অণুগল্পে তুলসী কর্মকার

দোষারোপ

মঞ্চ জুড়ে আবছায়া আলো ডানা মিলছে। ঘুমঘোর অন্তিম লগ্নে। [এক নারী মঞ্চে উপুড় হয়ে শুয়ে আছেন]
পূর্ব দিকে লাল আভাস। একটু একটু করে পরিষ্কার হচ্ছে পৃষ্ঠ। ক্রমশ আলোকিত হচ্ছে এশিয়া ভারতবর্ষ পশ্চিমবঙ্গ।
এখানে মানুষ এবং আনুষঙ্গিকের বাস। সজ্জিত বংশানুক্রম আর তার অংশে নারী পুরুষ।
এখানে যুগ যুগ ধরে পুরুষ কেবল পুরুষ নয়
দলদাস ক্রীতদাস বুদ্ধিদাতা মদতপুষ্ট রক্ষক ভক্ষক।
এখানে নারী উৎপাদন মেশিন ভোগ্যপণ্য যৌন উপচার জুয়ার চাল ব্যথা আঙুল।
এখানে আনুষঙ্গিক গোষ্ঠী সম্প্রদায় ধর্ম রাজনীতি বিকৃত কাম ও তাঁদের শাখা প্রশাখা।
একদল মানুষ বলছেন মানুষের চেয়ে ঈশ্বর বড়।
একদল মানুষ ভাবছেন ঈশ্বরের চেয়ে প্রতিষ্ঠান বড়।
একদল মানুষ বলছেন বন্ধুর চেয়ে পার্টি বড়
একদল মানুষ মুখোশের আড়ালে মুখ লুকিয়ে ভাবেন সংগঠন সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠান তো আমাকে নিয়ে। আমি সবচেয়ে বড় এবং আমার ইচ্ছে অনিচ্ছের দায় সামলাবেন তাঁরা।
অতীত হাতড়ে দেখা যায় বাঘ হায়না শক্তিশালী পশুদের আক্রমণ। অসহায় নারী পুরুষকে আঁকড়ে ধরেন। পুরুষ ক্ষমতার বলে বলিয়ান।
মধ্যযুগের পর্দা সরিয়ে দেখা যায় সতীদাহ। নারীর দগ্ধ দেহ। হতাশা আত্ম চিৎকার। একটু সামনে এগিয়ে যৌনদাসী ক্রীড়া উপকরণ ইত্যাদি।
নারী গর্জন করেন না। সমর্থন করছেন সমর্পণ করছেন। অসহায় সুরে গেয়েছেন হুজুর বিচার চাই।
হুজুর কোখায়……..?
পর্দা সরে যাচ্ছে আধুনিক আসছে।
পুরুষের লোলুপ দৃষ্টি বুকের ভাঁজে। সেলসম্যান থেরাপি। ইনবক্স কাম। পাছার আছাড়। প্রতিশোধ প্রতারণা ধর্ষণ তারপর খুন। হাইরে নারী কোথায় সুখ কোথায় বিক্ষোভ!
জেগে ওঠে সময়।
দোষ কার?
গোষ্ঠী সম্প্রদায় ধর্ম রাজনীতির না।
পুরুষ তাঁর ব্যক্তিগত চাহিদা গোষ্ঠী সম্প্রদায় ধর্ম রাজনীতির ঘাড়ে চাপিয়ে মজা লুটছেন।
এক নারী শিকার হয়েছেন প্রকৃতির বুকে পড়ে আছেন।
উলঙ্গ
অগ্নিদগ্ধ
ক্ষতবিক্ষত
মুখে ঢালা আছে তীব্র বিষ……..
দেখছেন গোষ্ঠী দেখছেন সম্প্রদায় দেখছেন ধর্ম দেখছেন রাজনীতি। অভ্যস্ত হচ্ছেন সমাজ।
ধীরে ধীরে রাত নামছে। প্রতিকার অবরুদ্ধ। প্রতিবাদ ক্ষীণ হতে হতে অন্ধকারে মিলিয়ে যাচ্ছে নারীর আর্তনাদ।
[অস্পষ্ট কান্না। পর্দায় নেমে আসছে একরাশ মনখারাপ]
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।