর অসুবিধা কী! আর বিসমিল্লা তো সঙ্গীতের মধ্যে কুরবান করেছে নিজেকে! সঙ্গীতের কোন জাত ধর্ম নেই! সঙ্গীতই সব মানুষকে, সব ধর্মকে এক করতে পারে তার সুরে সুরে! এ কথা মনপ্রাণ দিয়ে সারাজীবন বিশ্বাস করেছেন বিসমিল্লা খান! তার কারণ কিন্তু ছিলো তাঁর এই বেনারসে গঙ্গাতীরে বেড়ে ওঠা! ক্রমে সানাইবাদনকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন বিসমিল্লা! তাঁর মনে হলো যে রাগরাগিনীগুলি তিনি শিখছেন, তা সানাইতে বাজানো যাবে না কেন? চাচাজান বলেন সানাইতে মীড় লাগানো মুশকিল! অনেক দম লাগে! রাগরাগিনী ফোটানো মুশকিল! তিনি অনেক পরীক্ষানিরীক্ষা করতে লাগলেন সানাইয়ের ফুঁ নিয়ে, সানাইয়ের গায়ের ফুটোগুলি দিয়ে সুর নিয়ন্ত্রণের নতুন নতুন উপায় বার করতে লাগলেন! ক্রমেই আরো সুখশ্রাব্য অপূর্ব ধ্বনি নির্গত হতে লাগলো সানাই থেকে! ক্রমেই আরো নিখুঁতভাবে বেজে উঠলো রাগরাগিনীগুলি! বিভিন্ন মন্দিরে, বেনারসের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতসভাগুলিতে বাজাতে লাগলেন বিসমিল্লা! ক্রমে তাঁর নাম বেনারসের গন্ডী ছাড়িয়ে বাইরে ছড়িয়ে পড়লো! ১৯৩৭ সালে কলকাতায় অল ইন্ডিয়া মিউসিক কনফারেন্সে বাজানোর আমন্ত্রণ পেলেন তিনি! সেখানে তাঁর বাজনা শুনে মুগ্ধ স্তব্ধ হয়ে গেলেন শ্রোত্রিমণ্ডলী! এ কী অপার্থিব বাজনা! সানাইয়ের সুরে সুরে যেন গুমরে মরে ভোরের ভৈরব, সন্ধ্যার মূলতানী, মধ্যরাতে চন্দ্রকোষ!
ক্রমে বিসমিল্লার নাম শুনলেন পন্ডিত জওহরলাল নেহরু! এর দশবছর বাদেই ১৯৪৭ সালে যখন ভারত স্বাধীন হলো, জওহরলাল ডেকে পাঠালেন উস্তাদ বিসমিল্লা খানকে! তাঁকে অভিবাদন করে বললেন “স্বাধীনতার প্রাক্কালে লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশ্যে প্রথম প্রধাণমন্ত্রী হিসাবে ভাষণ দেবো আমি! কিন্তু সেই স্বাধীনতার সূর্য উদয় হবে আপনার শেহনাইয়ের সুরে সুরে উস্তাদ!” এরপর ১৯৫০ সালের জানুয়ারীতে ভারতের প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসেও সানাইবাদন করেছিলেন উস্তাদ বিসমিল্লা খান! সেই বাজনা সরাসরি সম্প্রচার হয়েছিলো স্বাধীন ভারতের সরকারী রেডিও চ্যানেলে! ছড়িয়ে পড়েছিলো গোটা বিশ্বে! রচনা করেছিলো ইতিহাস!
এরপর গোটা ভারতে এবং গোটা বিশ্বের নানা বড়ো বড়ো অনুষ্ঠানে ও কনফারেন্সগুলিতে আমন্ত্রিত হয়ে বাজাতে লাগলেন উস্তাদ বিসমিল্লা খান! আমেরিকা, কানাডা, ইরান, ইরাক, পশ্চিম আফ্রিকা, জাপান, হংকং,ইউরোপের বিভিন্ন শহর এবং আফগানিস্থানেও বাজিয়েছেন উস্তাদ! নানা বড়ো বড়ো অনুষ্ঠানে, যেমন মন্ট্রিওলে ওয়ার্ল্ড এক্সপোসিশন, কান শহরে আর্ট ফেস্টিভ্যাল, ওসাকায় ট্রেড ফেয়ার কোথায় না বাজিয়েছেন! যুগলবন্দী বাজিয়েছেন অনেক বড়ো বড়ো শিল্পীর সঙ্গে!
উস্তাদ বিসমিল্লা খান সত্যজিত রায়ের জলসাঘরে অভিনয় অভিনয় করেছেন ও বাজিয়েছেন! এ ছাড়াও বিখ্যাত হিন্দী সিনেমা গুঞ্জ উঠে শেহনাইতে তাঁর বাজনা শোনা গেছে। তিনি দশজনের একটি দল নিয়ে কানাড়া সিনেমা সানাদি আপ্পান্নাতে বাজাতে কর্ণাটকে চলে যান ডঃ রাজকুমারের আমন্ত্রণে! ১৯৬৭ সালে হলিউড ফিল্ম গ্রাজুয়েটে বাজান তিনি এবং তাঁর বাদনরত ছবিটি সিনেমার পোস্টারে ব্যবহৃত হয়।
কলকাতায় প্রতিটি সঙ্গীতমঞ্চে বাজিয়েছেন উস্তাদ! নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সরকারী উদ্যোগে সারারাত্রিব্যাপী অনুষ্ঠানে একেবারে শেষ বয়সে তাঁর বাজনা শোনার সৌভাগ্য হয় আমার। সম্ভবতঃ সেটিই কলকাতায় তাঁর শেষ বাজনা ছিলো। সেবার তাঁর প্রায় গোটা পরিবার বাজিয়েছিলেন এক স্টেজে, যাতে ছিলেন তাঁর ছয় পুত্র! অসাধারণ তবলা ও টিকারা সঙ্গত করেছিলেন তাঁর নাতি! তিনি ছেলেমানুষের মতো খুশী হচ্ছিলেন স্টেজে বসে নাতির বাজনা শুনে! মনে আছে, বলেছিলেন “ইয়ে মেরে ঘরানে কা নাম রাখেগা!” শোনা যায় ডোভার লেন সঙ্গীত সম্মেলন যখন খোলা মাঠে আয়োজিত হতো, শুধু বিসমিল্লার সানাই শোনার জন্য বহু মানুষ টিকিট না পেয়েও মাঠের বাইরে বসে থাকতেন! শেষরাতে উস্তাদের সানাইয়ের সুরে তাঁদের চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়তো জল!  বিখ্যাত পরিচালক গৌতম ঘোষ উস্তাদের জীবনের ওপরে একটি ডকুমেন্টারী তৈরী করেন যার নাম “সঙ্গে মিল কে মুলাকাত”।
উস্তাদ বিসমিল্লা খান ছিলেন এক বিরল ব্যক্তিত্ব যিনি এতো বড়ো হয়েও কোনদিন জাগতিক ধন সম্পদের পিছনে ছোটেননি। শুধু সঙ্গীতই ছিলো তাঁর ধ্যান জ্ঞান! তিনি শত প্রলোভন, এমনকি আমেরিকার পারমানেন্ট গ্রিন কার্ডের লোভেও বিদেশে গিয়ে বসবাস করতে রাজী হননি! বিশাল পরিবার তাঁর আয়ের ওপরেই নির্ভরশীল ছিলো বলে শেষ বয়সে বেশ আর্থিক টানাটানিতেই পড়তে হয়েছিলো তাঁকে! কিন্তু সেই গঙ্গাতীর, যেটি দেখা যেতো তাঁর বাড়ির ছাদ থেকে, তা ছেড়ে কোনদিন কোথাও যেতে চাননি উস্তাদ! তিনি সর্বত্র রিক্সায় যাতায়াত করতে ভালোবাসতেন। বেনারসের দশাশ্বমেধ ঘাট থেকে রিক্সায় উঠলে, বিভিন্ন সরু গলি পেরিয়ে রিক্সা নিয়ে যায় তাঁর বাড়ি C.K 46/62 সরাই হারাহা। নামতে হয় বেনিয়া পার্কে। তারপর গলি এতো সরু যে পায়ে হেঁটে যেতে হয়। যদিও ২০০৬ সালে ক্যান্সারে উস্তাদের মৃত্যু হয়, কিন্তু এখনো একডাকে বেনারসের যে কোন রিক্সাওয়ালা পৌঁছে দেয় উস্তাদের বাড়িতে, যেটি একটি টুরিস্ট অ্যাট্রাকশন এখন! এই বাড়ি বিক্রি করে ভেঙ্গে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তাঁর পরিবার, কিন্তু সরকারী হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়।
আজীবন তাঁর বাজনার মধ্য দিয়ে সর্বধর্ম সমন্বয় ও হিন্দু মুসলিম ঐক্যের বাণী প্রচার করে গেছেন উস্তাদ বিসমিল্লা খান। শোনা যায় একবার তিনি ট্রেনে জামশেদপুর থেকে বেনারস ফিরছিলেন। এমন সময় তিনি ট্রেনে একটি অদ্ভুত বালকের দেখা পান। কালো ছেলেটির হাতে ছিলো বাঁশী! তাতে সে অদ্ভুত এক সুর বাজাচ্ছিলো! সেই সুরেই ঘুম ভাঙ্গে তাঁর! জানা কোন রাগরাগিনীর সঙ্গেই মিলছিলো না সেই সুর কিন্তু উস্তাদের মনে অদ্ভুত অনুরণন তোলে সেই বাজনা! বেনারসে ফিরে একটি অনুষ্ঠানে সেই সুর বাজিয়েছিলেন উস্তাদ। সবাই যখন জিজ্ঞাসা করেন, তিনি বলেন এটি রাগ “কানহাইরা!” তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিলো সেদিন ট্রেনে তিনি স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের দেখা পেয়েছিলেন!
সারাজীবন অসংখ্য পুরস্কারের মধ্যে ভারতের সর্বোচ্চ সম্মান “ভারত রত্ন”
তো ছিলোই! এছাড়া পেয়েছেন পদ্মশ্রী থেকে পদ্মবিভূষণ, সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমী পুরস্কার, তানসেন পুরস্কার এবং ইরান থেকে তালার মৌশিকী!
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।