সাপ্তাহিক ধারাসম্পাতে সিদ্ধার্থ সিংহ (পর্ব – ৫২)

দেবমাল্য

যারা তখন হোটেলে ছিল, রিসেপশনে বসে ছিল, তাদেরও দফায় দফায় জেরা করছে পুলিশ। কিন্তু এমন কোনও সূত্র এখন পর্যন্ত কেউ দিতে পারেনি, যা তাদের কাজে লাগে। দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করতে সুবিধা হয়। তারা নাকি পিস্তল উঁচিয়ে ঝড়ের বেগে এমনভাবে বেরিয়ে গেছে, তাদের ভাল করে দেখা তো দূরের কথা, দলে ওরা কত জন ছিল, তাও নাকি বুঝতে পারেনি কেউ। আর সব থেকে বড় কথা, যে সিসি টিভি ক্যামেরাগুলো ওখানে লাগানো ছিল, সেগুলো নাকি বেশ কিছুদিন ধরেই বিকল। একটাও কাজ করছিল না। কোম্পানিতে খবর দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আজ আসছি, কাল আসছি করে কেউই আসেনি।

এইসব শুনে সরেজমিনে তদন্ত করতে আসা কোনও এক পুলিশ অফিসার নাকি ইতিমধ্যে মন্তব্য করেছেন, প্রত্যেকটি হোটেলে এ বার থেকে সিসি টিভি ক্যামেরা কাজ করছে কি না, তা হোটেল কর্তৃপক্ষকে নজরদারি করতে হবে। এটা বাধ্যতামূলক। তা না হলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। না হলে, পুলিশ দেখলেই সবাই বলবে, আমি তো তখন ছিলাম না কিংবা কোথায়, আমি তো কিছু দেখিনি। আর এই সুযোগে দুষ্কৃতীরা তাদের কাজ চালিয়ে যাবে। এটা হতে পারে না। এতে দুষ্কৃতীদের খুঁজে বের করা আমাদের পক্ষে কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে। হোক কঠিন, তবু ওদের খুঁজে বের করতেই হবে।

তাই স্টেশন চত্বর, দূরপাল্লার বাসগুমটি, এমনকী যে সব হোটেলে হঠাৎ করে তিন-চার জন ছেলে একসঙ্গে উঠেছে, সে সব জায়গাতেও পুলিশি হানা জারি রইল। কাউকে সন্দেহজনক মনে হলেই তাকে নিকটবর্তী থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলতে লাগল।

এদিকে দেবমাল্যর অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে। নার্সিংহোমে যখন ওকে নিয়ে আসা হল, গুলি লেগেছে শুনেই দু’কদম পিছিয়ে গিয়েছিল নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। তারা বলেছিল, এটা তো পুলিশ কেস। পুলিশ না আসা পর্যন্ত হাত দেওয়া যাবে না।

বোরখা পরা ওই দুই মহিলাকে সবাই চেনেন। চেনেন ওই নার্সিংহোমের কর্তাব্যক্তি থেকে শুরু করে ডাক্তারেরাও। তাঁদের অনুরোধেও কর্ণপাত করল না কেউ। ভাগ্যিস, ওদের পিছু পিছু রাজীব এসেছিল। ও মিডিয়ার লোক। ওকে যেমন অনেকে চেনে, ও-ও চেনে অনেককে। পুলিশের ভয়ে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ এবং ডাক্তারেরা অপারেশন করতে ভয় পাচ্ছে জানতে পেরে, ও সঙ্গে সঙ্গে ফোন করল এস পি-কে। এস পি-র তৎপরতাতেই অপারেশন শুরু হল।

ইতিমধ্যে প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। এমনিতেই গরমকালে রক্তের জোগান কম থাকে। তার ওপরে দেবমাল্যর ব্লাড গ্রুপ আবার ও নেগেটিভ। যা সহজে পাওয়া যায় না। যেন অপারেশন নয়, জমে-মানুষে টানাটানি চলল ওকে নিয়ে।

সামশের ছাড়া কারখানার আরও যে তিন জন যাচ্ছিল, তাদের মধ্যে একজন বলল, আমার রক্ত ও নেগেটিভ।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।