কবিতায় বলরুমে তিতাস বন্দ্যোপাধ্যায়

১| আড়াল
আঁচল দিয়ে সূর্য আড়াল করে মা!
যাতে আমাদের ঘুম না ভেঙে যায়।
বেলা বয়ে গেলে পোশাকের ধুলো ঝেড়ে দড়িতে রাখে, বলে-
‘সাবধানে যাস! সঙ্গে নিস জলের বোতল!
অন্ধকারে দেখি,
মাটির শস্যের মতো প্রিয় মা
বুক দিয়ে তুলে নেয় অবহেলা!
দেখতে দেখতে একটি গমগমে হাত
এই অধমদের গলা চেপে ধরে!
উচ্চারণ স্পষ্ট হয় না!
মনে হয় যেন শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘর
ভুলিয়ে দিয়েছে মাতৃভাষা।
২| শাশ্বত
স্বপ্নে দেখি,
‘আজ আর কিছুই লেখা হল না’ ভেবে বাল্মীকি চলে গেলেন তমসা নদীর দিকে।
পড়ে রইলো কাগজ,কলম…
আর সেই সুযোগে ব্যাধের শিশু কাঁপা কাঁপা হাতে এঁকে রাখলো বৃত্ত,ত্রিভুজ!
কবি ফিরে এলেন।
দেখলেন,
স্ফূর্ত ইচ্ছার ভেতর দোল খাচ্ছে সরল কবিতা…
৩| ছেদ
প্রাপ্তির যে রেখাটি বেঁকে যায় ক্ষয়ের দিকে
তাকে বরাবর সমুদ্র ভেবে ভুল করে
ঘরছাড়া মেয়েটির মন!
সে জানে না বালি,
ভেঙে যাওয়া শামুকের বুক
সন্তর্পণে ঠেলে দিতে হয়!
নইলে রক্তের সঙ্গে নোনা জল একেবারে আগুন হয়ে ওঠে!
এতদিনে মেয়েটা কিছু শেখেনি কেবল জেনেছে-
উপন্যাস যাকে পূর্ণচ্ছেদ বলে
সংসার তাকেই বলে মানিয়ে নেওয়া…