ক্যাফে কাব্যে টগর

অভিশাপ
ঠিক ওপারের চেনা ছাদটার চেনা বালিকাটি
যেন আজ কতদিন তড়ঘড়ি শুকনো কাপড় ট্যাঁকে পাড়ি জমায়না
আগাছাময় বর্ষার ভরা উঠোনটি বরাবর
অথচ এমন কত কত দিন কেটে গেছে
ঠিক ফিরব-দের প্রতিশ্রুতির একচালা বরাবর
অন্তর্মুখী চুঁইয়ে পড়া ফোঁটার সঠিক গুনতি করতে।
তারপর একদিন দুজনার আবশ্যকীয় পুনর্মিলনী লগ্নশেষে
সমস্ত যোগাযোগ একটানে ছিন্ন করে
লক্ষ্মীছাড়ি কোথায় যে হারিয়েছে নথ, আর কোথায় বা বেঁধেছে মন,
তার হিসেব রাখা কার সাধ্য। ঠোঁটচাপা পড়া তিলটির ‘পরে
অনেক অনেক হলুদ গাঁদার বন পেরিয়ে
একা একটি রেললাইন যেন দোকা হয়েছে বহু দূরে ।
ঘুমন্ত জলরেখাকে বুঝতে পারার শাস্তিস্বরুপ
নিরেট ছানিপড়া কোন প্রাচীন ক্ষুধার্তের শাপ ছিল যে
এ অস্থিরতা জন্মান্তরে বিলীন হবেনা।কেমন যেন বাধো বাধো মতন
উত্তরসুরী করে রেখে গেছে উষ্ণতম দিনের খানখান সাদাকালো মেসবাড়ির শেষ দুপুরের মুকুলের বাষ্পীয় প্রণয়স্মৃতি ,
একলা অফিসফেরার ভিজে সন্ধ্যার ঠান্ডা আঙুলের কথারা ব্রেললিপির দ্বারা
রোমকূপে ঋতুচক্রের প্রাপ্তবয়স্কতা বোঝার চেষ্টা করে।
বছর ঘুরে যায়। দুচোখ ভরে সন্ধ্যা নামে।
আঙুলেরা একসময় ব্যর্থ হাতড়ে ক্লান্ত হয়। স্নানরতার ন্যায়ে অন্ধ ,
বিশ্বাসী চেনা অকৃপণ আকাশটির গায়ে আন্দাজে এঁটে থাকা
কোটি কোটি গুটিপোকার অসংলগ্ন কথা,উপকথার সংসারে
একে একে চোখ বোজার বুক খুঁজতে থাকে ওরা সবাই।