সাপ্তাহিক ধারাসম্পাতে সিদ্ধার্থ সিংহ (পর্ব – ১৪)

দেবমাল্য
ড্রাইভার খেয়াল করেনি। এখানকার রাস্তাটা খুব খারাপ। পিচটিচ উঠে বড় বড় গর্ত হয়ে আছে। কোনও গর্তে বোধহয় চাকা পড়ে গিয়েছিল। গাড়িটা লাফিয়ে উঠতেই ওর তন্দ্রা কেটে গেল। দেখল, রাতের অন্ধকার আস্তে আস্তে ফিকে হওয়ার পথে। ভোর হতে আর বেশি সময় নেই। ভাগ্যিস বেরোনোর সময় মনে করে একটা মিনারেল ওয়াটারের বোতল চেয়ে নিয়েছিল কাউন্টারে বসা ছেলেটার কাছ থেকে। কাঁধের ঝোলা থেকে সেটা বের করে জানালা দিয়ে কুলকুচি করল ও। তার পর খানিকটা জল হাতের তালুতে নিয়ে মুখে ঝাপটা মারল।
ড্রাইভার পাশ না ফিরেই বলল, মুখ ধোবেন? গাড়ি দাঁড় করাব?
দেবমাল্য বলল, না না, চলো। ওদিকে ট্রেন ঢুকে পড়লে মুশকিল হবে।
— লালগোলা তো? হাতে এখনও অনেক সময় আছে। তা ছাড়া কোনও দিনই ট্রেন ঠিক সময়ে ঢোকে না। আমার বাড়ি তো বহরমপুরেই। আমি জানি।
— বহরমপুরের কোথায়?
সে বলল, স্টেশনের কাছেই। কয়েক মিনিটের রাস্তা। হেঁটেও যাওয়া যায়। বাবুলবোনা রোডে।
— ও, আর কতক্ষণ লাগবে?
— এই তো এসে গেছি।
দেবমাল্য অধৈর্য হয়ে জিজ্ঞেস করল, তাও?
— এই… মিনিট পাঁচেক।
— তা হলে বেশিক্ষণ লাগল না, বলো? বলেই, ভূত দেখার মতো লাফিয়ে উঠল ও। গাড়ির হেড লাইটের আলোয় দেখল, একটা হুটখোলা জিপ সামনের দিক থেকে ছুটে আসছে। ড্রাইভারের পাশে কেউ নেই। পেছনের সিটে তানিয়া বসে আছে। পোশাক-আশাক যেন কেমন। উসকোখুসকো চুল। চোখ-মুখ দেখে মনে হয়, একটা ঝড় বয়ে গেছে তার ওপর দিয়ে। বউয়ের এমন অবস্থা দেখে ওর মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল— এ কী!