মুক্তগদ্যে শুভশ্রী সাহা

গান ভালোবেসে গান

মধুর তোমার শেষ যে না পাই ওগো
মধুর তোমার
প্রহর হলো শেষ ভুবন জুড়ে রইল লেগে আনন্দ আবেশ!!
গান হৃদয় থেকে উৎসারিত তার ই মর্ম বাণী। নিজের গায়কি হোক বা অনুসরণ করেই হোক না কেন গান শ্রুতিশ্রাব্য হওয়া যতটা জরুরী বাণী প্রধান ভাবে যাওয়াও জরুরী। রবীন্দ্র সংগীতের উপর থেকে বিশ্বভারতী কপিরাইট উঠে যাবার পর থেকেই শুধু সুর নয় বাদ্যের আধিক্যে গান চাপা পড়ে গেছে। লোক সংগীত বা অনান্য সংগীত তার বানীর সাথে সুরের চলন এবং বাদ্যের গমনের যে অনুমতি দেয় ঠাকুরের গানে কি সেই অবকাশ আছে? যে বাণী অন্তর ইন্দ্রিয়ের চেতনার দ্বার রোজ রোজ আমাদের মেলে দেয় সেই গান হৃদয় নিঃসৃত হওয়ায় যুক্তিযুক্ত। সুধীজন প্রশ্ন করতেই পারেন, তাহলে কি রবীন্দ্রসংগীতে তাল বাদ্য নিষেধ? কখোনোই নয় কিন্তু পরিমিত বোধ প্রয়োজন। হৃদয় আমার প্রকাশ হলো অনন্ত আকাশে, বলার সাথে সাথেই যে আলোয় আলোয় আমরা জারিত হই,সেখানে কৃত্রিম ধ্বনি কতটুকু প্রয়োজন! জীবন পাল্টাচ্ছে, পাল্টাচ্ছে সময়, প্রজন্ম রুচিবোধ ও। সময়ের সাথে নিজেকে পরিবর্তন করতেই হয় এতো সত্য অনুধাবন। শহরে বসে আশ্রম কন্যাদের নিবেদন কোথায় পাওয়ায় বা যাবে, বা শ্রোতাগণ কত টা গ্রহণ করবেন সেও বিচার্য। পরিবেশন অবশ্যই রাঁধুনির উপর নির্ভর করে। তাই গান কেমন করে গাইবেন তা গায়িকাই জানেন। যে গানই হোক না কেন, ভালোবেসে গান। যে গানের যে অঙ্গ, যে অভিব্যক্তি, যে রুপ তাকে সেই ভাবেই সাজালে সব গান ই শ্রুতিশ্রাব্য ও মনোগ্রাহী হতে বাধ্য। রোদ্দুর রায়রা সমঝে যাবেন। বসন্ত উৎসবের আনন্দ আবার ফিরবে বাঙালীর রঙচটা জীবনে। সব গীতি পরীক্ষামূলক নয়, কিছু গীতি জীবনের দিক নির্দেশ করে হর্ষ বিষাদ আনন্দে আমাদের ছায়া দান করে গায়ক গায়িকাকে বুঝে উঠতে হবে , তবেই আপনি সার্থক শিল্পী। গান গাইলে বুঝে নিয়ে ভালোবেসেই গাইতে হবে। যে কোনো রবীন্দ্র সংগীত। নিবেদনেই যেন গানটির উৎস শ্রোতা মন পর্যন্ত পৌছায়
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।