আদালতের নির্দেশেই আমরা দু’জনে এসেছি এই সমুদ্র সৈকতে। আমাদের একটা শেষ চেষ্টা সম্পর্কটাকে জোড়া লাগানোর। মাত্র আড়াই বছরের বিবাহিত জীবনটা ভাঙ্গনের মুখে দাঁড়িয়ে ধুঁকছে। চোখ রাঙ্গাচ্ছে।এই বুঝি ঝুরঝুর করে ঝরে পড়বে !…
মহামান্য বিচারক নিদান দিয়েছেন, “এই শেষবার একটা চেষ্টা করে দেখুন না। ব্যর্থ হলে আমি আপনাদের দু’জনকেই মুক্তি দিয়ে দেব”।
সমুদ্র মুখী ঘর। ভীষণ সুন্দর একটা ঝুল বারান্দা। প্রশস্ত ঘরটা খুব সুন্দর করে সাজানো। এত সুরুচিময় যে মন ভালো হয়ে যায়। ওয়াশ রুমটাও বেশ বড়। চমৎকার সব আধুনিক উপকরণে সাজানো। নেট থেকে দেখে মহুয়া এই হোটেল বুক করেছে। হোটেল, গাড়ি, রেস্টুরেন্ট এসব নিয়ে মহুয়ার খুব নিজস্ব একটা পছন্দ আছে। ও খুব চুজি। আমার আবার ঘোরাটাই আসল। হোটেল, গাড়ি, খাওয়া-দাওয়া নিয়ে খুব একটা বায়নাক্কা নেই। তাই দু’চারবার এসব নিয়ে খুব তাল ঠোকাঠুকি হয়েছে আমাদের। এবার আর ঠোকাঠুকি না করে বরং আগ বাড়িয়ে বলেছি, “তুমি নেট দেখে একটা ভালো হোটেল বুক করে দাও, পেমেন্ট কিন্তু আমি দেব”।
মহুয়া আমার থেকে টাকা নেয়নি। ওর ডেবিট কার্ড থেকে নেট ঘেঁটে এই সুন্দর হোটেলটা বুক করেছে। কাল যখন আমরা দু’জন হোটেলের ঘরে এসে ঢুকলাম, সত্যিই মনটা ভরে গিয়েছিল। তারপর উন্মুক্ত ঝুল বারান্দায় দাঁড়িয়ে দূরের সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে হঠাৎই কেমন হারিয়ে গিয়েছিলাম। সে সময় কখন যে মহুয়া পাশে এসে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে বলেছিল, “কি বাবুমশাই, হোটেল পছন্দ হয়েছে তো?”
আমার বাড়ির নাম বাবু। একমাত্র মহুয়াই আমাকে আদর করে ডাকত, “বাবুমশাই” বলে। সেই ডাক আজ আবার কতদিন পর শুনলাম। মাঝে একবছর আমরা কেবলই ঝাগড়া করেছি। কথা কাটাকাটি করেছি তুচ্ছ তুচ্ছ সব কারণে। অহেতুক দূরত্ব রচনা করে কষ্ট পেয়েছি। আদর, ভালোবাসা, খুনসুটি, সোহাগ সব নষ্ট করে ফেলেছিলাম। আজ এই সমুদ্র সৈকতে এসে নিজেদের ফিরে পেতে যেন দু’জনেই চাইছি। তাই হোটেলের ঝুল বারান্দায় দাঁড়িয়ে হারানো সেই বাবুমশাই ডাকটা হঠাৎ শুনে মনটা কেমন উতলা হয়ে গেল। আবেগ এসে বুকের পাঁজরে থৈ থৈ করে ধাক্কা দিল। আমার খুব কাছে গা ঘেঁষে দাঁড়ানোয় মহুয়া কে কাছে টেনে নিয়ে বললাম, “কতদিন পর তুমি আজ আমায় বাবুমশাই বলে ডাকলে মহুয়া-সুন্দরী!”
আমার বুকের উষ্ণতায় মহুয়া মুখ ডুবিয়ে পাখির মত চুপটি করে থাকল। আজ কতদিন পর আবার আমরা দু’জন দু’জনকে এমন করে আলিঙ্গণে কাছে পেয়েছি। এ বড় সুখের মুহূর্ত। এ বড় ভালোবাসার অনুভব। হৃদয় মন যখন জুড়িয়ে এল, মহুয়া শান্ত সুন্দর হেসে বলল, “তুমিও তো আমায় আজ কতদিন পর মহুয়া সুন্দরী বললে”।
আমি এবার খুব আদর করে ওকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে বললাম, “সত্যিই তো তাই!” তারপর আমার সোহাগের স্পর্শে ওর নরম সুন্দর মুখটা দু’হাতের কোমলতায় তুলে ধরে একটা দীর্ঘ চুম্বন করার ইচ্ছে নিয়ে ওর ঠোঁট ছুঁতে যাব, মহুয়া সে সময় হঠাৎ খুনসুটি করে বলল, “আরে এখানে নয়। ঘরে চলো। ঐ দেখো রাস্তার ধারের ডাবওয়ালাটা কেমন হাঁ করে দেখছে!”
সত্যিই ভ্যান গাড়িতে ডাব বোঝাই করে লুঙ্গি পড়া ছোকরা ডাবওয়ালাটা কেমন ড্যাবড্যবে চোখে চেয়ে আছে। ব্যাটার ডাব বিক্রি তেমন নেই, অন্যের প্রেম-আদর দেখা হচ্ছে। শালা, রাস্তায় বেরিয়ে তোর ডাব আমি খাবই না। বিনা পয়সায় দিলেও খাবনা !…
দুই
চান ঘরে ঝর্নার নীচে দু’জনেই দাঁড়িয়ে আছি। মাথার ওপর ঝরঝর করে ঝর্না ঝরে পড়ছে। সমুদ্র স্নান করে ফিরেছি। দু’জনেই চুটিয়ে সমুদ্রে লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে আনন্দ করেছি। মজা করেছি। আজ সমুদ্রও ছিল প্রেমিকের মত উচ্ছল, উদ্দাম। কি বিশাল বিশাল ঢেউ। সেই জল তরঙ্গে দু’জনে ভেসে ভেসে দূরে চলে গেছি। আবার ফিরতি ঢেউয়ে ভাসতে ভাসতে এসে আছড়ে পড়েছি বালুচরে।
সমুদ্র থেকে হোটেলে ফিরে কে আগে যাবে চানঘরে, তা নিয়ে খুনসুটি করতে করতে আমিই বললাম, “চলো আজ দু’জনেই একসঙ্গে স্নান করি”।
“ঈশ! তুমি অসভ্যই রয়ে গেলে”।
“আরেবাবা, এটা অসভ্য! ধুস। বলি, আজ দু’জনে মন্দ হলে মন্দ কি!”
তারপরই এই চান ঘরের ঝর্নার নীচে চলে আসা। নির্জনতা তো ছিলই, নগ্ন হওয়ার আনন্দও সৃষ্টি হল!
কাল সারাদিন আমরা শুয়ে-বসে, গান শুনে, গল্প করে কাটিয়েছি। একটু ঝগড়াও করেছি একবার। কিন্তু সে ঝাগড়ায় লাগাম পরানো ছিল। অনেক কাঁটা ছেঁড়া করেছি নিজেদের। সব দোষ গুণ নিয়ে চুল চেরা বিচারে যাই নি। শুধু বোঝার চেষ্টা করেছি, বুঝতে চেয়েছি আজও আমরা একে অপরকে সত্যিই ভালোবাসি কিনা! দু’জন দু’জনকে মন প্রাণ দিয়ে চাই কি না। এপথেই সমাধান খুঁজেছি। পৌঁছাতে চেয়েছি একটা নতুন পথের সন্ধানে।
আদালতে দাঁড়িয়ে আমাদের মনে হয়েছিল দূরে সরে যাওয়াই ভালো। এভাবে প্রতিদিন বেঁচে থাকা যায় না। এত দমবন্ধ, এত কষ্টকর সম্পর্ক বয়ে বেরানোর কোনও অর্থ হয়না। বরং দু’জনেই যে যার মত করে বাঁচি।
কিন্তু এখন যেন মনে হচ্ছে একসাথে আমরা আবার বাঁচতে পারি। একসাথে পথ চলতে পারি। কত ঠুনকো, কত তুচ্ছ, কত পলকা গুরুত্বহীন সব বিষয় নিয়ে দিনের পর দিন রাগ-ঝগড়া করেছি। কথা বলিনি। এক বিছানায় শুয়েও মুখ ঘুরিয়ে ঘুমিয়েছি। কেউ কাউকে ছুঁয়ে দেখিনি।
মহুয়া আজ কত সহজ ভাবে বলল, “মা কিন্তু বড্ড শুচিবায়ুগ্রস্থ হয়ে যাচ্ছে”।
“জানি তো’।
“এবার তুমি কাউন্সেলিং করাও। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই চলো”।
“আমাদেরও তো একবার ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত”।আমি হঠাৎই কথাটা বলে ফেললাম।
মহুয়া চুপ। আজ আড়াই বছর আমাদের বিয়ে হয়েছে। যৌনজীবনে অতৃপ্তি নেই। তবু কেন আমাদের মধ্যে ‘সে’আসবে না! কার কোথায় ঘাটতি সেটাতো জানা দরকার।
তিন
হোটেলের ঝুল বারান্দায় পাশাপাশি বসে আছি দু’জনে। দূরের নীল সমুদ্রের দিকে চোখ। কথা হল অনেক। এখন একটু চুপ করে থাকতেই যেন ভালো লাগছে।
হোটেলের সদর দরজা দিয়ে একটা গাড়ি ঢুকল।নতুন ট্যুরিস্ট এল বোধহয়। এই ঝুল বারান্দা থেকে বেশ দেখা যায় রিশেপশন লাউঞ্জ টা। গাড়ি থামতেই ধীরে ধীরে নেমে এলেন দু’জন প্রবীণ নরনারী। তাঁরা পাশাপাশি দাঁড়াতেই ম্যানেজার এসে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানিয়ে একটা ফুলের তোড়া উপহার দিলেন। প্রবীণ দম্পতি মৃদু হাসলেন, খুশি মনে তা গ্রহণ করে কিছু একটা বললেন। তারপর ধীরে ধীরে ম্যানেজারের সঙ্গে এগিয়ে গেলেন।
আমি বসে বসে ভাবছি, নিশ্চয়ই কোনও ভি.আই.পি ট্যুরিস্ট। কিংবা নেতা-মন্ত্রিদের আত্মীয় স্বজন কেউ হবেন।
মহুয়া বলল, “এই হোটেলটা কত বছরের পুরনো জানো?”
“কি করে জানব?” আমি অবাক হয়ে বললাম।
“অনুমান করে বলো”।
“অনেক দিনের পুরনো বুঝতে পারছি। ভেরি রিসেন্ট রেনোভেট করা হয়েছে। সবকিছু ওয়েল মেইনটেন্ড তাও বোঝা যাচ্ছে”।
“রিসেপশন রুমের দেয়ালে হোটেলের খুব পুরনো একটা ছবি আছে। সেখানে দেখেছিলাম সাল তারিখ। তাতে জানলাম, তিপ্পান্ন বছরের পুরনো হোটেল!”
“বলছো কি? ফিফটি থ্রি ইয়ার্স! তিপ্পান্ন বছরের পুরনো হোটেল”।
“হ্যাঁ গো বাবুমশাই, তিপ্পান্ন বছর বয়স হোটেল টার!”
“আশ্চর্য! কি সুন্দর রেখেছে। কত ভাঙ্গা চোরা হয়েছে। রেনোভেট করা হয়েছে। অথচ আজও কি সুন্দর নতুন এর মত লাগছে”।
“লাগবেই তো। যত্ন করতে হয়। যত্ন করা জানতে হয়। যত্ন করে রাখলে সব জিনিসই নতুনের মত সুন্দর থাকে”।
আমি একথার জবাবে কিছু না বলে মহুয়ার দিকে চেয়ে রইলাম। মহুয়াও চেয়ে আছে আমার দিকে। বড় সহজ, শান্ত সুন্দর এই পরস্পরের দিকে চেয়ে থাকা। কলিং বেল বাজল। হোটেলবয় এসে বলল, “লাঞ্চ রেডি। আপনারা আসুন ডাইনিং হলে”।
ডাইনিং হলে নেমে এসে দেখি সেই প্রবীণ দম্পতিও বসে আছেন আমাদের মুখোমুখি একটু দূরের এক টেবিলে।
খাবারের ডিশ গুলো একে একে চলে এল। আজ ফিস কারিতে পমফ্রেট দেখে আমি খুব খুশি হয়ে বলে ফেললাম, “দারুণ তো। সাইজ ও বিরাট”।
সার্ভ করছিল যে ছেলেটি সে বলল, “ম্যাডাম কালও বলেছিলেন, কিন্তু আমরা যোগাড় করতে পারিনি”।
“কি বাবুমশাই খুশিতো!”
পমফ্রেটের প্রতি আমার দুর্বলতার কথা মহুয়া জানে। তাই এই স্পেশাল ডিশ যে ওর ব্যাবস্থাপনায় ঘটেছে জেনে অবাক হলাম। চুপিচুপি ও কখন যে এসব করেছে জানি না! তাই খুশি হয়ে ওর কথার উত্তরে বললাম, “আজ ডিনারে গার্লিক চিকেন ও আইসক্রিম মাস্ট। আমি এখনই অর্ডার করে দিচ্ছি”।
মহুয়া দারুণ খুশি। এই দুটোই যে ওর ফেভারিট !
আমরা খাওয়া শুরু করেছি। প্রবীণ মানুষ দু’জনও খাচ্ছেন গল্প করতে করতে। আমি আড়চোখে ওঁদের দেখতে দেখতে ভাবছি, এই বৃদ্ধ বয়সেও দু’জনে কি সুন্দর বেড়াতে বেরিয়ে পড়েছেন। খুব যে শক্ত সমর্থ চেহারা দু’জনার তা নয় মোটেই। কিন্তু মনে প্রাণে দু’জনেই বেশ ফুরফুরে প্রাণবন্ত।
ম্যানেজার এসে খোঁজ নিচ্ছেন আর কি লাগবে? কোনও অসুবিধা হচ্ছে কিনা? একসময় আমার দিকে চেয়ে হেসে হেসেই বললেন, “স্যার, আই থিঙ্ক ইউ আর এনজয়িং ইয়োর হানিমুন ট্রিপ!” তারপর প্রবীণ দম্পতিদের দিকে চেয়ে আমাদের উদ্দেশ্যে বললেন, “স্যার, সিনিয়র ঐ স্যার ও ম্যাডাম এসেছেন তাঁদের পঞ্চাশ বছরের ম্যারেজ অ্যানিভার্সারি সেলিব্রেট করতে। আরও ইন্টারেস্টিং আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে ওঁরা এসেছিলেন হনিমুনে এখানে, এই হোটেলেই! সে গল্প আমার মালিকের কাছে আমি শুনেছি”।
মহুয়া খাওয়া বন্ধ করে অবাক হয়ে চেয়ে আছে ওঁদের দিকে। আমিও বিস্ময়ে মুগ্ধ হয়ে চেয়ে ভাবছি, পঞ্চাশ বছরের বিবাহিত জীবন! কত সুন্দর তার সেলিব্রেশন। এমন নির্জনে, একান্তে!
প্রবীণ মানুষটা এবার সুন্দর করে হাসলেন। ধীরে ধীরে বললেন, “ইয়ং ম্যান, ম্যারেজ লাইফটা একটা লম্বা ইনিংস। খুব সাবধানে খেলতে হয়। আমরা কিন্তু হাফ সেঞ্চুরি করে ফেলেছি। বাট স্টিল ব্যাটিং। দু’একবার ক্যাচ, এল.বি.ডব্লিউর আবেদন উঠেছিল, কিন্তু আম্পায়ার নামক জীবন দেব তা বাঁচিয়ে দিয়েছেন। সো গো অ্যাহেড। তোমরাও এগিয়ে যাও। এগিয়ে চলো”।
খাওয়া শেষ করে চারজনে একসাথে একটু গল্প হল। ওঁরা দু’জনেই বেশ আলাপী। প্রথমে নাম, কোথায় থাকি, কি করি, সব জানার পর এক সময় জানতে চাইলেন আমার শ্বশুরবাড়ি কোথায়? কত দিন হল বিয়ে করেছি?
আমি সব ঠিকঠিক বললাম। শুধু বিয়ের সালটা পাল্টে দিয়ে তারিখটা একই রাখলাম। তাতে দাঁড়াল, আমাদের বিয়ে হয়েছে মাত্র একমাস উনিশ দিন!
মহুয়া অবাক হয়ে থমকে যায়। আমি হাসতে হাসতেই বললাম, “আপনি কিছু টিপস দিন আমাদের। এতদিন ধরে এই সফল সুন্দর বিবাহ ব্যাটিংটা করে যাওয়ার মন্ত্রটা কি?”
“হাহাহা। ভদ্রলোক খুব হাসলেন। ভদ্রমহিলাও হাসছেন। ভদ্রলোক হাসতে হাসতেই বললেন, “সন্ধেবেলায় আমাদের রুমে এসো। অনেক গল্প হবে। তখন সব বলব” ।
লিফট থেকে নেমে যে যার ঘরে চলে যাওয়ার আগে হাসি বিনিময় করে “ঠিক আছে, দেখা হচ্ছে সন্ধেবেলায়” বলে ঘরে ঢুকে পরলাম। ঘরে ঢুকেই মহুয়া দুষ্টু হেসে বলল “বেশ তো গুল দিয়ে দিলে!”
“দিলাম তো”।
মহুয়া আমায় জড়িয়ে ধরে বলল, “আমরা হানিমুন কাপল! হাহাহা … বিয়ের আড়াই বছর পরও এমন নতুন দেখতে আছি?”
আমিও হেসে বললাম,“ আছি তো মনে হয়। ওঁরাতো তাই বলল। বিশ্বাস ও করল”।
“ভাবতে পারছো ওঁরা পঞ্চাশ বছরের বিবাহ বার্ষিকী সেলিব্রেট করতে এসেছেন!”
“রিয়েলি সুপার্ব”।
“বাবুমশাই, আমরা এমন পারব না!” মহুয়ার দু’চোখে কি অপূর্ব এক আলো।
“এবার পারতেই হবে মহুয়া সুন্দরী”।আমি সে আলোর পথযাত্রী হয়ে বললাম।
বাইরে দুপুরের রৌদ্রে এখন গনগনে উত্তাপ। হোটেলের ঘরে শান্ত শীতল অন্ধকারে দুটো শরীর, শরীর ছুঁয়ে খেলা করল অনেকক্ষণ। যুগল বন্দীর কত রাগ-রাগিণীর পালা সাঙ্গ হল। একসময় তৃপ্ত হয়ে, শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ার আগে আমি বললাম, “সন্ধেবেলায় নিমন্ত্রণ আছে কিন্তু আমাদের! মনে আছে তো?”
মহুয়া হেসে আহ্লাদে বলল, “এমন নিমন্ত্রণ ভোলা যায় বাবুমশাই!” তারপর আমায় জড়িয়ে ধরে বলল, “ফিরে গিয়ে মহামান্য বিচারককে বলব, “আপনাকে অনেক ধন্যবাদ!”