গদ্যানুশীলনে সুব্রত সরকার

ইনদিয়া ইনদিয়া

মিশরের একটা সুন্দর শহর আসওয়ান। নীল নদের তীরে গড়ে ওঠা আধুনিক শহর। রিভার ক্রজে লুক্সার থেকে আসওয়ান এসে পৌঁছলাম একটু আগে।

আজ টাঙ্গায় করে শহরটা ঘুরে বেড়াব। নুবিয়ান ভিলেজ দেখতে যাব। তারপর ফিরে এসে ডিনার করব বাইরে।

দলবেঁধে বিদেশ ভ্রমণ। প্যাকেজ টুর। তাই সফরসূচি ও সফর সঙ্গীদের সাথে তাল মিলিয়ে মানিয়ে গুছিয়ে চলছি।

শহরটা ঘুরে এসে টাঙ্গা থেকে নামতেই ছেঁকে ধরল অনেকে। সবাই গরীব গুর্বো মিশরীয় কালো মানুষ। ওরা বলছে, “ইয়ু ইনদিয়া, ইনদিয়া…?”

বুঝলাম ওরা জানতে চাইছে, “তুমি কি ভারতীয়? ইউ ইন্ডিয়া?”

“ওয়ান দলার..ওয়ান দলার..”

ওরা এক ডলার চাইছে!..

মিশরের পথে ঘাটে এমন ‘ওয়ান দলার, ওয়ান দলার’ বলে হাত পেতে ভিখারি অনেক দেখেছি।ওরা নিজেদের কারেন্সি ইজিপশিয়ান পাউন্ড চায় না কখনো!..

আমরা ওদের পাত্তা না দিয়ে এগিয়ে চললাম। দলবেঁধে হৈ হৈ করে হাঁটছি। সামনেই আমাদের রেস্তোরাঁ। গাইড নিয়ে যাচ্ছেন। ওখানে আজ ডিনার। সি ফুড ডিনার আজ আমাদের।

একটা ছোট কালো ছেলে পিছু ছাড়ে নি। পেছনে পেছনে চলে এসেছে রেস্তোরাঁ পর্যন্ত। আমার জামাটা হঠাৎ টেনে বলল, “ওয়ান দলার পিলিজ। এদুকেশন। এদুকেশন।”

বুঝলাম মিথ্যে বলছে। এডুকেশন একটা মায়াবী শব্দ! ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল। দিলাম না ডলার। ঢুকে গেলাম রেস্তোরাঁয়।

খাবারের ডিশ গুলো একে একে চলে আসছে ডাইনিং টেবিলে। সুস্বাদু খাবার দিয়ে সুন্দর করে সাজানো ডিশ। সবাই খুব খুশি। আমারও খুব আনন্দ হচ্ছিল রেস্তোরাঁয় আসার আগে। কিন্তু এখানে ঢুকে হঠাৎ কেমন যেন হয়ে গেল। খাওয়ায় আর মন বসাতে পারলাম না।

রেস্তোরাঁ থেকে বেরিয়ে এসে এদিক ওদিক চোখ ঘুরিয়ে অনেক দেখলাম, যদি দেখা পাই!.. না পেলাম না!..

একটা ডলার পকেটে বাড়তি নিয়ে ফিরে আসার পথে মনে হল, হায় দ্বিধা! সময়ে-অসময়ে তুমি আমাকে কেন এমন নিষ্ঠুর করে দাও!..

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।