কবিতা সিরিজে তুলসী কর্মকার

১। নতিস্বীকার

একটা চাঁদ আমাকে দেখে
একটা আমি চাঁদকে দেখে
চাঁদ আমার নাম জানে না
এক আমি চাঁদের নাম দিয়েছে
চাঁদের প্রয়োজন আছে নাকি আমার
বুঝতে বুঝতে জ্যোৎস্না ভিজিয়ে যায়

২। লিটমাস

শরীর জুড়ে সন্ধ্যে নামে
সেথায় কালভার্ট, জল মাঠ, ব্যাঙেদের হাঁকডাক
এক ছাদ জ্যোৎস্না আমাকে দেখে
মজে উঠে রেণু
এলোথেলো চুল আগোছালো হাওয়া
শিহরণ বয়ে যায়, অম্ল ক্ষার ছলাৎ করে
কে! কে ওখানে?
কাঁপা কাঁপা গলা চুপিসারে বলে
বসে আছি গোপনে
অব্যক্ত আর্জি
মিলে দাও মন, আলগা হউক লাগাম
অজস্র খেয়ালি নির্দেশক, করতে থাক ছল

৩। দৃষ্টি

একাটি তুমিকে চোখের ভিড় নিরিক্ষণ করে
উপলব্ধি করি
দৃষ্টিকোণের তুমি ক্রমবর্ধমান ডিকশনারি

৪। উপভোগ

সূর্য দুদিন মেঘ মাখছে। শরৎ উপস্থিত। ভিজে সপসপে হয়ে আছে ভাদ্র। খুব কাছ থেকে প্রণয় দেখার সময়। লালু ভুলু কালু খেঁদি নেড়ি ঘোরাঘুরি করছে। প্রেম বইছে বাতাসে।
ছাতিম কুঁড়ি বিকশিত। লকলকে ধানক্ষেত। বকের ছানাগুলো এ ডাল ও ডাল করে। সাদাঘর খুলে শুঁয়োপোকা ডানা মেলে। ঝুলে আছে কদম।
এপাড়ার উঠতি ছেলেমেয়ে রিভু বেবি রুন্টি মন্টু পঁচা। বৈঠকখানার পিছনে একটু নিরিবিলি জায়গা আছে। পাশে আছে এক গোয়াল। প্রায় বিকেলে খেলার আসর বসে। রিভু বেশ পাকা। সুযোগ পেলেই বেবিকে অথবা রুন্টিকে বিয়ে করে। পঁচা ওদের ছেলে। মন্টু পাহারাদার।
পাহারাদারের সাথে আমার খুব ভাব। মাঝে মধ্যে চকলেট দিই। মন্টু খেলার বিবরণ দেয়। কাল বেবি শুয়েছিল গোয়ালে। রিভু ইনজেকশন দিয়েছে। রুন্টি ঘন্টুর জ্বর দেখতে এসেছিল। পঁচা মামা ঘর গেছে। আজ কী হবে কে জানে। গা শিরশির করে। ছেলেবেলা মনে পড়ে যায়…….

৫। ঘূর্ণন

পাখার সুইচ অন করা হলে কিছুটা ত্বরণ পেরিয়ে সাম্যে থেকে হাওয়া ছোড়ে
বিদ্যুৎ বিভবের তারতম্যে গতির হেরফের হয়
অকস্মাৎ কয়েল পুড়ে গেলে মন্দন হারে ঘূর্ণন থেমে যায়
বেয়ারিং খারাপ হলে ক্ষতের কর্কশ শব্দ বের হয়
কন্ডেনসার নষ্ট হলে ভারসাম্য হারায়
ঘূর্ণনের কোন নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই
হাওয়া দিতে থাকে নির্দিষ্ট এরিয়া জুড়ে, জাতি বর্ণ নির্বিশেষে
ঘাম শুকিয়ে যায় ঠান্ডা লাগাতে পারে
কোন গোলযোগে পাখা সম্পূর্ণ থামতে সময় লাগে
ঘুরে চলা অভ্যাস লেগে থাকে স্বভাবে……….

৬। জীবনটি পাখার মতো

একটি সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় দুধ পানে শক্তি সঞ্চয় করে
সূচনা হয় জীবন চাকার ঘূর্ণন
চলন গমন সক্ষমতার পরিচয় জাহির করে
হঠাৎ একদিন মায়ের উনুনে কাঠ ঠেলে দেয়
অফিস টাইমে দরকারি ব্যাগ বাবার হাতে দেয়
আরম্ভ হয় দায়িত্ববোধ শুরু হয় কর্ম জীবন
স্বভাবগত স্বস্তি বয়ে চলে বন্ধু শত্রু উপকৃত হয়
জীবন চাকা থেমে গেলেও কাজের বায়াস মৃত রবীন্দ্রনাথকে রবীন্দ্রসংগীতে কনভার্ট করে
যার জীবন্ত সুর মুখে মুখে ভেসে যায়……….…
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।