সাপ্তাহিক ধারাসম্পাতে সিদ্ধার্থ সিংহ (পর্ব – ৫৩)

দেবমাল্য

কোথাও না দাঁড়িয়ে হাওড়া থেকে সোজা বহরমপুরে চলে এল ওরা। এমনিতে বেশিক্ষণ গাড়ির ভেতরে বসে থাকলে কিংবা চেয়ারে পা ঝুলিয়ে বসলেও বড়বাবুর পা ভার হয়ে যায়। ফুলে যায়। বেশ কিছুক্ষণ পা ফেলতে পারেন না। কিন্তু আজ এতটা পথ টানা এসেও গাড়ি থেকে নেমেই সব ব্যথা-বেদনার কথা ভুলে গিয়ে হন্তদন্ত হয়ে নার্সিংহোমে ঢুকে পড়লেন তিনি। সব শুনে তাঁর পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছিল। চোখের সামনে সব কিছু ঝাপসা-ঝাপসা লাগছিল। শরীরটা হঠাৎ যেন গুলিয়ে উঠল। মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার আগেই, তাঁকে ধরে ফেলল সামশের আর কারখানার আরও দু’জন ছেলে। তারা তাঁকে ধরাধরি করে একটা চেয়ারে বসিয়ে দিল।

তার অনেক আগেই অবশ্য অপারেশন হয়ে গেছে। একটি গুলি বেরিয়েছে বাঁ কাঁধ থেকে। আর একটি তলপেট থেকে। ডাক্তার বললেন, না, ভয়ের আর কোনও কারণ নেই। তবে আরেকটু দেরি হলে যে কী হতো, বলা মুশকিল। যাক্, ভালয় ভালয় বিপদ কেটে গেছে। এ বার জ্ঞান ফিরলেই হল।

তানিয়ার ফোন দু’-চার মিনিট পর পরই বেজে উঠছে। অপারেশন সাকসেসফুল শোনার পরে সে খানিকটা ধাতস্থ হয়েছে। একটু স্বাভাবিক হতেই তাঁর মনে হয়েছিল, সে একটা মস্ত বড় ভুল করে ফেলেছে। এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেছে এখানে, অথচ সেটা তাঁর বাপের বাড়ির কাউকে জানানোই হয়নি। সঙ্গে সঙ্গে ফোন করেছিল বড়দাকে। বড়দার কাছ থেকে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই জেনে গিয়েছিল বাবা-মা-ভাই। তাঁরা তো কেঁদেকেটে একসা। তাঁরাই এক-একজন খানিকক্ষণ পর পরই ফোন করে খোঁজ নিচ্ছেন, দেবমাল্য কেমন আছে।

এর মধ্যেই বড়দা, ছোড়দা ঠিক করে ফেলেছেন, রাতের ট্রেনেই তাঁরা বহরমপুরে আসবেন। এই কথা শুনে নাকি তাঁর মা-ও আসতে চেয়েছেন। বাবাও। তানিয়া এখন তাঁদের ঠেকানোর জন্য চেষ্টা করছে। ওঁরা যত বারই ফোন করছেন, ও তত বারই বলছে, এখন তো বিপদ কেটে গেছে। যে কোনও সময় তারা হাওড়ায় ফিরে যাবে। শুধু শুধু এখানে এসে ভিড় বাড়িয়ে কী লাভ?
ভোররাতে ফোন বেজে উঠল রাজীবের। — হ্যালো, রাজীব?

গলা শুনেই ও বুঝতে পারল, সঞ্জয়দা ফোন করেছেন। সঞ্জয়দা মানে সঞ্জয় বিশ্বাস। কলকাতা টিভি-র। নিশ্চয়ই কোনও খবর আছে। তাই ঘুম-জড়ানো গলাতেই বলল, হ্যাঁ, বলো।

— কোনও খবর পেয়েছিস?

— কী?

— হোটেলে গুলির কেসটার?

— হ্যাঁ, শুনেছি….

— ও তো এক্সপায়ার করে গেছে।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!