ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ৭৬

ফেরা

রামওয়াড়া ছাড়িয়ে এগিয়ে চললাম। আর বেশ কিছুটা গেলেই কেদারনাথ ধামের বেস পয়েন্ট। ঘোড়া ততদূর অবধি যাবে। আর দেড় কিমি অবধি গেলেই মন্দির, আর তার পাশেই ভারত সেবাশ্রম সংঘে রাত্রি বাস। ঘোড়ার পিঠে বসে সাত বছর আগের স্মৃতি রোমন্থনে ব্যস্ত ছিলাম বেশ অনেকক্ষণ, হঠাৎই জয়ধ্বনি শুনে চটকা ভাঙলো।
জয় বাবা কেদারনাথ।
চোখ তুলে তাকাই। এক জায়গায় দাঁড়িয়ে অগনিত যাত্রী, চোখ তাদের এক দিকে। ঝকঝকে আকাশ, খন্ড খন্ড মেঘ, আর তার সামনে দৃপ্ত ভাবে দাঁড়িয়ে কেদারনাথ মন্দির। বুঝলাম দেও দেখনী পৌঁছে গেছি। এখান থেকে মন্দির দেখা যায়, পথের বাঁক ঘুরলেই আবার অদৃশ্য। ফের দেখা পাওয়া যাবে কেদার গ্রামে পৌঁছে।
এক লাফে ঘোড়া থেকে নামি। যাত্রীদের সাথে গিয়ে দাঁড়াই, প্রণত হই মহাদেবের উদ্দেশ্যে। আর বেশী দূর নেই, প্রায় পৌঁছে গেছি। ঘোড়ার পিঠে উঠতে যাবো, নাম ধরে ডাক শুনতে পাই। ডাবলাদা। আরেকটি ঘোড়ার পিঠে বসে হাসছে। দলের বাকিরা এখনও বেশ পিছিয়ে। বাকি রাস্তা আমি আর ডাবলাদা গল্প করতে করতেই পথ চলি। কেদার গ্রামের বেস পয়েন্ট আসে, ঘোড়া ও সহিসের থেকে বিদায় নিয়ে এগোবো ভাবি। ডাবলাদা বলে, তুমি তো রাস্তা চেনো, একটু দাঁড়াও। কয়েকজন আসলে নিয়ে এসো। আমি সংঘে গিয়ে ঘর খোলাই। অগত্যা। ডাবলাদা এগিয়ে যায়, আমি এককাপ চা হাতে পাথরের উপর বসি। ঝকঝকে আবহাওয়া, লোকজন যাতায়াত করছে। তাকিয়ে থাকতে বেশ লাগে। এমন সময় চোখ চলে যায় আকাশের ঈশান কোণে। চমকে উঠি।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!