কেন্দ্রীয় সরকারের জলসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত একজিকিউটিভ ইঞ্জিনীয়ার (মেকানিক্যাল।) যিনি দীর্ঘকাল ফরাক্কা ব্যারাজ প্রজেক্ট এবং পুণের কেন্দ্রীয় জল ও শক্তি গবেষণা কেন্দ্রের সাথে যুক্ত ছিলেন। অবসর জীবনে লেখালিখি করেন। পদ্য ও গদ্য সাহিত্যের ওনার কয়েকটি বইও আছে।
তিন নম্বরের তিনি
কাল সন্ধ্যা থেকে পিসির শরীরটা ভালো নেই, চুপচাপ শুয়ে আছে আর মোবাইল ফোনটা নিয়ে খুটুরখাটুর করে যাচ্ছে। রাতে খেতে চাইছিল না, বলছিল পেটটা ঢাস হয়ে আছে খিদে নেই। বাবা পিসিকে বলল, – ‘রিকি, যতটুকু পারিস খা, নইলে পেটে পিত্তি পড়বে।‘
পিসি বাবার কথা শুনে অল্প একটু খেল, খাওয়া শেষ হলে বারান্দায় গিয়ে একটু পায়চারী করে জেলুসিলের বোতলটা থেকে মুখে খানিকটা ঢেলে জল খেয়ে শুয়ে পড়ল।
বাবা কালই ট্যুর থেকে ফিরেছে, আজ রেস্ট। পিসির আর আমার কলেজ স্কুল তো সেই মার্চ মাস থেকে বন্ধ, তাই আজ সকালে সবাই দেরি করেই ঘুম থেকে উঠেছি। বাবা মা পিসি আমি সবাই জলখাবার খাচ্ছি, বাবা পিসিকে জিজ্ঞেস করল, – রিকি শরীর ঠিক আছে তো?
– হ্যাঁ দাদা এখন একটু ঠিক লাগছে। কাল রাতে ঘুম আসছিল না, বার বার উঠে জল খেয়েছি আর এ ঘর ও ঘর পায়চারী করেছি। জানিস দাদা, কাল রাতে আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম।
– কি হয়েছিল, ভয়ের স্বপ্ন দেখেছিস ?
– না দাদা, ঘুম হচ্ছে না দেখে চোখে মুখে জল দিয়ে একটু বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম, ঘরিতে তখন রাত আড়াইটে, রাতের বাইরেটা দেখছি এমন সময় দেখি কিনা, – আমাদের সামনের রাস্তার বাঁদিকের তিন নম্বর বাড়িটা থেকে একজন মহিলা, চেহারাটা বেশ ছোটখাট, সাদা সালোয়ার কামিজ পরে এদিকে আসছে। এত রাতে একা একজন মহিলা কোথায় যাচ্ছে দেখে কৌতুহল হল, আমি দাঁড়িয়ে রইলাম উনি কোথায় যায় দেখব বলে। দেখি সে সোজা আমাদের দিকে এসে বাঁ দিকে বা ডান দিকে না গিয়ে রাস্তার এপারে এসে আমার সামনে দাঁড়িয়ে পড়ল। আমি ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি ঘরে ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে জানালার আড়াল থেকে দেখলাম খানিক্ষণ এদিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে সে আবার ফিরে গিয়ে ঢুকল ঐ তিন নম্বর বাড়িটাতে যেখান থেকে বেরিয়েছিল। আমি ভয়ে তাড়াতাড়ি বিছানায় চাদরের তলায় ঢুকে শুয়ে পড়লাম। তারপর শেষ রাতের ঠাণ্ডা হাওয়ায় কখন ঘুমিয়ে পড়েছি।
– তোর পেট গরম হয়েছিল, কুকুরটুকুর কিছু দেখে তুই ভয় পেয়ে গেছিস। অত রাতে কে এদিকে আসবে?
আমরা চা খাচ্ছি এমন সময় জানালা দিয়ে দেখি একটা শববাহী গাড়ি এসে ঐ তিন নম্বর বাড়িটার সামনে এসে থামল। রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে এক একটা কাজের মাসী শববাহী গাড়িটাকে দেখে কাকে যেন বলছে, – ঐ বাড়ির তিনতলার ফেলাটের বেঁটে বুড়িটা, তোমরা দেখেছো গো, রোজ সকালে সাদা সালোয়ার কামিজ পরে হাঁটতে যেতো, কাল রাতের বেলা চলে গেল।