ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাসে সমীরণ সরকার (পর্ব – ৮৪)

সুমনা ও জাদু পালক
সুমনা দেখতে পেল ,আকাশপথে উটপাখিতে চেপে ভয়াল দর্শন যাদুকর হূডু এদিকে আসছে।হাতে ধরা ওর জাদুদণ্ড। ও এত তাড়াতাড়ি খবর পেল কি করে যে আমরা এখানে আছি?
সুমনা চিৎকার করে উঠলো, সবাই সাবধান, দুষ্টু জাদুকর হূডু
আসছে!
সুমনার কথা শুনে রানী মায়াবতী আতঙ্কিত হলেন। আবার কি তাকে পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে হবে? আবার কি তাকে বিকৃত দেহ হতে হবে ? দেব হরিহরের চরণে মাথা ঠেকিয়ে তিনি প্রার্থনা করলেন, হে দেব,হূডু যেন আমাদের কারোর কোনো ক্ষতি করতে না পারে । ওকে যেন হারাতে পারি আমরা ।
রাজা রুদ্র মহিপাল বললেন, সবাই তৈরি হও, এবার জোর লড়াই হবে। দুষ্টু হূডুকে আমরা পরাজিত করবোই।
অদৃশ্য কন্ঠ বলল, রাজকুমারী রত্নমালা, তোমার কাছে অনেক অস্ত্র আছে। এখানে আসার আগে পথে বিভিন্ন দেশের রাজা ও রানীদের কাছ থেকে যে সমস্ত অস্ত্র পেয়েছ, সেগুলি এখন প্রয়োগ করার সময়। তুমি শুধু একবার অস্ত্রগুলোর কথা মনে করে নাও । তাছাড়া এখন তোমাদের সঙ্গে পরীরাণী তাঁর জাদুদণ্ড হাতে নিয়ে তৈরি আছেন। তোমাদের সঙ্গে আছেন রাজা রুদ্র মহিপাল। উনিও বীর। ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই তোমাদের।
পরীরানী বললেন, জাদুকর হূডু কে উপযুক্ত শাস্তি দেবো আমি।
রাজকুমারী চন্দ্রকান্তা বলল, আমাদের সবুজের দেশকে মরুভূমি করেছে ওই দুষ্টু জাদুকর। ও আমার মা-বাবাকে গাছ বানিয়ে রেখেছে। আমাদের রাজ্যের প্রজাদের অন্যায় ভাবে শাস্তি দিয়েছে। ওর ক্ষমা নেই ।
রাজকুমারী রত্নমালা, আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করব হূডু কে হারাতে।
অদৃশ্য কন্ঠ বললো, রাজকুমারী চন্দ্রকান্তা,
তোমার কাছেও একটা সাংঘাতিক অস্ত্র আছে। তুমি ওই অস্ত্র প্রয়োগ করে নিজেকে একবার বাঁচিয়েছো। হয়তো ওই অস্ত্র আবার প্রয়োগ করতে হতে পারে তোমাকে।
—— সুযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োগ করবো আমি।
ওদের কথা বলার মাঝখানেই জাদুকর হুডু উটের পিঠে চেপে এসে ওদের মাথার উপর দিয়ে চক্কর দিতে শুরু করল। ওর মুখ দেখে বোঝা গেল ভীষণ ক্রুদ্ধ হয়েছে ও।
ও আকাশ থেকে চিৎকার করলো, তুই আবার ফিরে এসেছিস রত্নমালা? একবার তোকে আমি শেষ করেছিলাম, তোর শুভশক্তির বিনাশ ঘটিয়েছিলাম। আজকে আবার আমি তোর বিনাশ করবো।
সুমনা কিছু বলার আগেই পরীরানী বলে উঠলেন, একবার মিথ্যা কথা বলে আর আমার জাদুদন্ড চুরি করে আমায় বন্দী করেছিলে হূডু বহু বছর হলো আমি আমার সাধের পরী রাজ্য ছেড়ে আছি। আর এই সব কিছুর জন্য তুমিই দায়ী। এই কথা আমি ভুলিনি ।অন্য কারুর সঙ্গে লড়াই করার আগে আমার সঙ্গে লড়াই করতে হবে তোমকে।
কথা বলতে বলতেই পরীরানী তাঁর জাদু দণ্ডটাকে জাদুকর হূডুর দিকে তাক করে জোরে জোরে কি সব দুর্বোধ্য মন্ত্র পড়তে শুরু করলেন। পরীরানীর জাদু দন্ডের ভেতর থেকে রক্তবর্ণ উজ্জ্বল আলোর ছটা তীরের মত ছুটে গেল হূডুর দিকে।
হূডু প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তার জাদুদণ্ড থেকে একটা গোলাকৃতি কালো রঙের অস্ত্র ছুঁড়ে দিল। পরীরানীর ছোঁড়া রক্তবর্ণ আলোর তীর গুলো হূডুর ছোঁড়া কালো অস্ত্রটি যেন মুহূর্তেই শুষে নিল। হাঃ হাঃ করে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল জাদুকর হূডু।
চলবে