কবিতায় শম্পা সামন্ত

স্বপ্নে লেখা সংবাদ

মনের সংলাপ লেখো
ডেকে নাও ডাকনাম ধরে ও মনচোর।
পার ভেঙে সরে যাওয়া নারীটির মতো
জলের সাঁতার ধরে গতিপথ ধরে।
তবুও অলীক গৃহ ছেড়ে, কাজ রেখে ধোঁয়া ওঠা ভাতের ভাণ্ড ফেলে চলে গেছ বহমান দিন বিপরীতে হেঁটে।
যদিও কবুল কিনা শোনোনি উত্তর।
কুড়িয়েছি ধুলোয় লুটিয়ে পড়া
অনাদর।
কয়েক দিন এরকম মনে হয়।
মনের রকম বুঝে মন উড়ে যায় জন্মান্তরে।
আবারো কালো শরীর দাও, আবারো
ভাবনায় হয়ে আছে লীন।
তবু ও ভাবনার আড়ালে ভাবনাই চলাফেরা করে।
যেখানে আফোটা ফুলেরা মাথাকুটে মরেছে।
যেখানে ছুঁয়ে আছে আয়ুস্কাল বৃতিসমেত।
জীবনের বয়: সন্ধির মৃতফল।
তুমিও দ্রোহের দিনে ফিরে ফিরে আসো।
মেখে নাও পরাজিত চাঁদ।
সমস্ত প্রত্যাখ্যান, সকল অপমান সরে আলো এসে পড়ে।ভুলে যাই মাতৃশোক, অনুগামী স্বজন দু: খ।
ভেবেছি যা অনন্তর, কবেকার শিলালিপি লিখে রেখে যাও।
তুমি এত পাতা ছড়াও এত পাতা!! অনেক!! এখনো!!
সমস্ত রাত পড়ে আছে দু: খের শব। সৎকারের অপেক্ষায় ঈশ্বর এসে দাঁড়ালে সাক্ষী হল ধূপ দীপ, ধুনো আর শঙ্ধ্বনি।
শ্রীহীন প্রেমের হাতে উহাদের হাত।
নিজেকে সরিয়ে আনি।
মনের ভিতর কখনো জড়ানো সঙ্গীত
ভেসে আসে ওপার থেকে।
তোমাকেই জড়িয়েছি কাণ্ডবৎ ঋজু।
তোমাতেই রেখেছি যন্ত্রণাময় হা হুতাশ।
বৃক্ষময় ছায়ায়।
একবার চূড়ান্ত পুষ্পদণ্ড হই। তারপর
আরো বেশিশন শন বাতাস বইলে
পাতা ঝরুক, আরো পাতা ঝরুক।
আমি নিশ্চুপ মরণ শিখে নিই
জন্মান্তরের।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।