ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ৬৩

ফেরা
বাইরে তখন কুয়াশা মাখা ভোর। দলের ঠাকুর সবাইকে বেড টি দিতে এসে একবার করে জানালো ঠিক আটটায় বাস ছাড়বে। তাড়াতাড়ি স্নান সেরে ব্যাগ প্যাক করে হোটেলের বাইরে এলাম। ঠিক আটটাতেই বাস ছাড়লো।
পিছনে পড়ে রইলো হরিদ্বার শহর। টাঙা, গাড়ি সব কিছুর ভিড় কাটিয়ে হাইওয়ে ধরে মসৃণ গতিতে ছুটে চললো আমাদের বাস। জানালার ধারের একজোড়া উৎসুক চোখ খুঁজে পেতে চাইলো সেই পুরনো চেনা রাস্তা কে। প্রথম দাঁড়ানো ঋষিকেশে। টি ব্রেক। ঘড়িতে তখন নয়টা দশ পনেরো। চা আর নোনতা বিস্কিটে খানিক আড্ডা মেরে আর প্রাণভরে নানা রকম লোক দেখে আবার বাস যাত্রা।
চলেছি তো চলেছি। আস্তে আস্তে দৃশ্যপট বদলাতে থাকে। পাহাড় চড়তে না চড়তেই একরাশ শীতল হাওয়া, মন কে চাঙ্গা করে। পাকদন্ডি বেয়ে বেয়ে বাস এগিয়ে চলে। কখন চোখ লেগে গেছে জানিনা, ঘুম ভাঙে এক কাকিমার ঝাঁকুনিতে।
এসে গেলাম নাকি ?
দুর পাগল বারকোট পৌঁছতে বিকেল। আমরা লাঞ্চ খাবো না? চল নীচে।
বাস ছেড়ে নীচে নামি। একটি বেশ বড়ো মন্দির। তার প্রশস্ত চাতালে ছোটো গ্যাস উনুনের সাহায্যে হরিদ্বার থেকে রান্না করে আনা গরম করা শেষ। মন্দিরের কলে গিয়ে মুখ ধুই। ঠান্ডা জলের স্পর্শে ঘুম কোথায় পালিয়ে যায়।
শালপাতার প্লেটে, ভাত ডাল আলু বেগুন ভাজা, পনীর আর চাটনি। পেট ভরে খেয়ে আবার বাস। চলতে থাকি পাহাড়ি পথ বেয়ে। সন্ধ্যা ছটা নাগাদ বারকোট এসে পৌঁছোই। যমুনোত্রীর আগে শেষ বড়ো শহর। একটু প্রাচীন, কিন্তু পরিস্কার। আজ রাত কাটিয়ে পরদিন ভোরে ছোটো গাড়ি ধরে হনুমান চটি। গাড়ির রাস্তা শেষ।
ব্যাগ পত্র নিয়ে হোটেলে ঢুকি। তখনো জানি না, কি বিস্ময় অপেক্ষা করছে আমার জন্য হোটেলে।।