ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাসে সমীরণ সরকার (পর্ব – ৮৯)

সুমনা ও জাদু পালক
হূডুকে চুপ করতে দেখে পরী রানীর ঠোঁটে আলতো হাসি খেলে গেল। তিনি বুঝতে পারলেন যে তার কৌশলে হূডু পরাস্ত হয়েছে, বাধ্য হয়েছে তার হাতের জাদু দন্ডের অপপ্রয়োগ বন্ধ করতে।
হঠাৎ রাজা রুদ্র মহিপাল বললেন, আরে, দেব হরিহরের সামনে হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে আছে, যুবকটি কে?
রুদ্রমহিপালের দৃষ্টি অনুসরণ করে সবাই দেখলো, দেব হরিহরের সামনে হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে আছে একটি যুবক। তার পরিধানে বহুমূল্য পোষাক। তপ্ত কাঞ্চনের মতো তার গাত্রবর্ণ।
পরী রানী বললেন, ও দনুজদমন, চন্দ্রদ্বীপের রাজকুমার। ওকেই তো উটপাখি বানিয়ে রেখেছিল হূডু।
এ কথা শুনেই হূডু চিৎকার করে বলল, দনুজদমন কী চিরকাল ওই মাটির মূর্তির কাছে দাঁড়িয়ে থাকবে? ওকে তো একসময় এখানে আসতেই হবে। তখন কী হবে? কে বাঁচাবে ওকে আমার হাত থেকে?
পরীরানী বললেন, যে মঙ্গলময় দেবতা ওকে তোমার জাদুর প্রভাব থেকে মুক্ত করে আসল রূপে ফিরিয়ে দিয়েছেন, তিনি ওকে রক্ষা করবেন।
—— সে সুযোগ আমি ওকে দেব না। আমার জাদু দন্ডের সাহায্যে ওকে আমি এবারে আর পাখি নয়, একটা গাছে পরিণত করব। ও অনন্তকাল এই রাজ্যে একটা গাছ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।
—–তোমাকে সে সুযোগ আমি দেবো না হূডু।
—- তাই?– তাহলে দেখো কী করতে পারি আমি।
কথা শেষ করেই হূডু তার হাতের জাদু দন্ডটাকে
রাজকুমার দনুজদমনের দিকে তাক করে জোরে জোরে মন্ত্র উচ্চারণ করতে থাকল দুর্বোধ্য ভাষায়।
অদৃশ্য কন্ঠ সুমনার কানে কানে ফিসফিস করে বলল, ওই দুষ্টু জাদুকরের হাতের জাদু দণ্ড কেড়ে নিতে না পারলে সমস্যার সমাধান হবে না। তুমি ওটা কেড়ে নাও রাজকুমারী রত্নমালা।
সুমনা নিম্নস্বরে বললো ,একদম ঠিক কথা।কিন্তু ওর হাতের জাদু দণ্ডটাকে আমি কিভাবে কেড়ে নিতে পারি, সে ব্যাপারে আমাকে কোন পরামর্শ দিন হে সর্বজ্ঞানী অদৃশ্য কন্ঠ।
— আমি শুধু তোমাকে বলবো, একটু ভেবে দেখো, তোমার কাছে এমন এক অস্ত্র আছে,যেটা বুদ্ধি খাটিয়ে সুকৌশলে ব্যবহার করলে খুব সহজেই হূডুর হাতের জাদু দণ্ড কেড়ে নিতে পারবে। তবে এ ব্যাপারে বোধহয় রাজা রুদ্র মহিপালের সাহায্য লাগবে তোমার।
—– কিন্তু আমি তো বুঝতেই পারছি না যে , কোন অস্ত্র প্রয়োগ করে হূডুকে নিষ্ক্রিয় করে ওর জাদু দন্ড কেড়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এ বিষয়ে একটুখানি ইঙ্গিত দিন আমাকে হে অদৃশ্য কন্ঠ। অদৃশ্য কন্ঠ আবারও চুপি চুপি সুমনার কানে বলল, তুমি একটু মনে করে সবুজ পাখির দেশের ঘটনাগুলো ভাবো।
সবুজ পাখির দেশের যাওয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত ঘটনাগুলো একে একে ভাবতে শুরু করল সুমনা। আর কিছুক্ষণের মধ্যে তার মনে পড়ে গেল, পাখিদের গায়ের সবুজ রং একেবারেই সহ্য করতে পারেনা জাদুকর হূডু। এই কথাটা সে ওখানে শুনেছিল। শুধু তাই নয়, তার আরো মনে পড়ে গেল যে, সবুজ পাখির দ্বীপের রাজা তার হাতে তুলে দিয়েছিল একটি সুন্দর সবুজ রঙের পাখির পালক ।তবে কী ওটা,ওটা দিয়েই……..?
সুমনা ভাবতে না ভাবতেই অদৃশ্য কন্ঠ আবার তার কানে চুপিচুপি বলল , ঠিক ভেবেছ হে রাজকুমারী রত্নমালা। যাও ,এগিয়ে যাও।
সুমনা এবার মনে মনে সবুজ পাখির দ্বীপের রাজা কে স্মরণ করে হাত জোড় করে বলল, ওই সবুজ পাখির পালক এবার আমার কাজে লাগবে। ওটা এখনই আসুক আমার হাতে।।
সুমনার কথা শেষ হতে না হতেই সেই সবুজ পাখির পালকটি হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে এসে পৌঁছল সুমনার হাতে।
সুমনা রাজা রুদ্র মহিপাল কে বলল, হে রাজন, আমি এবার ওই দুষ্টু জাদুকরের কাছে যাব।
—— কিন্তু কেন?
—— আমার হাতের এই পাখির পালক দিয়ে দুষ্টু জাদুকরকে কিছু সময়ের জন্য দৃষ্টিহীন করে দেবো। আপনি সেই সুযোগে ওর হাত থেকে কেড়ে নেবেন জাদু দন্ড।
—– এটা কী সম্ভব হবে?
—– আমি ওকে সাময়িক দৃষ্টি হীন করতে পারব।
কিন্তু ওর হাত থেকে জাদু দণ্ড কেড়ে নেওয়ার মতো শক্তি আমার হবে না। তাই আপনার সাহায্যের প্রয়োজন।
—- বেশ ,চলো তাহলে।
পরী রানী বললেন, তোমার সাফল্য কামনা করি রাজকুমারী রত্নমালা।
রানী মায়াবতী তার স্বামী রাজারুদ্রমহিপাল ও রাজকুমারী রত্নমালার কল্যাণের জন্য মনে মনে দেব হরিহরের চরণে প্রার্থনা জানাতে থাকল।
চলবে