ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ৭০

হর হর গঙ্গে…
সামনে দীর্ঘ দর্শনের লাইন। পাশের দোকান থেকে ডালা কিনে দলের বাকিদের সাথে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি। মোটামুটি দর্শন পুজো মিলিয়ে ঘন্টাখানেক লাগবে।
ও বাবু, ঐইই।দলের এক কাকিমা। আমাকে বলেন লাইন রাখতে। উনি যাবেন আর আসবেন। কোথায় যাচ্ছো, জিজ্ঞেস করাতে কিছু বলেন না, শুধু হাসেন। বেশ কথা, ওনার জন্য লাইন রেখে দি। দূরে চোখে পড়ে বিড়লা অতিথি নিবাস। আগের বার ওখানে আমরা উঠেছিলাম। সেই বারের কথা, বাবার কথা মনে আসে। চোখ কখন ঝাপসা হয়ে যায়, বুঝতেই পারিনা।
নে আমি এসে গেছি। কাকিমা ইজ ব্যাক। ঝকঝকে হাসছেন। এক পান্ডাকে ম্যানেজ করে একডুব মেরে এসেছেন নদীতে। ঠান্ডা লাগেনি? একদম নয়। উল্টে শরীর পুরো ফিট লাগছে। খুব ভালো লাগলো শুনে।
একসময় পুজো সারা হয়। গাছের নীচে ভাত ডাল তরকারি খেয়ে বাসে উঠি। এবার আবার নেটালা যাবো। আজ রাত থেকে কাল যাত্রা শোনপ্রয়াগের উদ্দেশ্যে।
শেষবারের মতো নদী ও জনপদের দিকে তাকাই। আবার প্রনাম করি। মনে মনে বলি, তাহলে এসেছিলাম। কোনো এক সময়ে, আবার ফিরবো।।