ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ১৫

দুই পা ফেলিয়া
২৬ জানুয়ারির সকাল। দেউলটি যাবো বলে রাইডিং পার্টনার কে আনতে গেছি। হঠাৎ করেই পিং এলো হোয়াটসঅ্যাপে। ও প্রান্তে ভাতৃ প্রতিম Srijib । দাদা মনে আছে তো? তোমার সাথে লং ড্রাইভে যাবো। ঠিক ঠিক, ও বলেছিলো বটে, আমি এ খেয়াল সে খেয়ালে ভুলে মেরে দিয়েছি। কবে যাবি জিজ্ঞেস করায় বললো রবিবার অর্থাৎ ৩১/০১/২০২১। বেশ কথা। কোথায় যাবি? বললো আন্দুলপোতা। সে আবার কোথায়? উত্তর এলো তুমি আজ ঘুরে এসো, তোমাকে একটু পর জানাচ্ছি। বেশ, তাই হবে বলে সেদিন বেড়িয়ে গেছিলাম, ঘুরে এসেছিলাম ক্ষীরাই থেকে।
আন্দুলপোতার লিংক পাঠিয়ে ছিলো শ্রীজীব। দেখে চমৎকৃত হয়েছিলাম। কদিন আগে গুগলে বাংলাদেশের এক জায়গার ছবি দেখে ব্যপক লেগেছিল। জলাভূমি, মাঝে পিচঢালা রাস্তা। আন্দুলপোতা ও এক ই, খালি এই জায়গার বিশেষ স্বীকৃতি নেই। প্ল্যান রেডি হয়ে গেল। এই সময় আমাদের টিমে যোগ দিল আমার আপন মামাতো দাদা মিংকা( Subhajit Roy Choudhury ) । আমরা সবাই তাকিয়ে থাকলাম রোববারের দিকে।
গতকাল ভোর ছটা নাগাদ বেরিয়ে দাদাকে ওর গল্ফ গ্রীনের বাড়ি থেকে তুলে যখন আমরা মিট করলাম রুবির সামনে, তখন ঠিক সাতটা। শ্রীজীবের এটাই প্রথম লং, সে তো গো প্রো ক্যামেরা ও লাগিয়ে নিয়ে এসেছে। আমরা বেরিয়ে পড়লাম অজানার উদ্দেশ্যে। বাসন্তী হাইওয়ে দিয়ে পথ, রাস্তা ভালো, কিন্তু অজস্র স্পিড ব্রেকার। মৃদু মন্দ চালিয়ে, চা সিগারেটের বিরতি নিয়ে, একজায়গায় পেটাই পরোটার জমজমাট ব্রেকফাস্ট খেয়ে যখন মালন্চ পৌঁছে গেলাম তখন সকাল ৯.৪৫।
এখান থেকে ভেদিয়া হয়ে আর ১৫ কি মি বাকি। কিন্তু এবার ঘনিয়ে এলো বিপদ। ভেদিয়া অবধি রাস্তা বাজে, খানা খন্দে ভর্তি। চাকা স্কিড করে স্কুটি উল্টে পড়লো শ্রীজীব। গ্লাভস থাকায় আঙুল ভাঙেনি, কিন্তু ফুলেছে,ব্যথা ও আছেই, তারপর ঘাবড়ে ও গেছে খুব। হাতে স্প্রে করে, পেন কিলার খেয়ে ও উঠে বসলো আমার বাইকে, দাদা চালালো ওর গাড়িটি। আর আধ ঘন্টার মধ্যেই আমরা পৌঁছে গেলাম গন্তব্যে।
অসাধারণ জায়গা। জল আর সবুজ চারদিকে। আমরা আল পথ বেয়ে চলে গেলাম ভেড়ির মধ্যে। ছবি তোলা, ভিডিও কল সব হলো। নিস্তব্ধতা ও ফ্রেশ অক্সিজেনে মন প্রাণ ভরে আমরা চুপ করে বসে থাকলাম, মন চাইছিলো না ফিরে যেতে, কিন্তু ফিরতে তো হবেই, তাই না?
মার্চে আমরা হয়তো আবার বেরবো। কোনো বাইকার চাইলে আমাদের সাথে আসতে পারেন।
নীচে কয়েকটি ছবি দিলাম, আমার তোলা, মোবাইলে। ক্যামেরার ছবিগুলো পরে আপলোড করবো।
ভালো থাকুন, ভালো রাখুন।