কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে তাজ ইসলাম

পুরুষেরা ঠিক যেন দখিনা বাতাস
নারীরা সকলেই স্রোতস্বিনী নদী
পুরুষেরা ঠিক যেন দখিনা বাতাস
নারীর নদীতে আঁকাবাঁকা গতীপথে
পুরুষ বাতাস তুলে প্রণয়ের ঢেউ
ঢেউয়ে ঢেউয়ে সজ্জিত পৃথিবী বাগান।
নদীতে সাগরে ঢেউ,বাতাসের দোলা
স্বাভাবিক সে চাল রাখে কতজন মনে?
কেবল যে ঢেউ ভাঙে বুকের দু পাড়
যে বাতাসে ঝড় হয়,গতী সুনামির
উড়িচরে স্মরনীয় হয়ে থাকে তা দুবলার চর মনে রাখে চিরদিন।
মোছে না সে ঝড়,সেই ঢেউয়ের প্রতাপ।
নারীও ভুলে না সে বাতাসের ছুঁয়া
কোকিল উজাড় করে ঢেলে দেয় গলা
সকল কূজন ভুলে বসন্ত লালে
বরণ করেছে শিমুল পলাশের ডাল।
রেশমের উৎস সে তুঁতপোকা গুলো
ছড়ায় নামের বিভা রেশম সুনামে।
পথতো বহুত আছে প্রতিজনপদে
কেবল যে পথে আসে বিজয়ী সহিস
সোনার হরফে লেখা সে পথের নাম।
নিষিদ্ধ গন্ধম গিলে প্রথম মানব হৃদয়ে ধারণ করে অমরত্ব আশা
কাজের সমুদ্রে ডুবে বিলায় জীবন
পেতে চায় ইতিহাসে অমর ইনাম।
আমি তরজমা করি
রোদের শরীরে তোমার মেলে ধরা চুলের ঝিলিক
আমি তরজমা করি
উঠোনে দু পা ছড়িয়ে গুনগুন গানের আওয়াজ
আমি তরজমা করি ঠোঁট থেকে
ছলকে পড়া জোসনা মাখা হাসির বিভা।
এবং প্রতিদিন প্রত্যুষের স্নান আর
রোদের আহবানে ঝুলে পড়া তোমার লাজুক অন্তর্বাসের
সবগুলোর ভাবার্থ।
সরল হরফে লিখে রাখি
সুখি দাম্পত্য সময়।
বেলুন ও পিঁড়ির সঙ্গমে
জন্ম নেয় রুটি
সকাল বিকাল দা ও আনাজের
দারুণ কাটাকুটি
বাচ্চার ইস্কুল,অফিসগামী কর্তার লাঞ্চ
ব্যস্ততায় ভুলে যাওয়া
আজ জানি কী বার!
পাদটিকায় লিখে রাখি
ব্যস্ততম গৃহিণী জীবন।
আমি তরজমা করি বিষন্ন বিষয়
ভালো আছি ভালো থাকার অভিনয়সমুহ
সবিনয়ে ঢেকে রাখা
ভালো না থাকার হরফ ও হরকত।
তরজমা করি সেলাই করা মুখ
বুকের ভাঁজে রাখা দ্রোহের আগুন
ইতিহাসের এককোণে লিখে রাখি
একদিন বিস্ফোরণে জ্বলেপুড়ে ছাই হবে তক্তে তাগুত।
আমি তরজমা করতে করতে চলে যাই
দিগন্ত বিস্তৃত স্বপ্নের ধান ক্ষেতের দিকে
একদিন ফিরে আসবে সুদিন
আকাঙ্খার গোলা ভরে উপচে পড়বে সেদিন আমাদের প্রাপ্ত প্রত্যশার সোনালী ফসল।
নক্ষত্রের পতনের পর
নক্ষত্রের পতনের পর
দলে দলে দেখতে আসে
পতিত নক্ষত্রের ছিন্নভিন্ন বুক।
অথচ কোন সহৃদয়
হাত এগিয়ে আসেনি
তার পতনোন্মুখ সময় ঠেকাতে।
নক্ষত্রের পতনের পর
সুসময়ের যুগল ছবিসমুহ
বুকপকেট থেকে বেরিয়ে
উইয়ের মত উড়তে উড়তে
বলে যায় সুদিনে আমরা
পরস্পর খুব সংলগ্ন ছিলাম।