ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাসে সমীরণ সরকার (পর্ব – ৮৮)

সুমনা ও জাদু পালক

রাজকুমার রোহনের সঙ্গে দেব হরিহরের মূর্তির দিকে প্রাণপণে দৌড়াতে শুরু করলো উটপাখি রূপী রাজকুমার দনুজদমন। ওদের সঙ্গেই প্রায় পাশাপাশি ছুটতে শুরু করল রাজকুমারী চন্দ্রকান্তা।

ওদিকে কুয়াশার জালে বন্দী জাদুকর ওর হাতের জাদু দণ্ড দিয়ে কুয়াশার জাল ছিন্ন করার চেষ্টা করল, কিন্তু পারলো না । আর তাই নিষ্ফল আক্রোশে চিৎকার করে উঠল হূডু, ধ্বংস করে দেবো, শেষ করে দেবো সবাইকে। কাউকে বাঁচতে দেব না।

পরীরানী বললেন, তুমি কিচ্ছু করতে পারবেনা হূডু। শুভ শক্তির কাছে তোমার অশুভ শক্তি হার মানবেই।
——- কে শুভ শক্তি? তুমি না রত্নমালা? রত্নমালা কে একবার আমি শেষ করে দিয়েছিলাম। ও আবার আমার কাছে ফিরে এসে মস্ত ভুল করেছে। ওর বিনাশ হবেই। আর পরীরানী তুমি?
তোমার সব শক্তি তো তোমার ওই মায়া দণ্ড।
ওটা আমি কেড়ে নিয়ে এবার বিনষ্ট করব।‌
—– মিথ্যা আস্ফালন কোরোনা হূডু। আমার হাতের মায়া দণ্ড তুমি কোনদিন কেড়ে নিতে পারোনি আর পারবেও না। মিথ্যা কথা বলে, ছলনা করে তুমি আমার মায়া দণ্ড অপহরণ করেছিল । কিন্তু এখন দৈবশক্তিও তোমার বিরুদ্ধে। তুমি হারবেই।
——- কোন দৈব শক্তির কথা বলছো?
—–দেব হরিহরের। যিনি অগতির গতি আর অসহায়ের সহায়। সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাশ করেন তিনি।

হাঃহাঃ করে উচ্চৈস্বরে হেসে ওঠে জাদুকর। তারপর ব্যঙ্গের সুরে বলে, শেষে ওই মাটির পুতুলের সাহায্য নিয়ে লড়াই জিততে চাও? ধিক তোমাকে পরীরানী, ধিক তোমার শক্তিকে!
আমি কি করতে পারি দেখো এইবার।
কথা শেষ করেই হূডু ওর হাতের জাদু দণ্ডটাকে দুহাত দিয়ে উঁচু করে তুলে ধরে আকাশের দিকে মুখ করে কি যেন মন্ত্র পড়তে শুরু করলো দুর্বোধ্য ভাষায়। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওর হাতের জাদুদণ্ড থেকে আগুনের গোলা বেরোতে শুরু করল। সেগুলো পরীরানীর তৈরি করা কুয়াশার প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করল। সভয়ে পেছোতে লাগল সুমনা, রাজা রুদ্র মহিপাল আর রানী মায়াবতী।

পরীরানী তাঁর হাতের মায়াদণ্ডটিকে জাদুকরের দিকে স্থির রেখে এদিক ওদিক সরে আগুনের গোলার আঘাত থেকে নিজেকে বাঁচাবার চেষ্টা শুরু করলেন। পরীরানী জাদুকরের চালাকিটা বুঝতে পারলেন। তিনি যেই মুহূর্তে ওই আগুনের গোলার হাত থেকে সবাইকে রক্ষা করার জন্য তার মায়াদণ্ডটিকে সরিয়ে নিয়ে অন্য কৌশল অবলম্বন করার প্রয়াস করবেন,সেই মুহূর্তেই কুয়াশার প্রাচীর থেকে মুক্ত হয়ে যাবে হূডু। আর সঙ্গে সঙ্গেই সে তার জাদু দণ্ডের সাহায্যে রাজকুমার দনুজদমনের ক্ষতি করার চেষ্টা করবে। তাহলে উপায়টা কি? ওই আগুনের গোলার হাত থেকে তিনি নিজেকে কিভাবে রক্ষা করবেন আর কিভাবে রক্ষা করবেন বাকি সবাইকে? তিনি ঘাড় ঘুরিয়ে দেখার চেষ্টা করলেন উটপাখি রূপী রাজ কুমার দনুজদমনকে। তিনি দেখতে পেলেন যে ওরা দেব হরিহরের মূর্তির কাছে পৌঁছে গেছে সবাই।
মূর্তির কাছে হাতজোড় করে পাশাপাশি বসে সম্ভবত প্রার্থনা করছে ‌‍ রাজকুমারী চন্দ্রকান্তা আর রাজপুত্র রোহন। না, আর ওদের ক্ষতি করতে পারবে না হূডু। তিনি তার মায়াদণ্ডটিকে
হূডুর দিক থেকে ঘুরিয়ে নিলেন। সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার জাল ছিন্ন হল। হূডু উল্লাসিত হল এই ভেবে যে, তার যাদু দন্ডের সাহায্যে ছোঁড়া আগুনের গোলায় ভয় পেয়ে গেছে পরীরানী। তাই সে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে আরো জোরে, আরো দ্রুততার সঙ্গে আগুনের গোলা নিক্ষেপ করতে শুরু করল।
পরীরানী তাঁর মায়াদণ্ডের সাহায্য এবারে এমন এক শক্তিশালী ঢাল তৈরি করলেন, যাতে ধাক্কা খেয়ে হূডুর ছোঁড়া আগুনের গোলাগুলো তার দিকেই ফিরে যেতে শুরু করলো। বাধ্য হয়ে হূডু
তার জাদুদণ্ডটিকে আকাশের দিক থেকে ফিরিয়ে নিল, বন্ধ করলো জাদু মন্ত্র উচ্চারণ।

চলবে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।