চৌধুরীদের দুর্গাপুজোর সুখ্যাতি আশেপাশের বহু গ্রাম অবধি পরিচিত। ষষ্ঠীর দিন থেকেই কত মানুষজন আসে — কিন্তু মহাষ্টমীর সন্ধিপুজো দেখতে আশেপাশের গ্রাম থেকে কাতারে কাতারে লোক জড়ো হয়। মা নাকি স্বয়ং বিরাজ করেন পুজোর ক্ষণে। সেই বিশ্বাসেই অনেক দূরদূরান্ত থেকে পূণ্যার্থীরা জমা হয়। তাছাড়া সেদিন উপস্থিত সবাইকে মায়ের প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
এবারও জমজমাট মন্দির প্রাঙ্গন। পুজোর আয়োজন চলছে নিষ্ঠা মেনে, তবু চৌধুরীবাবুর মনটা বড় অশান্ত। ওঁর বৌমাকে আজ সকালেই নার্সিংহোমে ভর্তি করাতে হয়েছে। গত দু’বার গর্ভেই নষ্ট হয়ে গেছে —” মা গো, এবার যেন বংশধরের মুখ দেখতে পাই। “, দু’ হাত জড়ো করে এক মনে মাকে স্মরণ করেন।
“অ্যাই মেয়ে কোথায় চললি — দেখছিস না, মায়ের পুজো চলছে!”, চৌধুরীবাবু দাঁত খিচিয়ে ওঠেন একটা অচেনা যুবতী মেয়েকে নাটমন্দিরে উঠতে দেখে।একটু অন্যমনস্ক হয়েছিলেন, সেই ফাঁকেই অনর্থ ঘটতে চলেছিল। বাকিদের যদি একটু নজর থাকে এসব দিকে।
“ভেতরে যাব গো”, খিলখিলিয়ে হাসতে হাসতে বলে সেই মেয়ে ।
“যা ভাগ, কোথা থেকে চলে এসেছে মায়ের কাছে “, দূর দূর করে তাড়িয়ে দেন।
একটু পরেই গিন্নির দেখা মেলে।
” এবারও বংশরক্ষা হল না গো। খোকা ফোন করেছে — মরা মেয়ে বিয়েইছে বৌমা।”, কাঁদতে কাঁদতে বলে।
“এ কী বিচার তোর মা? এবারও ঘর শূন্য রেখে দিলি?”
নাটমন্দিরে চোখ পড়তেই চমকে ওঠেন চৌধুরীবাবু। আলতার ছাপ স্পষ্ট ঘর থেকে বেরিয়ে গেছে।
উফফফ, বুকের বাঁ-দিকে অসহ্য যন্ত্রণা…
মা যেন হাসছে আর বলছে —” এসেছিলাম তো ।থাকতে দিলি কই…?! “