মার্গে অনন্য সম্মান শ্রীস্বদেশ সাধক সরকার (সেরার সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার

সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ১৫২

বিষয় – দৃষ্টি

নজর

জীবন আলেখ্য কত কিছু দেয় যার
উপর নির্ভর করে বিশ্বচরাচর তার জীবনস্মৃতি
রচনা করে~এই যে রচনা বা অভিপ্রেত তা
তো নিজ নিজ দৃষ্টির বা নজরের উপর
নির্ভরশীল ।
দৃষ্টি সে তো এমন এক শক্তি যা স্বচ্ছতা ,
অস্বচ্ছতা কে চেনায়,আলো আর অন্ধকার ,
দোষ গুণের বিচারক হয়ে দৃষ্টিশক্তি চিরদিন
তুল্যমুল্য বিচারের সহায়ক হয় ।
তাই তো লোকে বলে ওর নজরটা বেশ
খারাপ আবার কেউ কেউ বলে চোখ থাকতে
কানা । এর ভিতরে প্রবেশ করলে দেখা যায়
মানুষের মনুষত্ব্যে দৃষ্টি বা নজর এক প্রধান,
মৌল গুণাবলীর অন্যতম ।
ঐ যে প্রায়শই শোনা যায়~শকুনের নজর
ভাগারের দিকে,এটা কিন্তু শকুনের উদ্দ্যেশে
বলা হয় না -বলা হয় নজর বা দৃষ্টিশক্তির
বদান্যতায় তথাকথিত নিকৃষ্ট দ্বিপদী সবাক
মানুষদেরই যাদের দৃষ্টি চিরদিন সমাজকে
সমালোচনার কাঠগড়ায় দাঁড় করায়।
সবেরই ভাল মন্দ থাকে কিন্তু দৃষ্টশক্তি চোখের
সবার সমান হলেও সেই চোখ একই বস্তুকে
কত ভাবে দেখতে শেখায় ।
দৃষ্টির অন্যতম উপাদান চোখ। চোখ দেখতে
শেখায়,চিনতে শেখায় আর মনন শেখায়
বুঝতে~
চোখ যদি না থাকে তবে বিশ্বচরাচর সব
থেকেও না থাকা । এ কথা ঠিক,ব্রেইল পদ্ধতি
বিকল্পের অনুসন্ধান দিলেও তা দুধের সাধ
ঘোলে মেটানোর মত,প্রচলিত কথা কানা
মানুষের নাম পদ্মলোচন ।
দৃষ্টি শক্তি এমন শক্তি যার মূল্যমান বিচার
করা কঠিন। কারণ জগতের সুন্দর আর
অসুন্দরের প্রতিভূই হল চোখ যা দিয়ে দেখা
যায় নতুবা অনুভব,অনুমান নির্ভরশীল
হয়ে দাঁড়ায় ।
সু-দৃষ্টি আর কু-দৃষ্টি নিয়ে তো কত কথা।
বিশেষতঃ তন্বী,যুবা বা সুনয়নীর দিকে
দৃষ্টিপাত অনন্ত যুগের রম্যরসের পরম
চর্চার বিষয় ।
জীবন অলিন্দে যত ঘটনা ঘটুক না কেন
তা কে কোন দৃষ্টিতে দেখে তার উপর
পরিস্হিতির পর্যবেক্ষণ ,অনুশীলন,সিদ্ধান্ত
গ্রহণ করা হয় ।
এই যে বড়দিন গেল হঠাৎ তাকে অন্য রূপে
কিছু লোককে প্রচার করতে দেখা গেল।
তাদের কাছে ধর্ম প্রধান হল অথচ যীশুর
জন্মদিন মানবতার পূজারী ,ক্ষমার
বাণী যার কাছ হতে শেখা সমগ্র বসুধার ।
আবার দৃষ্টি ধ্বংসের রূপরেখা তৈরী করে।
হাল আমলে ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ
বিশ্বের মানুষের নজর কারলেও আধিপত্য
বজায় রাখার দৃষ্টি জগতের অকল্যাণকর
হয়ে দেখা দেয় ।
শিক্ষাঙ্গনে সরকারে দৃষ্টি বিরূপ হলে সমাজে
কি ক্ষতি করতে পারে তা জলের মত
পরিষ্কার । দৃষ্টিশক্তির উপর নির্ভর করে
সমাজের অনুশীলন ও বাস্তবায়ন ।
পরিশেষে নারীর প্রতি ইরানে যে বৈষম্য চলছে
হিজাব কে কেন্দ্র করে যার ফলশ্রুতি বিশ্বকাপ
খেলার প্রথম দিনে ইরানের জাতীয় ফুটবল
দলের খেলোয়ার তাদের জাতীয় সঙ্গীত না
গেয়ে এমন দৃষ্টি বা নজর কারল যা বিশ্ব
জনমতকে তাক লাগাল ।
কাজেই দৃষ্টি বা নজর যেমন লোভের বশবর্তী
হয় আবার দৃষ্টি বা নজর চোখের বিশালতা
মনের প্রসারতা ঘটাতে সাহায্য করে ।
নারী-পুরুষ দুটি লিঙ্গের অনুঘটক হলেও
পুরুষের আধিপত্য মানবজাতির সহাবস্হানে
দৃষ্টিশক্তির অভাব জনিত কারণে চিরন্তন
ভেদাভেদ ও অত্যাচার ,নিপীড়ন আজও
বহমান। এটা ঠিক উত্তর মেরু দক্ষিণ মেরুর
চৌম্বক শক্তি যতই ক্রিয়া বিক্রিয়া ঘটাক না
কেন দৃষ্টিশক্তি বা নজর যদি সুখকর হয় তবে
অনেক সমস্যার সমাধান হয় যতই ভিন্ন
সত্ত্বা কাজ করুক না কেন~
তাই অমঙ্গল ও মঙ্গলের লড়াই যতই থাক না
দৃষ্টিশক্তি সকল বিষয়ে ভারসাম্য বজায়
রাখতে পারে বলে মনে হয় ।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!