সাপ্তাহিক ধারাসম্পাতে সিদ্ধার্থ সিংহ (পর্ব – ২৪)

দেবমাল্য
দু’-চার জন বলে উঠলেন, নামবেন তো বসে আছেন কেন? ট্রেন ছেড়ে দিল তো… সত্যিই তখন ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে। কে যেন প্রথম বলল, চেন টানুন, চেন টানুন। তাঁর সঙ্গে গলা মেলালেন আরও অনেকেই। কিন্তু কে যে চেন টানল, তাকে আমি আর দেখতে পেলাম না। ট্রেনেরই কয়েক জন মিলে হাতে হাত লাগিয়ে আপনাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে প্ল্যাটফর্মের বেঞ্চে শুইয়ে দিল। মুহূর্তের মধ্যে লোক জড়ো হয়ে গেল। ভিড়ে ভিড়াক্কা। এ এটা জানতে চায়, সে সেটা জানতে চায়। ভিড় বাড়ছেই। সঙ্গে গাড়ি আছে শুনে, ওই লোকগুলোই ধরাধরি করে আপনাকে আমার গাড়িতে তুলে দিল। আমি কিন্তু আর হোটেলে যাইনি। ওদের ওখানে কী ব্যবস্থা আছে, না আছে আমি জানি না। ওই হোটেলের আশপাশে আদৌ কোনও ডাক্তার থাকে কি না তাও জানি না। বরং তেমন বাড়াবাড়ি কিছু হলে আমার বাড়ির লাগোয়া যে নার্সিংহোম আছে, দরকার হলে সেখানেই ভর্তি করে দিতে পারব। এটা ভেবেই আমি আপনাকে সোজা নিয়ে এসেছি আমার বাড়িতে। ছোট্ট ঘর। অসুবিধে হবে জানি, তবুও…
লজ্জা পেয়ে গেল দেবমাল্য। তাকে কথা শেষ করতে না দিয়েই বলল, না না, এ সব কী বলছ? তুমি যে বুদ্ধি করে তখন ট্রেন থেকে আমাকে নামিয়েছিলে, সেটাই তো অনেক… না হলে যে কী হতো!
— আপনি ট্রেনে উঠে বউদিকে দেখেননি, না?
— বউদি!
— আপনি তো বউদিকে খুঁজতেই ট্রেনে উঠেছিলেন…
শব্দ নয়, কেউ যেন লোহার রড দিয়ে প্রচণ্ড জোরে একটা বাড়ি মারল তার মাথায়। বিদ্যুৎ ঝলসে উঠল প্রতিটি শিরা-উপশিরায়। ঝট করে বিছানায় উঠে বসল সে। রোগ নয়, শরীরকে কাবু করে মন। মন যখন চঞ্চল হয়, বেমালুম ভুলে যায় শরীরের যাবতীয় জ্বালা-যন্ত্রণা। দেবমাল্যও ভুলে গেল। প্রথমেই জিজ্ঞেস করল, তানিয়া কোথায়?
ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল রণো। তানিয়া যে একটা মেয়ের নাম, সেটা সে জানে। কিন্তু ওই নামে কস্মিনকালেও সে কাউকে চিনত না, এখনও চেনে না। তাই ফিসফিস করে সে-ই বরং উল্টে জানতে চাইল, তানিয়া কে?
— আমার বউ।