গল্পে সঞ্জীব সেন

সিলভিয়া শুধু একটা ফুলের নাম নয়

সব চেয়ে বেশি মানুষ কে চেনা যায় কিভাবে!আমার উত্তর হবে ডায়েরি থেকে যদি সে ডাইরি লেখে আর প্রকাশ্যে আসে, বেশিরভাগ দেখা যায় মৃত্যুর পরে হাতে আসে ডায়েরি আর তখনই বোঝা যায় আত্মহত্যা অনেকদিন আগে থেকেই চেপে বসেছিল । সিলভিয়া প্লাথের উপন্যাস দ্য বেল জার আর কাব্যগ্রন্থ এরিয়েল যদি পরা যায় তবে বোঝা যাবে বিষণ্নতা হতাশা সিলভিয়ার সারাক্ষণের সঙ্গী ছিল ।কিন্তু তারও যুবতী বয়সে তীব্রভাবে বাঁচার ইচ্ছে ছিল , পৃথিবীর সব রূপ গন্ধ নিয়ে, তার লেখা অনুবাদ কবিতা ঈশানী ভট্টাচার্য র লেখা পড়ে বুঝতে পারি যুবতী বয়সেই অস্থিরমনস্ক চিন্তা , ঈশ্বর-বিশ্বাসী ছিলেন না কারণ অল্প বয়সে বাবাকে হারিয়েছেন , মূল কবিতা birthday present এ লিখেছেন,
“ওই ওড়নার আড়ালে কি আছে, কুশ্রীতা না সুন্দর কিছু, ঝিকমিক ঝিকমিক ,স্তন আছে, শরীরী বিভঙ্গ!
আমি জানি একেবারে অন্যকিছু, আমি জানি, এও জানি আমি এটাই চাই।
যখন আমি রান্নাঘরে তখন দুটো চোখ বিধতে থাকে পিঠের উপরে, আমাকে পুড়িয়ে দেয় ওর অনুভবের উত্তাপে
আমি নিজেও কি এই?এই চেনামুখ?
সেই এক নির্বাচন ?চোখের নিচে তমিস্রা, ক্ষতের দাগ,,”
কী হয়েছিল , এই হেলাফেলা জীবন মাত্র ত্রিশ বছরে!the bell jar লিখছেন তখন antidepressant ,ডাক্তার দেখে যাচ্ছে, তারপর একদিন গ্যাস ওভেনে মুখ ঢুকিয়ে দেন তখন কি একটুও কাপিনি ভয়ে! শেষের দিকে সুরিয়েলিস্টিক কবিতা লিখেছিলেন
ডায়রির পাতায় লিখেছিলেন তার তর্জমা করলে দাঁড়ায়”কেউ কি আছ, মে আমায় একটু বোঝ ভালবাস, আমি তোমার সঙ্গী ছিলাম শুধুই মুহূর্ত সুখের। পৌছাতে চাউনি তুমি আমার মনন চিন্তনের কাছে । “ সমসাময়িক কবি জীবনানন্দ আর সিলভিয়া দুজনাই বিষণ্ণ ছিল, একজন লিখেছে ধূসর পাণ্ডুলিপি অন্যজন এরিয়েল।
সিলভিয়ার বিখ্যাত ল্যাডি ল্যাজরস মূল কবিতায়
এই ল্যাডি ল্যাজার্স কবিতার প্রতিটি ছত্রে মৃত্যু আর বিষণ্ণতা ফুটে উঠেছে তার কারণ কী স্বামী টম হিউজের সঙ্গে সেপারেশন !
নারীবাদী পরিচালক স্যান্ডা লাহেয়া চলচিত্র নির্মাণ করে এই কবিতার সথে আরোও চারটে কবিতা ক্যাট, ড্যাডি, এরিয়েল,ওউজা যুক্ত করা হয় ।এটি একটি প্রতিবাদী কবিতাও । শেষের টুকু তর্জমা করলে বোঝা যায়
“ছাইয়ের ভিতর থেকে
লালচুল সহ উঠে আসি
আমি পুরুষ খাই বাতাসের মত”
প্লাথ যতই শেষের দিকে এগোচ্ছিল ততোই তার কবিতায় ডার্ক ইমেজ উঠে আসছিল আগে থেকে ক্লু দিয়ে গেছিল, শুধু তাই নয় তার স্বামীকে ধর্ষক হিসাবে বোঝাতে Jailer কবিতায় মেটাফার ব্যাবহার করেছেন , তাকে শুধু না আত্মাকেও ধর্ষণ করেছেন বোঝাতেই কী the rabit ceacher ব্যবহার করেছেন আর আগেই মৃত্যু প্রসঙ্গে লিখেছেন
I die verity
Hung ,starved, burns,
তার মৃত্যুর তীব্র আকাঙ্খা বোঝাতে ড্যাডি কবিতায় হলোকাস্ট ব্যবহার করেছেন, ড্যাডির চিকিৎসা না নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বলেই মনে হয়েছে, এইরকম একটা মৃত্যু চায় সেইভাবেই মনজগৎ তৈরি হচ্ছে প্রতিদিন , প্লাথ আসলে সারাজীবন ইনসিকিউরিটি তে ভুগেছেন, স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি অসুখী দাম্পত্য জীবন সব কিছু ঘিরে, তাই শেষের দিকে কবিতা গুলো পরলে বোঝা যাবে ইলেকট্রো কমপ্লেক্সে ভোগা একটি মেয়ের মত ।যখন পাগলের মত কবিতা আসছিল তখনই লেখেন এরিয়েল ।
একটি কবিতা
আমেরিকান এই লেখিকা একটাই নভেল লেখেন1963 সালে
বোস্টনে জন্ম হলেও বিয়ের পর ট্রেড হিউজের সাথে লন্ডন পারি দেয় 19 56 সালে
1982সালে মৃত্যু-পরবর্তী পুলিৎজার পান
আর একটা কাব্যগ্রন্থ
আরাকটি বিখ্যাত কবিতা টিউলিপ, আরাকটি উইন্টার ট্রিস
এই টিউলিপ দীর্ঘ কবিতায় ঝরে পরেছে বিষন্নতা আর হতাশা, অভিমান কিভাবে বিশ্ব-জনিতা ছুঁতে পারে তা বর্ণিত আছে এই কবিতায়। 1963 4 th febসুউসাইড ডিসাইট করে সে একটা চিঠিও লিখেছিল ।এর আগে1958 সালের আগস্টে ঘুমের ওষুধ খেয়ে মৃত্যুকে কাছে আনতে চেয়েছিল ।ছ মাস মানসিক হাসপাতালে বন্দী । ফিরে এসে আবার লেখালেখি।মনোবিজ্ঞানী তার ড্যাডি কবিতা বিশ্লেষণ করে দেখেছে ইরেটিকা কমপ্লেক্সে ভুগছে । তবে সে সুখ দুঃখ প্রেম সব এক আবেগেই বোঝাতে ভিন্ন ভিন্ন মেটফার ব্যাবহার করেছেন ।তবে শিশু কিশোর ফিকশনও লিখেছে । ফেভার এন্ড ফেভার , দ্য বেড বুক ।তার কবিতা নিয়ে টম হিউজের কাঁটাছেড়া অন্য মেয়ের প্রেমে পড়া মেনে নিতে পারিনি ।শেষপর্যন্ত 11feb1963 সালে
গ্যাসের নব খুলে মুখ ঢুকিয়ে দিয়েছিল । সারাজীবন টালমাটাল অসুখী এক জীবনের গল্পের মতই সিলভিয়া একটা বিষন্নতার দত্যোক ।
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!