T3 || কবিতা দিবস || বিশেষ সংখ্যায় তপন মন্ডল

এক দুর্বোধ্য জীবন যন্ত্রণা

অদম্য অধ্যবসায়ে আজ আমরা শিক্ষিত।
বর্ণেশ্বরী দিয়েছে দুহাত ভরে সংজ্ঞা।
পুস্তক স্তূপ বাড়িয়েছে শুধু ডিগ্রি,
কিন্তু নীরব অথচ প্রাণঘাতী জীবন যন্ত্রণায় দিশেহারা!
যন্ত্রণা বাড়ছে ক্রমাগত!
নতুন শতাব্দীও হাতছানি দিয়ে সাদরে স্বাগত জানিয়ে
বন্দি করেছে আধুনিক প্রযুক্তির সচল কারাগারে।
তবে যন্ত্রণার উপশমে ব্যর্থ প্রয়াস!

সংকীর্ণ এই জীবন প্রতিষ্ঠায়,
কত না দুর্গম পথের অনুশাসন।
মাঝে মাঝে পথভ্রষ্ট হয়ে শূন্যতে ফিরেছি!
হতাশার স্তুপের প্রভুত্বে উৎসাহ খায় হোঁচট!
তবুও প্রচেষ্টা চলছে।
কখনো অভুক্ত আবার কখনোবা মেস বাড়ির
বদ্ধ কক্ষে শক্ত খাটিয়াতে বসে জীবনের আত্মোপলব্ধিতে মেতে,
কখনোবা রাতের অন্ধকারে নির্জন মাঠে দাঁড়িয়ে একাকী এক আকাশ তারার দিকে তাকিয়ে লম্বা দীর্ঘশ্বাস।
কখনোবা রাস্তায় নেমে ক্ষণস্থায়ী জীবনধারণের জন্য একগুচ্ছ দাবি নিয়ে প্রতিবাদ।
মন চায় না ফিরতে,
আপন মেঠো রাস্তার পাশে ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে।
কারণ, প্রতিবেশীর কন্ঠে বেজে ওঠে মিষ্টি মধুর উপহাসের স্বর,
‘উলুবনে মুক্ত ছড়িয়েছে’!

যৌবন পেরিয়ে এখন পড়ি মাঝ সমুদ্রে।
অধরা স্বপ্নরা।
হৃদয়ে গাথা জীবন্ত প্রেমগুলো আজ শুকিয়ে কুৎসিত গোলাপ।
অতীতে যে ছিল প্রাননয়ী ,
সে আজ সাবধানী সচেতন দায়িত্বশীল অপরের ঘরণী।
অর্থ সংকট মোচনে সিমেন্টের বস্তা মাথায় নিয়ে ঘামে ভেজা শরীরে।
কখনোবা হোম গার্ডের চাকরির লাইনে উচ্চশিক্ষিতের সমাবেশে।
আবার কখনোবা পরিযায়ীর বেশভূষায়,
শুনতে হয় অশিক্ষিতের কুরুচিকর বাণী চিরন্তনী।

হয়তো আগামী শতাব্দীও হাতছানি দেবে এভাবে!
সেখানেও থাকবে জীবন যন্ত্রণার নিবৃত্তির আশ্বাস।
হয়তো যন্ত্রণা জমতে জমতে হৃদয় হবে
সুপ্ত আগ্নেয়গিরি।
বুদ্ধিজীবীর বুদ্ধিদীপ্ত কলমের আগুন কি জ্বলবে না?
সহস্র দুর্বোধ্য জীবনে কি ঘটবে আত্মতৃপ্তির আগমন ?

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।