T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় সুব্রত সরকার

চুড়কি মুর্মু
চুড়কি হন হন করে হাঁটছে। মেঠো পথ। আলকাতরার মত কালো অন্ধকার। হাতের আধময়লা কাপড়ের ব্যাগে বই, খাতা, পেন্সিল। বই মানে বর্ণ পরিচয়। বইয়ের প্রথম পাতায় টাক মাথা বুড়ো একটা লোকের ছবি। লোকটার নাম বিদ্যাসাগর!
এবার বিদ্যাসাগরের জন্মদিন পালন হল স্কুলে। তাই জানতে পারল বিদ্যাসাগরের অনেক কুথা।
এই প্রথম ওরা জানল, বিদ্যাসাগর শেষ জীবনে আদিবাসী সাঁওতালদের নিয়ে থাকতেন। ওদের খুব ভালোবাসতেন।
চুড়কি দূর থেকে দেখতে পেল আজ ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। মাঠ থেকে ফিরে গোরুকে গোয়ালে রেখে, ছাগলগুলোকে উঠোনে ঢুকিয়ে, বিটি ছানাটাকে মুড়ি দিয়ে, ঘরে আলো জ্বেলে বেরুতে বেরুতে দেরী হয়ে গেল। মরদ মাঠে নাই। কুথায় আছে চুড়কি জানে না!
চুড়কি হন হন করে হাঁটছে!.. এই সন্ধ্যাবেলার ইস্কুলে চুড়কির মত আরও অনেক সাঁওতাল বউরা পড়া শেখে। লিখা শেখে। টিপ ছাপ ওরা আর দেয় না!..
আজ দিদিরা বকবে। ভয়ে ভয়ে চুড়কি স্কুলের গেট খুলে ক্লাসের কাছে আসতেই দেখল, লগনী টুডু বোর্ডে এসে লিখছে- দূর্গা।…
দিদি মাথা নাড়ল, “হয় নি…সেদিন তো শেখালাম..”
চুড়কি এগিয়ে এসে বলল, “দিদি, আমি লিখব?”
দিদি চুড়কিকে দেরী করে আসার জন্য কিছু না বলেই বলল, “তুমি পারবে?”
চুড়কি কালো বোর্ডটার কাছে গিয়ে লগনীর হাত থেকে চক নিয়ে লিখল- দুর্গা।
দিদি খুব খুশি। সবাই হাসছে।
ওদের মধ্যে থেকে কে যেন বলল, “দিদি ঠাকুর বানানটা আমি লিখব?”
দিদি মুচকি হেসে বলল, ” পারবে? এসো লিখে যাও।”
ফুলমণি সরেন এগিয়ে আসছে!..
সান্ধ্য স্কুলের দুর্গারা আজ নতুন বানান শেখার আনন্দে খুব খুশি!..