ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ৬০

ফেরা

নির্মলদার সাথে কথা বলে বেশ ভালো লাগলো। আমাকে প্রথমেই উনি জিজ্ঞেস করে নিলেন, একা যাচ্ছি, কোনো সিংগল রুম চাই কি না। আমি বললাম না তার কোনো দরকার নেই। তখন বললেন যে একটা কাজ করা যেতে পারে। এজেন্সির যারা নিজস্ব লোক, যেমন ম্যানেজার, কুক এনারা এক সাথে দল বেঁধে থাকেন। আমি তাঁদের সাথে থাকতে পারবো কিনা। হাজার হোক আমি ট্যুরিস্ট। বললাম কোনো আপত্তি নেই। আমি সবার সাথে দল বেঁধে থাকতেই পছন্দ করি। নির্মলদা খুব খুশী হলেন। বললেন, ম্যানেজার ছাড়াও ওনার ছোটো ভাই ডাবলা, যে কিনা অংশীদার এজেন্সির, সে ঐ ট্রিপ হেড করবে। আমি তাদের সাথেই থাকবো। বস্তুত, সেই ভ্রমণ শেষে আমি ঐ দলের ফ্যামিলি হয়ে গেছিলাম, পরে ওদের সাথে আরো ঘুরেছি, তবে সে অন্য গল্প।

কথা বার্তা সারা হলে, টাকা পয়সা ফুল পেমেন্ট করে বাড়ি ফিরলাম। এখন বাড়ির লোক আমি সবাই নিশ্চিন্ত। আস্তে আস্তে দিন গড়াতে লাগলো। জিনিস পত্র কেচে রেডি করা, আরো কিছু টাকা লাগলে তার ব্যবস্থা করা চলতে লাগলো সব কিছুই। এর মধ্যে আমার মাথায় এলো অন্য চিন্তা।

আমার মায়ের কাজ বাবা করে গেছিলো। বাবার কাজ করবো আমি। কিন্তু এই কবছরে, আমার মাসী, মেসো, মামা মামী সবাই পরলোকগমন করেছিলেন। আমি জানতাম আমার মামাতো ও মাসতুতো দাদা, এই ব্যাপারে বিশ্বাস করে না, তাই ওরা অদূর ভবিষ্যতেও ওনাদের উদ্দেশ্যে পিন্ড দান করবে না। আমি নিবেদন করলে কেমন হয়?? আমার দাদুকে সেই কথা জানাতে, দাদু বললেন যে খুব ভালো প্রস্তাব, কিন্তু যারা মুখাগ্নি করেছে তাদের পারমিশন লাগবে। তারা রাজি হলে পিন্ড দানে কোনো বাধা নেই। দুই দাদার সাথে কথা বললাম। দুজনেই সানন্দে রাজি। মামাতো দাদা এও বললো যে সে না মানলেও, মামা, মামী মানতেন, তাঁরাই বোধ হয় মনে মনে চেয়ে আমাকে দিয়ে কাজটি করিয়ে নিচ্ছেন।

খুব ভালো লাগলো। আমার কাকিমার মা দিদাও বললেন যে আমি যেন দাদুর কাজ ও সেরে আসি। উনি ছাড়াও কাকিমা ও তাঁর বোনেরা(ওঁদের ভাই নেই) আমাকে ছাড়পত্র দিলেন। সবার আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে দেখতে দেখতে যাবার দিন এগিয়ে এলো কাছে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।