ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ৯৪

ফেরা

শুধু বেড়াতে গেলেই তো হবে না, ভালো ভালো কিছু ছবি তুলে সেগুলো কে ধরে রাখতে হবে তো। আমার, শতাব্দীর আর অনিন্দিতার তিনজনের প্রোজিউমার ছিলো, এবার দরকার হয়ে পড়লো একটি ডিএসএলআর ক্যামেরার। অনেক পড়াশোনা করে, একে তাকে জিজ্ঞেস করে একখানা নিকন ডিএসএলআর কেনা হলো শতাব্দীর জন্য। আমার এক পরিচিত দাদা অবিন, যে খুব ভালো ফটোগ্রাফার সানন্দে দায়িত্ব নিল, সব কিছু শেখানোর। অবিনদা আগেই লাদাখ ঘুরে এসেছে, ঐ সংক্রান্ত কিছু ইনপুটস পাওয়া গেল, যা পরবর্তীতে আমাদের খুব কাজে এসেছিল।
এর মাঝে একদিন চাঁদনি গিয়ে দিল্লি মানালি ভলভো বাসের টিকিট কেটে আনলাম। আর তারপরের দিন শ্রীনগর থেকে রিটার্ন ফ্লাইটের টিকিট ও। তো এই মতো দাঁড়ালো, কোলকাতা টু মানালি কমিউনিকেশন ঢুকে, আবার ফেরার সময় শ্রীনগর টু কোলকাতা বুকড। এইবার মধ্যবর্তী পথের সমস্ত গাড়ি বা বাস জেনে নিতে হবে। হোটেল বুকিং নিয়ে কখনো ভাবিনি, এটা আমার বেড়িয়ে বেড়িয়ে শিক্ষা যে পকেটে টাকা থাকলে, হোটেল পাওয়া যাবেই।
কোলকাতাতে যে বাঙালী প্রতিষ্ঠান লাদাখের সবচেয়ে বড়ো কার এজেন্ট, তাদের সাথে কথা বললাম। আমাদের মানালি থেকে পিক আপ করে সমগ্র লাদাখ ( সোমোরিরি বাদে) ঘুরিয়ে শ্রীনগর ছাড়বে ভায়া কার্গিল, ইনোভাতে, ৮৪০০০ টাকা দর দিলো। এবার লেহর বেশ কিছু বড়ো এজেন্ট কে ফোন আর মেইল করলাম। এক আইটিনেরি, দাম কমে দাঁড়ালো ৭০০০০ টাকায়। ঠিক করলাম আর একটা কিচ্ছু বুক করবো না। পথে বেরিয়ে দেখা যাবে। এতোদূরে বসে যখন দাম কমেছে, তখন সশরীরে গিয়ে দেখা যাক। আর হোটেলের জন্য দৈনিক তিন হাজার করে ধরে রাখলাম। একটা বড়ো ঘর নেবো, তিনজন একসাথে থাকবো। যে কয়টি দিন আমরা রাতে ট্রাভেল না করে হোটেল নেওয়ার কথা, ধরা যাক প্রথম দিন দুই হাজারে ঘর পেলাম, তখন যে হাজার টাকা বাঁচলো, সেটা পরেরদিন যোগ করে রাখবো। এইভাবে যে বাজেট করলাম, বাকি দুজনেই সেই কথায় সায় দিলো। এতো বছর পরে লিখতে বসে, এটা ভেবে ভালো লাগছে যে, আমার পরিকল্পনা শুধু যে সাকসেসফুল ছিলো তাই না, সুপার ডুপার হিট হয়েছিল। কিভাবে? তা জানতে হলে পরবর্তী এপিসোড গুলির দিকে চোখ রাখুন।।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!