সাপ্তাহিক ধারাসম্পাতে সিদ্ধার্থ সিংহ (পর্ব – ১১)

কেমিক্যাল বিভ্রাট

ও সব মিটে যাওয়ার পরে যখন তাঁর মনে পড়ল হরিহরের বলা সেই কথাটা, উনি তখন হরিহরকে ডেকে পাঠালেন। তাকে বললেন, নিয়েছ, ঠিক আছে। কিন্তু বলে নেবে তো। তা হলে শুধু শুধু খুঁজতে গিয়ে আমার অতটা সময় নষ্ট হত না। তখন সঙ্গে সঙ্গে একেবারে একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে হরিহর বলেছিল, কী বাবু? কী নিয়েছি?

অবাক হয়ে ঔপমানব বলেছিলেন, কেন, আমার মানিব্যাগটা।

— আপনার মানিব্যাগ! আমি! কেন নেব বাবু? আপনি কি আমাকে কিছু কম দেন? যখন দরকার হয়, আপনার কাছে চাইলেই তো পাই…

না, সে দিন হাজার চেষ্টা করেও উনি হরিহরকে দিয়ে আর স্বীকার করাতে পারেননি, খানিকক্ষণ আগে ও যে কথাটা নিজে থেকে এসে বলে গিয়েছিল, সেই কথাটা।

কিন্তু তার পর থেকেই ঔপমানবের মনের মধ্যে বারবার টোকা দিয়ে যাচ্ছিল সেই ঘটনাটা। উনি তো ওকে জিজ্ঞেস করেননি, ও নিজে থেকেই এসে বলেছিল! অথচ ওকে যখন জিজ্ঞেস করলাম, ও তখন অস্বীকার করল কেন?

কেন? কেন? কেন? তখনই তাঁর মনে পড়ে গেল, খানিক আগে তাঁর হাত ফসকে পড়ে যাওয়া টেস্টটিউবের কথাটা। তা হলে কি ওই কেমিক্যালটা পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এমন কোনও বিক্রিয়া ঘটেছিল, যার গন্ধ ছিল নোনতা-নোনতা, স্বাদ ছিল নোনতা-নোনতা, সেই বিক্রিয়া ওর নাকে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কিংবা ওর শরীরের ত্বক ছোঁয়ামাত্রই ওর মনের মধ্যে এমন একটা কিছু ঘটেছিল, যার জন্য হরিহর নিজে থেকে এসে তার অপরাধ স্বীকার করে গিয়েছিল! দোষ কবুল করেছিল!

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।