মার্গে অনন্য সম্মান শ্রীস্বদেশ সাধক সরকার (সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার সাপ্তাহিক

সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ৬২
বিষয় – আত্মকথন

নিজের কথা – ঢাক বাজা


নিজের ঢাক বাজান কখনোই অন্যের
হিতকর হইবে ইহা ভাবা কি সমীচীন ,মনে হয়
না ,কারণ কবি বলেছেন “নিজে যারে
বড় বলে বড় সে নয়,লোকে যারে বড় বলে
বড় সে হয় ”,কিন্তু তবুও কেন“ নিজের কথা-
ঢাক বাজা” শিরোনামা তাহার অন্যতম
কারণ,অনন্য সাহিত্য চেতনা সেই চেতনা
প্রকাশে সুযোগের মঞ্চকে হাতে তুলিয়া দিল
ও তাহাতে নিজ গরিমা প্রকাশে সুযোগ লইলে
খুব বড় অন্যায় হইবে বলিয়া মনে হয় না।
জীবন তো চলমান নদীর মত। আর কম
বেশি সব নদীর নাম ডাক সমান কদরের
হয় না। গঙ্গার সাথে যেমন অজয়ের তুলনা
ঠিক নয় তেমনি আবার পদ্মার সাথে তোরসা
ও তাই,অথচ সবাই নদী অর্থাৎ একই ক্লাস
নানান ছাত্র,সবাই ছাত্র তবু রূপে,গুণে,
আচারে আলাদা-তাই নয় কি~
ঠিক তেমনি আমিও। আমার কিছু
আত্মকথন অন্য সবার মতোই আছে বা থাকাই
অস্বাভাবিক কিছু নয় ।
এক গ্রাম। খয়রাশোল। ধূসর,খড়াপীড়িত
লাল মাটির দেশ। তবে সে গ্রামে সাংস্কৃতিক
চর্চা দারুণ। খেলাধুলা,প্রাকৃতিক পরিবেশ
সমাজ,রাজনীতি,লোকগাথা,কুসংস্কার ,
আচার,ধর্ম সবই আছে~অন্য জায়গার
মতই।
সেখানে জন্ম । তারপর পড়াশুনা। চাকরি।
বিভিন্ন এলাকায় বদলি। সাংগঠনিক ও
প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলান।
সমালোচনা,বিরুদ্ধ মতপোষণ ফলে
আবার বদলি। প্রশাসনে উচ্চ পদাধিকারীদের
ভিন্ন মত পোষন করিলেই কষাঘাত,তাহা
সমাজের হিতকর হইলেও জো-হুকুম না
হইলেই বিড়ম্বনা।
সমাজ ও সামাজিকতার ভারসাম্য রক্ষায়
দায়িত্ব পালন ও সচেতনশীল ভূমিকা গ্রহণ।
সর্বোপরি নিজ গ্রামে বালিকা বিদ্যালয় ও
ফাল্গুনী~শৈলজা স্মৃতি মহাবিদ্যালয় স্হাপনে
বলিষ্ঠ ভূমিকা গ্রহণ ও সকলের সাহচর্যে তাহার পূর্ণ বাস্তবায়নে আত্মশ্লাঘার কারণ
থাকা অবশ্যই ঢাক বাজান নয়,শুধুমাত্র
পরিচিতি তুলিয়া ধরিয়া ভবিষ্যতকে তাহার
দর্পণে প্রতিবিম্বত করাই আত্মকথনের কথা~
ইহাতে দোষের ভাগীদার হইতে হইলে হইতে
হইবে ।
গ্রামে শরতের শারদাবকাশে খয়রাশোল
মিলন সংঘে ক্যারম,তাস,দাবা প্রভৃতির
প্রতিযোগিতা ও তাহারর সফলতা আনা ~এক
বিশেষ ভূমিকা । যদিও আমি নাটক,
খেলাধূলায় পারদর্শী নয় কিন্তু সব খেলার
সাথে সঃপৃক্ত থাকা এক বিশেষ গুণ বলিয়া
মনে করা ভুল নয়~কি তাই না!
কাগজে লেখা ছোট হইতেই নেশা থাকিলেও
কখনোই নামজাদা বলিয়া মনে করি না ।
চলিতে চলিতে হাঁটা পথে অনেক নদী,নালা
ছোট পথ,গলি,সরণী অতিবাহিত করিয়া
পড়ন্ত বিকালের ছায়া যখন ঝিঙ্গাগাছে পড়িয়া হলুদ ফুলে প্রতিভাত,তখন অনেক
বন্ধু,বান্ধব ছাড়িয়া চলিয়া গেল,যৌবনের
নদী যখন গ্রীষ্মের দাবদাহে মরীচিকার মত
চিকচিক করিতেছে তখন কে যেন আসিয়া
বলিতেছে~হে অতীত কথা কও,-আস্তে আস্তে
বৃত্ত তাহার সমাপ্তির পথে যোগ সাধনে মত্ত
তখন সহধর্মিণী দীপ্তি কে নিয়ে এখন অবগাহনের পালায় কীর্তন গানের সমাপনীতে
মানভঞ্জনের পালা অতিক্রম করিয়া নৌকা-
-বিলাস যাত্রায় কে কখন কোন সময়ের
যাত্রী তাহা লইয়াই আখ্যান তৈরী করা ছাড়া
আর কিছু তালিকায় বাকি নাই~
পুত্র,কন্যা নাতিরা সবাই এখন মুখরিত~ইহাই
স্বাভাবিক । আনন্দের কথা পুত্র,বৌমা,নাতি
মহাশয়রা একসাথেই ফলত নৈঃশব্দের
কলতানহীন নদী নহে~ইহাই সুখের ও
আনন্দের,মেয়ে জামাই নাতি -তারাও সুখে
~ইহাই পড়ন্ত বিকালবেলার অস্তরাগের
রক্তিম আভার শেষ প্রস্ফুটিত আলোর
বিচ্ছুরণ।
“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””“”””””””””””

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।