কবিতায় স্বর্ণযুগে শ্রী সদ্যোজাত (গুচ্ছ কবিতা)

১| মখমলে পাশাখেলা

এভাবে’ই তো প্রতি রাতের প্রেমিক হয়ে উঠি গন্তব্য’কে অস্বীকার করে,
রাত একটা থেকে ভোর চার’টে,
ঘড়ির কাঁটা তখন রাত তিন’টের ঘরে…
ঘোরতর ইচ্ছে হলো নিজেকে দেখার
বিশেষ কোনো কারণ নয় এমনি’ই দেখার,
এই সব উচ্চমার্গীয় দর্শনের কর্ষণ করে নয় সাবলীল ইচ্ছে’কে প্রশ্রয় দিয়ে,
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা একজন সমাজ বিতাড়িত আসামি রূপে …

সংযম সহিষ্ণুতা ভদ্রতা শালীনতা এগুলো কি খুব দরকার ?
একজন উচ্চপদস্থ উন্নত শব্দের কারিগর হতে গেলে,
যদি কেউ জানতে চায় তোমার বুকের আঁচলে কত ওজনের লৌহকপাট লাগানো আছে ?
তোমার সাড়াশব্দহীন ওই তলপেট চোদ্দ হাত শাড়িতে ভারী নোঙর বাঁধতে পেরেছে কতটা ?
তোমার ছিপছিপে সবাক পিঠ ওই ভারী গাঁথুনির কোমরে বসে সরীসৃপের মতন সারাদিন কত রঙের আন্দোলন করে ?
অন্ধকার গাঢ় হলেই সে নরম পশমের এঁটেল মাটিতে এলিয়ে পড়তে চায়….
স্ব-শরীরে তলিয়েও যেতে চায় তার বেশি,

ক্লান্ত নীল নীলচে দ্রাঘিমা রেখাটা তখন বিধ্বস্ত ঘর্মাক্ত হৃদয়’কে অতিক্রম করে আকন্ঠ সরোবর হতে চায়,
কখনো’বা আকাশমুক্ত নদীজল..
আচ্ছা এসব প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা নিরক্ষর প্রেমিক’কে সাক্ষর করে কতটা ?

যে প্রান্তিক শব্দগুলো বিত্তশালী ব্রাহ্মণের দৈবঘরে ঠাঁই পায় না ওরাই কিন্তু তোমাকে লুকিয়ে আঁকে তোমার গর্ভকোণে তোমার’ই গর্ভ কেশরে কেশরে …
ভোর ভোর ওই বাসি চাদরে কাদামাখা আঁচড়ের দাগগুলো দেখে বুঝতে পারো না ?
ওরা কতটা অসহায় তোমার অবর্ণনীয় উপেক্ষার কাছে…

চারকোণের এই পৃথিবীতে জীবনের খোঁজে তল্লাশিতে অনৈতিক জীবন’টাই হয়ে ওঠে ষোলোআনা খাঁটি..
বিন্দু বিন্দু অশুচি রক্তবীজ বপন করে নিজে’ই নিজেকে নিষিক্ত করাটা এক ভীষণ রোমাঞ্চকর স্পর্ধারস,
এ যেন আবর্তনের পাথর বসানো মন্দিরে মন্দ বাসার নিখুঁত মখমলে পাশাখেলা,
নিটোল দুটি ঠোঁটের পিচ্ছিল বিবর্তন…

২| অঙ্গীকার

সম্পর্কে থাকবে নিরলস আলিঙ্গন,
থাকবে সমহারে বিচ্ছেদ সুখী সহৃদয়তা,
প্রতি বছরে গঙ্গায় বিসর্জনের বিশাল হাট বসে,
এতো ভাবছ কেন ?
ভালো লাগা গল্পগুলোকে কত আর সাজিয়ে রাখবে
তোমার আদুরে সিংহাসনে!
প্রায় প্রতি আশ্বিনেই একহাতে ঘটে স্বস্তিকার আগমন অন্য হাতে ঘটে মহা বিজয়ার উল্লাস,
প্রেম যদি ঐশ্বর্য্য হয়,
তবে, অন্তর কিন্তু দাহ্য নয়,
ঘরপোড়া গরদে পঞ্চপ্রদীপটা কিন্তু সর্বনাশের আঁচে কখনোই জ্বলে না এতটুকু,
এটুকুই ধরে রেখো তোমার অর্জিত স্বরচিত পথে বে-পথে
সঙ্গমের মতন দিন রাতের যাত্রাপালাটাও চরম উপভোগ্য বিষয়..
শঙ্কা সংশয় হতে যাবে কোন প্রসাদি দুঃখে?

যত্ন কোণে কোণে মনে রেখো তোমার পরিচিত পথের ভিক্ষুকটা পথের ধুলোকে সমূলে ভোগ করতে পারে,
তুমি কিন্তু অমাবস্যা সাজে আজও অথৈ দোলপূর্ণিমার সিঁদুর পরলেনা!

কোনো এক প্রথম বৈশাখী হয়ে তুমি আসবেই,
মেঠো আল ধরে ধরে কাঁচামাটির সুগন্ধি ভরে ওই আটপৌড়ে সিঁথিখানি ভরে,
রাঙা রাঙা হয়ে তুমি আসবেই এক ভীষণ প্রতীক্ষার প্রলয় সাজে,

সন্তর্পণের রোদ বৃষ্টি আকাশটাতে কোনো ভয় নেই ,নেই কোনো অশনি দূর্যোগের পঞ্চপ্রদীপ,
আছি আমি আছো তুমি
আছে আগামীর বৈভব মুক্ত সবুজ নদীর অনামী সনির্বন্ধ দর্পণ,

ঘরবাঁধার দিব্যি কাটবো না,
তুমি এলো এলো হয়ে বহুক্রোশ পথ হারিয়েছ বহুবার,
এবারের বৈশাখী উঠোনটা তে ফিরে আসার আহ্বানটুক নাইবা সাজিয়ে রাখলাম,

তোমার আমার মাঝের এই স্পর্শহারা নির্জন ব্যবধান,
গোপন নৈঃশব্দকে এভাবেই ছুঁয়ে থাকুক…
শূন্যের পরে অগণিত শূন্য যেমন পূর্ণতার জলছবি এঁকে চলে মোহনার কোল ঘেঁষে,

৩| প্রিয়দর্শিনী_______তোমাকে দিলাম

কোথায় যাবে তুমি ?কেই বা আছে শুনি ?
নেবে তোমায় জড়িয়ে সেই উৎকন্ঠিত অনল প্রেমে !
কল্প অন্তর প্রাপ্তির আশা হয়তো মেটেনি এখনও!
কাব্যসিক্ত প্রেমকে নিয়ে যাও তোমার সাজানো শয়নকক্ষে ,
প্রেমহীন প্রেমের পৃথিবী রয়েছে অপেক্ষারত
তোমার ভেজা ভেজা অন্তর্বাসের সুগন্ধটা নেবে বলে,

কম বাঁকের একটি ছোট্ট নদী ধার হিসাবে পেয়েছিলাম অনেক বছর আগে,
শোধ তো বহু বহু দূর…
সুদ জমে জমে সে আজ অস্ফুটের সাগর বন্যা

আমি আছি বেশ
নিষ্কলঙ্ক বহ্নি সুখের নিশ্চিন্ত আবেগ টা নিয়ে,
গা ছমছমে একটা ভাব যদি পিছু না ছাড়ে
শিহরণের শিহরণটা শিহরিত হয়না,

ধপধপে সাদা পায়রা হয়ে সবটাই উড়ে যাক,
অন্য কোনো বাসায় অন্য কোনো চিলেকোঠায়,
বিশ্বাসটুকু বেঁচে থাকুক ওই উন্মত্ত সাহারায়,

অন্তহীন এই বালুচরে কোত্থাও একটিও বাঁধা ঘর নেই,
সব ঘরগুলো গেছে ভেঙে দূর্যোগের আগেই,
ঘর ভেঙে ঘর যে বাঁধবে,
বলি ঘরটা কই ..???
ঝড়ের আভাসটা কই ??
নিজেকে টুকরো টুকরো করে উপর থেকে নীচ নিশ্চিহ্ন করে দেবে ,
এমন ঘন নিশুতির তুষারপাত কই..!!!!

৪| আমি এরকমই বাউল….

আজকের আকাশটা কেমন রকম মেঘলা যেন,
চিলচিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করে আমি তোর নাই বা হলাম…
তুই শুধু আমার হয়েই থাকবি যত খুশি,
তুই যে আমার ভালবাসা আমার মেঘরোদ্দূর একফালি আশ্রয় বিদিশা..!!

জানিস,পথ চলতি মানুষের ভিড়ে আমি হারিয়ে যাই রোজ .. !!
জানিস তোর গর্ভকোণ ধরে ঝুলে থাকি ঝুলতে থাকি ঝুলতেই থাকি….
তুই তখন নীরব সুখে আরো বেশি নিঃশব্দতা খুঁজে মরিস..
জানি রে জানি তোর গোপন বিলাসগুলো আমার শীতলপাটিতে ভ্রমরের গুঞ্জন তোলে,

তোর পুষ্প কোণে কোণে যদি লাল রঙের আবির খেলতে পারতাম.. !!
ভোর রাতের আকাশ নদীর সঙ্গম দেখেছিস কখনো.. ??
আমি তোর অবাধ্য যীশু, তোকে অভ্যেসে মাখি রোজ,
কেন বুঝিস না,আমারো গভীর প্রেম আছে…
মন নেই এতটুকু কোনোখানে,
যাকে তুই বাঁধতে পারিস তোর উড়ন্ত আঁচলে,

আমি যে নষ্ট বাউল নষ্ট আমার যত যাপন,
আমি যে তোর অবৈধ সারি মুখ ,
আমি যে তোর পোড়া রাঙামাটির
কোমলে কমল রোদবৃষ্টির জারজ যত সুখ….

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।