কবিতায় শর্মিষ্ঠা সেন

সহ বাস

তখন ছিল দূরভাষে আলাপন,
যখন তখন।
মনে পড়লেই, “হ্যালো, কোথায় তুই?”
বিকেল, সন্ধ্যা, রাতদুপুর-
অন্তহীন কথোপকথন, অবিরাম শব্দের বৃষ্টি।
তোর শব্দের হাত ছুঁয়ে যেত ঠোঁট,
শুষে নিতে যাবতীয় যন্ত্রণার স্বরলিপি!
আমি চাতক হলেই তুই তৃষ্ণার জল,
তোর অশান্ত আহ্বানে আমার স্বপ্নময় সহবাস।
তারপর…একসাথে অনেকটা সময়।
এখন আমি তোকে ছুঁয়েই সারাক্ষণ।
সকালের ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপের মতো,
বা, চানঘরে সুগন্ধী সাবানের মতো, বা,
নিঃসাড়ে কেটে যাওয়া এতগুলো বছরের মতো..
তোর না দেখা অভ্যাসের ফাঁকে ফাঁকে আমি বেশ থিতু হয়ে গেছি। মিশে গেছি সংসারের আনাচে কানাচে, ছাদে, বারান্দায়, এমনকি আসবাবেও!
বেহিসেবী আমার ‘আমি’ টা বিলিয়ে দিয়েছি অনায়াসে।
তবু…
মাঝে মাঝে শান্ত সমুদ্রে ওঠে ঢেউ,
তছনছ করে দিতে চায় একঘেয়ে দিনযাপন!
ছায়ার সাথে যুদ্ধ শেষে আমার প্রহর কাটে তোর পিঠ ছুঁয়ে গিলে ফেলা কান্নায়।
তোর অজান্তে আমি ক্রমে ক্রমে স্তরীভূত শিলা।
একসময় তোর হয়েই বলি, “কেমন আছিস? আয় তোকে ঘুম পাড়াই।” সাড়হীন আঙুল বিলি কাটে চুলে। ঘুম আসে অনেক দেরিতে!
আবার সূর্য ওঠে। আরেকটা দিন শুরু হয়।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।