কবিতায় তুলসী কর্মকার

১। লেলিহান

চিরাচরিত প্রথায় সন্ধ্যে নেমে এলো
ঝাঁট দেওয়া হয়েছে ক্ষণিক আগে
কাপড় বদল করলেন মা
তামার ঘটিতে ভরলেন জল
সংগ্রহ করলেন দু একটা তাজা ফুল অল্প কিছু দূর্বা
চৌকাঠে ছিটিয়ে দিলেন জল
কার্পাস তুলো নিয়ে পাকালেন সলতে
ঘি তেল দিয়ে সাজালেন প্রদীপ
হাতে চারটি ধূপ
ঘরে সাজিয়ে রাখা পিতলের লক্ষী নারায়ণ ঘট আমশাখা রাধাকৃষ্ণ ইত্যাদি
গলায় কাপড় দিয়ে সেখানে প্রদীপ জ্বালালেন
ধূপ জ্বালালেন
তামার রেকাবিতে গোটাকয়েক নকুলদানা রাখলেন
ঘটে দিলেন জল ফুল দূর্বা
প্রণাম করলেন
তারপর
চাল ধোয়া ধুচুনির ভেতর রাখলেন প্রদীপ
ধুচুনির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র ধরে আলো বেরিয়ে পড়ল
তুলসী তলায় সন্ধ্যে দেখালেন
গলায় কাপড় দিয়ে মাথা মাটিতে স্পর্শ করে প্রণাম করলেন
নিরাপদ জায়গায় একটি ধূপ পুঁতে দিলেন
হামার বিষ্ণু মন্দিরে একই পদ্ধতি প্রয়োগ করলেন
তারপর আবার সন্ধ্যাপ্রদীপটি লক্ষী নারায়ণের কাছে উন্মুক্ত করে রাখলেন
প্রদীপ তখন দাউদাউ করে জ্বলছে
আবার প্রণাম করলেন
শাঁখ বাজালেন তিনবার
জল দিয়ে ধুয়ে শাঁখ-দানীতে রাখলে শাঁখ
আমার এবং বোনের জিভে তখন জল
আনন্দে হাত বাড়িয়ে দিলাম
ভোগ বিলিয়ে দিলেন মা…….

 

২। অ্যাবস্ট্রাক্ট ড্রয়িং

এক তুমি গোমড়া মুখে বলেছিলে ভালোবাসো আমায়
বুক ফুলিয়ে হ্যাঁ সূচক সম্মতিতে নেচে উঠেছিল সময়
তারপর বহু রাত কাটিয়ে গেছে স্বপ্ন আর কল্পনা
একটু একটু করে অভ্যাস হয়েছে কতকিছু
হাতে হাত রেখে স্বর্গ ছুঁয়েছে অনেকবার
ভিজে গেছে ঠোঁট
জড়িয়ে ধরেছো তুমি
সে সব অনুভূতির অনুযায়ী অনুমান নেই
যেদিন নাভিতলে মৌনতা ছুঁয়েছিল আঙুল
সেদিন উষ্ণ নিশ্বাস বলেছিল থাকতে পারি না আর
বিছানাতে ছটপট ঘুম আসে না রাতে
তখন শরীর উপত্যকায় ঘাঁটি বেঁধেছিল প্রেম
অদম্য কৌতূহল জলোচ্ছ্বাস বয়ে গেছে কত
ম্যাসম্যাসে গন্ধে আমোদ মাখা শিহরণ
প্রাইভেসি আতঙ্কে নিরাপদ ঘরের খোঁজ
ম্যানেজার মেপেছিলেন রিলেশন
মায়ের চোখ এড়িয়ে মিথ্যে অজুহাত
কলেজ কাটা দুপুর
আবরণ সরিয়ে বুঁদ হয়ে দেখা প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন
পাওয়া একদিন কথা বলে
চাহিদারা একটু একটু করে বড় হয়।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।